জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, হরমুজে ১০ জাহাজে আঘাত
- আপডেট সময় : ১২:২৭:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তেজনা নতুন চূড়ায় পৌঁছেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ১০টি জাহাজে আঘাত হেনেছে তেহরান। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, তারা ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করেছে। প্রায় এক মাস শান্ত থাকার পর এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে।
আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির একটি ‘নিষিদ্ধ ও অনিরাপদ’ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করায় তারা ১০টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এগুলোর মধ্যে ২টি মার্কিন জাহাজ এবং ৮টি তেলবাহী ট্যাংকার রয়েছে। ইরানের এই ধারাবাহিক হামলার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহন পথটিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে। গত এক সপ্তাহে এই রুটে জাহাজ চলাচল ২৮ শতাংশ কমে গেছে এবং মাত্র ৭৭টি জাহাজ চলাচল করেছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, গত দুই দিনে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে তেহরানের দুবার হামলার জবাবে তারা ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। সেন্টকমের তথ্যমতে, ওমান উপসাগরে আইআরজিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি ইরানি ট্যাংকার এবং পারস্য উপসাগরীয় উপকূলের অদূরে অবস্থিত খারগ দ্বীপের কাছে আরেকটি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়। খারগ দ্বীপে ইরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা রয়েছে, যার মাধ্যমে দেশটির মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ রপ্তানি করা হয়। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, এই ট্যাংকারগুলো আইআরজিসি এবং তাদের আঞ্চলিক সহযোগী গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করা একটি বহু বিলিয়ন ডলারের গোপন নেটওয়ার্কের অংশ ছিল।
মার্কিন হামলার জবাবে জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরান থেকে ছোঁড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টিই তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে। বাকি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন সাত মাসে গড়িয়েছে। এই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে ইরান। এর আগে গত জুলাইয়ে জর্ডানে চালানো এক হামলায় অন্তত দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেন।
এদিকে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর এশিয়ার বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৯৯ দশমিক ৪১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৫৫ ডলারে উঠেছে। ইরান ইতিমধ্যে আরও বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরগুলোর কাছে অবস্থান করা মার্কিন-সংশ্লিষ্ট তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর নাবিকদের অবিলম্বে জাহাজ ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই পাল্টাপাল্টি হামলা প্রসঙ্গে কলম্বিয়া সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পরিস্থিতিকে ‘বেশ সরল’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আর তারা যতবারই এমন করবে, ততবারই তাদের তেলবাহী ট্যাংকার হারাতে হবে। এর আগে ইরান দাবি করেছিল, তারা হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি চালকবিহীন সাবমেরিন ড্রোন জব্দ করেছে। তবে সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, পানির নিচে থাকা ওই ড্রোনটি একদিন আগেই বিকল হয়ে গিয়েছিল। এটি একটি পুরোনো মডেলের ড্রোন ছিল এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য বা গোপনীয় সরঞ্জাম ছিল না।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। হুতিদের পক্ষ থেকে আরামকোসহ সৌদির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনার পর হুতিদের কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।



























