ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ অটুট রাখার আহ্বান সৌদি-আমিরাতের
- আপডেট সময় : ১১:১২:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ বহাল রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপসাগরীয় এই দুই দেশ মনে করছে, তেহরানকে নতুন একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য না করা পর্যন্ত এই অবরোধ শিথিল করা উচিত নয়। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সম্প্রতি মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে এমনটাই ব্যক্ত করেছেন। এই অবস্থান তাদের কয়েক মাস আগের নীতির তুলনায় একটি স্পষ্ট পরিবর্তন, কারণ গ্রীষ্মকালে সৌদি আরবসহ আরব দেশগুলো আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব মেনে নিয়ে সমঝোতার পথ খুঁজছিল।
তবে সৌদি জাহাজে ইরানের হামলা এবং হুতিদের লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টার ফলে সেই আস্থায় বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। ইউএই কর্মকর্তারাও এখন আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন। তাদের মতে, জাহাজ চলাচলে ক্রমাগত হামলা ও নতুন করে সহিংসতা প্রমাণ করে যে তেহরান কূটনীতিতে ফিরতে আগ্রহী নয়। উপসাগরীয় দেশগুলো হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের একক ও স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ মেনে নিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এদিকে কাতার ও ওমান ভিন্ন অবস্থান নিয়ে যুদ্ধের অবসান ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কাতার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে এই উদ্যোগ জোরদার করেছে। গত রোববার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দোহা সফরকালে সাত দিনের যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা কাতারকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা করছেন না। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কোনো তাড়া নেই।
ইরানের ভেতরেও আলোচনার বিরোধিতা বাড়ছে। তেহরানের কট্টরপন্থীরা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতির কথা বলছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ পোষণ করছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) নতুন আলোচনার কাঠামো প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জুন মাসে হওয়া প্রাথমিক চুক্তির কাছাকাছি একটি সমঝোতা চায়, যার মধ্যে তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও আটকে থাকা সম্পদ ফেরত পাওয়ার শর্ত রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা ওই পুরনো চুক্তিতে ফিরে যাবে না এবং অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমেই তেহরানকে অনুকূল শর্ত মানতে বাধ্য করবে।





























