ঢাকা ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায়ের পর আজমুলের মৃত্যুতে গ্রেফতার ১ বার্লিন বিমানবন্দরে ড্রোন দেখা যাওয়ায় ফ্লাইট চলাচল বন্ধ সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন ক্লিনিক স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা গোলান মালভূমি সিরিয়ারই থাকবে, জাতিসংঘে আল-শারার ঘোষণা ভোলায় এনসিপির কমিটি ঘোষণার পরপরই সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ এফবিআইয়ের হাজারো কর্মকর্তার সংবেদনশীল তথ্য চুরির দাবি হ্যাকারদের তেলুগু তারকা নানির ক্যারিয়ার, সম্পদ ও আসন্ন সিনেমার গল্প জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন সৌন্দর্যের ভেতর ইতিহাসের শরীর: হেগেল ও মার্কসের নন্দনতত্ত্বের তুলনামূলক পাঠ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই প্রতিহত করা হবে: এস এম জিলানী

সৌদির কাছে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:০৭:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সৌদি আরবের কাছে ২৪.৩ বিলিয়ন ডলারে ৪৮টি এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে সৌদি আরব এই যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিল। ওয়াশিংটনে অবস্থিত সৌদি দূতাবাস এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি দুই দেশের সম্পর্কের শক্তি ও দীর্ঘস্থায়ী প্রকৃতির প্রতিফলন। দূতাবাসের মতে, এই নিরাপত্তা সহযোগিতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং যৌথ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্যমতে, এই প্রস্তাবিত বিক্রয় সৌদি আরবের নিজ ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে শক্তিশালী করবে এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ হুমকি মোকাবিলায় দেশটির প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে। এর ফলে সৌদি ও মার্কিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার সক্ষমতাও উন্নত হবে। এছাড়া এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবের আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে স্থলে লক্ষ্যবস্তুভেদী আত্মরক্ষার সক্ষমতা আরও জোরদার হবে।

তবে এই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। যুদ্ধবিমানগুলো সরবরাহের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই বিক্রয় মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে কোনো পরিবর্তন আনবে না এবং ইসরাইলকে সামরিকভাবে এগিয়ে রাখার মার্কিন নীতির সঙ্গে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। বর্তমানে ইসরাইলই মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র দেশ যারা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে এবং তারা এই বিক্রয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

এই চুক্তির বিরোধিতা করেছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের গোয়েন্দা কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, সৌদি আরবের সঙ্গে চীনের অংশীদারত্বের কারণে এফ-৩৫-এর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তি বেইজিংয়ের নাগালের মধ্যে চলে যেতে পারে। মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মধ্যেও একই ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

চলতি বছর ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে এই অস্ত্র চুক্তিটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। হুথিরা সৌদি আরবের লোহিত সাগরের জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই সংঘাতের অংশ নয়, তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক পরিকল্পনায় সহায়তা করতে একটি টাস্কফোর্স কাজ করছে।

সম্প্রতি সৌদি আরবের কাছে বড় ধরনের অস্ত্র বিক্রির বেশ কয়েকটি অনুমোদন দিয়েছে ওয়াশিংটন। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরের শুরুতে ৫ বিলিয়ন ডলারে ১০ হাজারের বেশি বোমা, চলতি মাসে ৭৫০ মিলিয়ন ডলারে ৬০টি ট্যাংকের ইঞ্জিন ও সরঞ্জাম এবং জুলাই মাসে ১.৯৬ বিলিয়ন ডলারে রকেট গাইডেন্স সেকশন বিক্রির অনুমোদন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

সৌদির কাছে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় : ০১:০৭:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবের কাছে ২৪.৩ বিলিয়ন ডলারে ৪৮টি এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে সৌদি আরব এই যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিল। ওয়াশিংটনে অবস্থিত সৌদি দূতাবাস এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি দুই দেশের সম্পর্কের শক্তি ও দীর্ঘস্থায়ী প্রকৃতির প্রতিফলন। দূতাবাসের মতে, এই নিরাপত্তা সহযোগিতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং যৌথ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্যমতে, এই প্রস্তাবিত বিক্রয় সৌদি আরবের নিজ ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে শক্তিশালী করবে এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ হুমকি মোকাবিলায় দেশটির প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে। এর ফলে সৌদি ও মার্কিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ করার সক্ষমতাও উন্নত হবে। এছাড়া এই চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবের আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে স্থলে লক্ষ্যবস্তুভেদী আত্মরক্ষার সক্ষমতা আরও জোরদার হবে।

তবে এই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য মার্কিন কংগ্রেসের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে। যুদ্ধবিমানগুলো সরবরাহের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই বিক্রয় মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে কোনো পরিবর্তন আনবে না এবং ইসরাইলকে সামরিকভাবে এগিয়ে রাখার মার্কিন নীতির সঙ্গে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। বর্তমানে ইসরাইলই মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র দেশ যারা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে এবং তারা এই বিক্রয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

এই চুক্তির বিরোধিতা করেছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের গোয়েন্দা কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, সৌদি আরবের সঙ্গে চীনের অংশীদারত্বের কারণে এফ-৩৫-এর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তি বেইজিংয়ের নাগালের মধ্যে চলে যেতে পারে। মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মধ্যেও একই ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

চলতি বছর ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে এই অস্ত্র চুক্তিটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। হুথিরা সৌদি আরবের লোহিত সাগরের জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই সংঘাতের অংশ নয়, তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য ও সামরিক পরিকল্পনায় সহায়তা করতে একটি টাস্কফোর্স কাজ করছে।

সম্প্রতি সৌদি আরবের কাছে বড় ধরনের অস্ত্র বিক্রির বেশ কয়েকটি অনুমোদন দিয়েছে ওয়াশিংটন। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরের শুরুতে ৫ বিলিয়ন ডলারে ১০ হাজারের বেশি বোমা, চলতি মাসে ৭৫০ মিলিয়ন ডলারে ৬০টি ট্যাংকের ইঞ্জিন ও সরঞ্জাম এবং জুলাই মাসে ১.৯৬ বিলিয়ন ডলারে রকেট গাইডেন্স সেকশন বিক্রির অনুমোদন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin