ঢাকা ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কাউকে ভয় পেতে আসিনি, আসিয়ান কাপ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হামজা চৌধুরী ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি বেসিস নির্বাচন সামনে রেখে ৭ সদস্যের সহায়ক কমিটি গঠন স্টারলিংককে টেক্কা দিতে মহাকাশে অ্যামাজনের নতুন দৌড় নির্যাতন করে স্বীকারোক্তি আদায়ের পর আজমুলের মৃত্যুতে গ্রেফতার ১ বার্লিন বিমানবন্দরে ড্রোন দেখা যাওয়ায় ফ্লাইট চলাচল বন্ধ সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন ক্লিনিক স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা গোলান মালভূমি সিরিয়ারই থাকবে, জাতিসংঘে আল-শারার ঘোষণা ভোলায় এনসিপির কমিটি ঘোষণার পরপরই সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ এফবিআইয়ের হাজারো কর্মকর্তার সংবেদনশীল তথ্য চুরির দাবি হ্যাকারদের

বেতন বেড়ে ৩৪ কোটি টাকা হচ্ছে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:২২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সিঙ্গাপুরের নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী দেশটির প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়ংয়ের বার্ষিক বেতন প্রায় ৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ২৮ লাখ মার্কিন ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৪ কোটি ৪০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা) দাঁড়াচ্ছে। বর্তমানে তিনি বার্ষিক ১৭ লাখ মার্কিন ডলার বেতন পান। গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দেশটির পার্লামেন্টে মন্ত্রীদের বেতন বাড়ানোর এই ঘোষণা দেওয়া হয়। দীর্ঘ ১৫ বছর পর ধনী এই নগররাষ্ট্রে মন্ত্রীদের বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, যা নিয়ে দেশটিতে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক ও সমালোচনা।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া রাজনীতিবিদদের তালিকায় সিঙ্গাপুরের মন্ত্রীরা অন্যতম। বর্তমানে লরেন্স ওয়ং যে বেতন পান, তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারি বেতনের চেয়েও চার গুণের বেশি। তা সত্ত্বেও সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর বার্ষিক বেতন আরও ১০ লাখ ডলার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী ওয়ং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বেতন বৃদ্ধির ফলে আগামী পাঁচ বছরে তিনি যে অতিরিক্ত অর্থ পাবেন, তা দাতব্য কাজে দান করে দেবেন।

পার্লামেন্টে এই বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়ং বলেন, সরকারি চাকরিতে মেধাবীদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যেই এই বেতন সমন্বয় করা প্রয়োজন ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেসরকারি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের পারিশ্রমিকের ব্যবধান অনেক বেড়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ওয়ংয়ের বার্ষিক বেতন প্যাকেজ ২২ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার (১৭ লাখ মার্কিন ডলার) থেকে বেড়ে ৩৬ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার (২৮ লাখ মার্কিন ডলার) হবে। এছাড়া অন্য মন্ত্রীদের বেতনও সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হবে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছে যে রাজনীতিবিদদের উচ্চ বেতন দুর্নীতি দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিবেশী দেশগুলোতে দুর্নীতির মাত্রা বেশি হলেও সিঙ্গাপুরে তা অত্যন্ত কম। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৫ সালের দুর্নীতি ধারণা সূচকে (সিপিআই) সিঙ্গাপুরের অবস্থান ছিল তৃতীয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ছিল ২৯তম। তবে এই উচ্চ বেতনকাঠামো নিয়েও দেশটিতে সমালোচনা কম নয়। গত বছর সিঙ্গাপুরের অর্ধেক মানুষের মাসিক আয় ছিল ৫ হাজার ৫৭৫ সিঙ্গাপুরি ডলার (প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার)। ফলে মন্ত্রীদের এই বিপুল বেতন বৃদ্ধি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে。

সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আইনের সহযোগী অধ্যাপক ইউজিন তান এ প্রসঙ্গে বলেন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও প্রযুক্তির কারণে কর্মক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের এই সময়ে বেতন বাড়ানোর এমন ঘোষণা অনেকের কাছে রাজনীতিবিদদের জনবিচ্ছিন্ন বা নিজেদের স্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্ত বলে মনে হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, অধিকাংশ সিঙ্গাপুরবাসী জানেন যে মন্ত্রীরা বেসরকারি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের চেয়ে কম বেতন পান, তবুও তাদের নেতারা এত বেশি বেতন পাচ্ছেন—বিষয়টি তারা সহজে মেনে নিতে পারেন না।

বেতন বৃদ্ধির আগেও লরেন্স ওয়ং বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া রাজনীতিবিদ ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যেখানে কর কাটার আগে বছরে ৪ লাখ ডলার পান এবং বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া নেতা হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি পান ৭ লাখ ১৯ হাজার ডলার, সেখানে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হওয়ার আগেই ওয়ংয়ের বেতন এই দুজনের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। এই বেতন বৃদ্ধিকে একটি ‘কঠিন ও সংবেদনশীল বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করে ওয়ং বলেন, রাজনৈতিকভাবে কঠিন হলেও একে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। মূল প্রশ্ন হলো, দেশকে এগিয়ে নিতে এবং জনগণকে সেবা দিতে যে মানের নেতৃত্ব প্রয়োজন, সিঙ্গাপুর তা ধরে রাখতে পারবে কি না।

সিঙ্গাপুরে ১৯৫৯ সাল থেকে একটানা ক্ষমতায় রয়েছে লরেন্স ওয়ংয়ের দল পিপলস অ্যাকশন পার্টি (পিএপি)। দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করার জন্য দলটির প্রশংসা করা হলেও ভিন্নমত দমনের জন্য সমালোচনাও রয়েছে। এর আগে ২০১১ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় ও আয়বৈষম্য নিয়ে অসন্তোষের জেরে মন্ত্রীদের বেতন কমানো হয়েছিল। সে সময় সাধারণ নির্বাচনে পিএপি তাদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন ভোট পেয়েছিল। এবার মন্ত্রীদের বেতন বাড়ানো হয়েছে একটি স্বাধীন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে, যারা সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ১ হাজার আয়কারীর আয়কে মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করেছে। তবে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জা ইয়ান চং এই মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, এত অল্পসংখ্যক ধনী মানুষের আয়ের সঙ্গে রাজনীতিকদের বেতন যুক্ত করার ফলে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি সমাজের সবচেয়ে ধনী অংশের সঙ্গে আরও বেশি জড়িয়ে যেতে পারে।

সিঙ্গাপুরে সরকারি চাকরিতে দুর্নীতির ঘটনা বিরল হলেও এই ব্যবস্থা পুরোপুরি নিখুঁত নয় বলে মনে করেন চং। উদাহরণ হিসেবে ২০২৪ সালে সাবেক পরিবহনমন্ত্রী এস ঈশ্বরনকে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনাটি উল্লেখ করা যায়, যিনি পদে থাকাকালে তিন লাখ ডলারের বেশি মূল্যের উপহার ও সুবিধা নেওয়ার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। চংয়ের মতে, বেশি বেতনের লোভ থাকলে রাজনীতিতে জনসেবা করার আসল উদ্দেশ্যটাই দুর্বল হয়ে পড়ে, অথচ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নেতাদের জন্য জনসেবাই প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

গত বছর দেশটির অর্ধেক মানুষের মাসিক আয় ছিল ৫ হাজার ৭৭৫ সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার (প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার)।সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আইনের সহযোগী অধ্যাপক ইউজিন তান বলেন, ‘অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তির কারণে বড় ধরনের পরিবর্তনের এই সময়ে বেতন বাড়ানোর ঘোষণা অনেকের কাছে রাজনীতিবিদদের জনবিচ্ছিন্ন বা নিজেদের স্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্ত বলেও মনে হতে পারে।’তানের মতে, বেশির ভাগ সিঙ্গাপুরবাসী জানেন যে মন্ত্রীরা বেসরকারি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের তুলনায় কম বেতন পান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

বেতন বেড়ে ৩৪ কোটি টাকা হচ্ছে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ১১:২২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিঙ্গাপুরের নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী দেশটির প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়ংয়ের বার্ষিক বেতন প্রায় ৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ২৮ লাখ মার্কিন ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৪ কোটি ৪০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা) দাঁড়াচ্ছে। বর্তমানে তিনি বার্ষিক ১৭ লাখ মার্কিন ডলার বেতন পান। গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দেশটির পার্লামেন্টে মন্ত্রীদের বেতন বাড়ানোর এই ঘোষণা দেওয়া হয়। দীর্ঘ ১৫ বছর পর ধনী এই নগররাষ্ট্রে মন্ত্রীদের বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, যা নিয়ে দেশটিতে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক ও সমালোচনা।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া রাজনীতিবিদদের তালিকায় সিঙ্গাপুরের মন্ত্রীরা অন্যতম। বর্তমানে লরেন্স ওয়ং যে বেতন পান, তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারি বেতনের চেয়েও চার গুণের বেশি। তা সত্ত্বেও সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর বার্ষিক বেতন আরও ১০ লাখ ডলার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী ওয়ং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বেতন বৃদ্ধির ফলে আগামী পাঁচ বছরে তিনি যে অতিরিক্ত অর্থ পাবেন, তা দাতব্য কাজে দান করে দেবেন।

পার্লামেন্টে এই বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়ং বলেন, সরকারি চাকরিতে মেধাবীদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যেই এই বেতন সমন্বয় করা প্রয়োজন ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেসরকারি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের পারিশ্রমিকের ব্যবধান অনেক বেড়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ওয়ংয়ের বার্ষিক বেতন প্যাকেজ ২২ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার (১৭ লাখ মার্কিন ডলার) থেকে বেড়ে ৩৬ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার (২৮ লাখ মার্কিন ডলার) হবে। এছাড়া অন্য মন্ত্রীদের বেতনও সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হবে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তি দিয়ে আসছে যে রাজনীতিবিদদের উচ্চ বেতন দুর্নীতি দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিবেশী দেশগুলোতে দুর্নীতির মাত্রা বেশি হলেও সিঙ্গাপুরে তা অত্যন্ত কম। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ২০২৫ সালের দুর্নীতি ধারণা সূচকে (সিপিআই) সিঙ্গাপুরের অবস্থান ছিল তৃতীয়, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ছিল ২৯তম। তবে এই উচ্চ বেতনকাঠামো নিয়েও দেশটিতে সমালোচনা কম নয়। গত বছর সিঙ্গাপুরের অর্ধেক মানুষের মাসিক আয় ছিল ৫ হাজার ৫৭৫ সিঙ্গাপুরি ডলার (প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার)। ফলে মন্ত্রীদের এই বিপুল বেতন বৃদ্ধি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে。

সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আইনের সহযোগী অধ্যাপক ইউজিন তান এ প্রসঙ্গে বলেন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও প্রযুক্তির কারণে কর্মক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের এই সময়ে বেতন বাড়ানোর এমন ঘোষণা অনেকের কাছে রাজনীতিবিদদের জনবিচ্ছিন্ন বা নিজেদের স্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্ত বলে মনে হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, অধিকাংশ সিঙ্গাপুরবাসী জানেন যে মন্ত্রীরা বেসরকারি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের চেয়ে কম বেতন পান, তবুও তাদের নেতারা এত বেশি বেতন পাচ্ছেন—বিষয়টি তারা সহজে মেনে নিতে পারেন না।

বেতন বৃদ্ধির আগেও লরেন্স ওয়ং বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া রাজনীতিবিদ ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যেখানে কর কাটার আগে বছরে ৪ লাখ ডলার পান এবং বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া নেতা হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী জন লি পান ৭ লাখ ১৯ হাজার ডলার, সেখানে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হওয়ার আগেই ওয়ংয়ের বেতন এই দুজনের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। এই বেতন বৃদ্ধিকে একটি ‘কঠিন ও সংবেদনশীল বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করে ওয়ং বলেন, রাজনৈতিকভাবে কঠিন হলেও একে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। মূল প্রশ্ন হলো, দেশকে এগিয়ে নিতে এবং জনগণকে সেবা দিতে যে মানের নেতৃত্ব প্রয়োজন, সিঙ্গাপুর তা ধরে রাখতে পারবে কি না।

সিঙ্গাপুরে ১৯৫৯ সাল থেকে একটানা ক্ষমতায় রয়েছে লরেন্স ওয়ংয়ের দল পিপলস অ্যাকশন পার্টি (পিএপি)। দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করার জন্য দলটির প্রশংসা করা হলেও ভিন্নমত দমনের জন্য সমালোচনাও রয়েছে। এর আগে ২০১১ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় ও আয়বৈষম্য নিয়ে অসন্তোষের জেরে মন্ত্রীদের বেতন কমানো হয়েছিল। সে সময় সাধারণ নির্বাচনে পিএপি তাদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন ভোট পেয়েছিল। এবার মন্ত্রীদের বেতন বাড়ানো হয়েছে একটি স্বাধীন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে, যারা সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ১ হাজার আয়কারীর আয়কে মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করেছে। তবে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জা ইয়ান চং এই মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, এত অল্পসংখ্যক ধনী মানুষের আয়ের সঙ্গে রাজনীতিকদের বেতন যুক্ত করার ফলে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি সমাজের সবচেয়ে ধনী অংশের সঙ্গে আরও বেশি জড়িয়ে যেতে পারে।

সিঙ্গাপুরে সরকারি চাকরিতে দুর্নীতির ঘটনা বিরল হলেও এই ব্যবস্থা পুরোপুরি নিখুঁত নয় বলে মনে করেন চং। উদাহরণ হিসেবে ২০২৪ সালে সাবেক পরিবহনমন্ত্রী এস ঈশ্বরনকে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনাটি উল্লেখ করা যায়, যিনি পদে থাকাকালে তিন লাখ ডলারের বেশি মূল্যের উপহার ও সুবিধা নেওয়ার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। চংয়ের মতে, বেশি বেতনের লোভ থাকলে রাজনীতিতে জনসেবা করার আসল উদ্দেশ্যটাই দুর্বল হয়ে পড়ে, অথচ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নেতাদের জন্য জনসেবাই প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

গত বছর দেশটির অর্ধেক মানুষের মাসিক আয় ছিল ৫ হাজার ৭৭৫ সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার (প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার)।সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আইনের সহযোগী অধ্যাপক ইউজিন তান বলেন, ‘অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তির কারণে বড় ধরনের পরিবর্তনের এই সময়ে বেতন বাড়ানোর ঘোষণা অনেকের কাছে রাজনীতিবিদদের জনবিচ্ছিন্ন বা নিজেদের স্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্ত বলেও মনে হতে পারে।’তানের মতে, বেশির ভাগ সিঙ্গাপুরবাসী জানেন যে মন্ত্রীরা বেসরকারি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের তুলনায় কম বেতন পান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo