ঢাকা ০৬:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা পেতে আলোচনা চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএমএলে ১২টি ভাষা শেখার সুযোগ ৩৬ বছর বয়সে না ফেরার দেশে জিম্বাবুয়ের আম্পায়ার সারাহ বিএনপিকেও শেখ হাসিনার ভূতে ধরেছে: মামুনুল হক মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্স নিয়ে শঙ্কা নোয়াখালীতে খুঁটিতে বেঁধে যুবককে পিটিয়ে হত্যার ভিডিও ভাইরাল তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নন-কটন পণ্যের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ কারাবাস ও বিরতি কাটিয়ে অভিনয়ে ফিরলেন অভিনেতা জাহের আলভী পটিয়ায় দুই ইউনিয়নের রশি টানাটানিতে ৩০ পরিবারের চরম দুর্ভোগ আটঘরিয়ায় দেড় লাখ তালের বীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

নেপালে বন্যায় নিখোঁজ হাজারো মানুষ, হাসপাতালে দেয়ালে দেয়ালে স্বজনদের আর্তি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালের দেয়ালগুলো এখন নিখোঁজ মানুষের ছবিতে ছেয়ে গেছে। হিমবাহধসের প্রলয়ংকরী ঢলে পুরো গ্রাম ভেসে যাওয়ার পর চার দিন পেরিয়ে গেলেও স্বজনদের খোঁজে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরছেন হাজারো মানুষ। রোগীদের তালিকায় পরিচিত নাম খোঁজা, পুলিশ ডেস্কে নাম নথিভুক্ত করা আর হাসপাতালের দেয়ালে দেয়ালে প্রিয়জনের ছবি সাঁটিয়ে আকুল আবেদন জানাচ্ছেন তাঁরা—কেউ কি দেখেছেন এই মানুষটিকে?

নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছেছে। নেপালে এ পর্যন্ত অন্তত ৬৭৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। দুর্গম বহু এলাকায় যোগাযোগের সব পথ বন্ধ থাকায় কেবল সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারই একমাত্র ভরসা। কাদার নিচে কত মানুষ চাপা পড়ে আছেন, তা উদ্ধারকারীরাও নিশ্চিত করতে পারছেন না। এদিকে চিতওয়ান শহরের মর্গগুলো লাশ সংরক্ষণে হিমশিম খাচ্ছে, যার কারণে অস্থায়ী ভবন তৈরি করতে হয়েছে। প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়া কিছু লাশ এমনকি প্রতিবেশী ভারতের সীমানা থেকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলীয় রাসুয়া জেলার জায়দাদা গ্রামটি ঢলের পানিতে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। সেখান থেকে নিখোঁজ হয়েছেন ইয়াভরাজ লামার বোন, তাঁর স্বামী ও দুই সন্তান। হাসপাতালের দেয়ালে এক বছর বয়সী ভাগনে সিজান তাওয়াং ও ১২ বছরের সাহিলের ছবি লাগাতে গিয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলেন না লামা। তিনি বলেন, আমরা এতটাই বিধ্বস্ত যে বলার ভাষা নেই। আমাদের প্রধান লক্ষ্য এখন ছোট্ট সিজানকে খুঁজে বের করা। কিন্তু পুরো গ্রামটাই যেখানে হাওয়া হয়ে গেছে, সেখানে তাদের কেউ বেঁচে আছে এমন আশা করা কঠিন।

হাসপাতালের অন্য একটি দেয়ালে ৩০ বছর বয়সী স্বামী বিশাল নেপালির ছবি সাঁটানোর সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন ২২ বছরের মনিতা নেপালি। মাত্র ছয় মাস আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। পেশায় চালক বিশাল কাজের সূত্রে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে যেতেন। দুর্যোগের ঠিক এক ঘণ্টা আগে রাসুয়ায় সকালে হাঁটতে বের হয়ে স্ত্রীর সঙ্গে শেষ কথা বলেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় আবার ফোন করার কথা থাকলেও তারপর থেকে তাঁর ফোন বন্ধ। চার দিন পেরিয়ে গেলেও মনিতা আশা ছাড়েননি, তাঁর বিশ্বাস স্বামী ঠিকই ফিরে আসবেন।

রাসুয়ার একটি গ্রামে বাস করা নিজের পরিবারের ১২ জন সদস্যের নিখোঁজ ছবি নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন ৩৬ বছর বয়সী তুলমায়া তামাং। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছে তাঁর পাঁচ মাস বয়সী ভাতিজিও। চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাওয়া তুলমায়া বলেন, স্বজনদের জীবিত পাওয়ার আশা এখন ফিকে হয়ে আসছে। আমরা যদি অন্তত তাদের মৃতদেহগুলো পেতাম, তাহলেও শান্তি পেতাম। তা না হলে এই দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণা কখনো শেষ হবে না।

নিখোঁজদের একটি বড় অংশ হিমালয়ের উঁচুতে ত্রিশূলী নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিক। কাদার স্রোতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এসব প্রকল্পের অন্তত ৯০০ শ্রমিক এখনও নিখোঁজ, যাদের মধ্যে ৬৩ জন ভারতীয় নাগরিক। গত ২৮ আগস্টের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, নেপালি সেনারা ত্রিশূলী-১ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে কাদা ভেদ করে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ত্রিশূলী-১ ও ত্রিশূলী-৩ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে এখনও শতাধিক মানুষ আটকা পড়ে আছেন। এই প্রকল্পেরই রাতের শিফট শেষে ঘুমানোর সময় নিখোঁজ হন ২৪ বছর বয়সী সুজন নেপালি। তাঁর বোন সুশিশা মালুওয়ার কাঠমান্ডুর ট্রমা সেন্টারে প্রতিদিন ভাইয়ের নাম খুঁজছেন এবং দেয়ালে ছবি সাঁটাচ্ছেন। চার দিন পরও আশা না হারিয়ে সুশিশা বলেন, আমরা আশা হারাইনি। হয়তো কোথাও তাঁকে খুঁজে পাব। হয়তো তিনি বেঁচে আছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

নেপালে বন্যায় নিখোঁজ হাজারো মানুষ, হাসপাতালে দেয়ালে দেয়ালে স্বজনদের আর্তি

আপডেট সময় : ০৪:৩৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় টিচিং হাসপাতালের দেয়ালগুলো এখন নিখোঁজ মানুষের ছবিতে ছেয়ে গেছে। হিমবাহধসের প্রলয়ংকরী ঢলে পুরো গ্রাম ভেসে যাওয়ার পর চার দিন পেরিয়ে গেলেও স্বজনদের খোঁজে হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরছেন হাজারো মানুষ। রোগীদের তালিকায় পরিচিত নাম খোঁজা, পুলিশ ডেস্কে নাম নথিভুক্ত করা আর হাসপাতালের দেয়ালে দেয়ালে প্রিয়জনের ছবি সাঁটিয়ে আকুল আবেদন জানাচ্ছেন তাঁরা—কেউ কি দেখেছেন এই মানুষটিকে?

নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে গতকাল শনিবার সকাল পর্যন্ত নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছেছে। নেপালে এ পর্যন্ত অন্তত ৬৭৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। দুর্গম বহু এলাকায় যোগাযোগের সব পথ বন্ধ থাকায় কেবল সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারই একমাত্র ভরসা। কাদার নিচে কত মানুষ চাপা পড়ে আছেন, তা উদ্ধারকারীরাও নিশ্চিত করতে পারছেন না। এদিকে চিতওয়ান শহরের মর্গগুলো লাশ সংরক্ষণে হিমশিম খাচ্ছে, যার কারণে অস্থায়ী ভবন তৈরি করতে হয়েছে। প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়া কিছু লাশ এমনকি প্রতিবেশী ভারতের সীমানা থেকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলীয় রাসুয়া জেলার জায়দাদা গ্রামটি ঢলের পানিতে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। সেখান থেকে নিখোঁজ হয়েছেন ইয়াভরাজ লামার বোন, তাঁর স্বামী ও দুই সন্তান। হাসপাতালের দেয়ালে এক বছর বয়সী ভাগনে সিজান তাওয়াং ও ১২ বছরের সাহিলের ছবি লাগাতে গিয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারছিলেন না লামা। তিনি বলেন, আমরা এতটাই বিধ্বস্ত যে বলার ভাষা নেই। আমাদের প্রধান লক্ষ্য এখন ছোট্ট সিজানকে খুঁজে বের করা। কিন্তু পুরো গ্রামটাই যেখানে হাওয়া হয়ে গেছে, সেখানে তাদের কেউ বেঁচে আছে এমন আশা করা কঠিন।

হাসপাতালের অন্য একটি দেয়ালে ৩০ বছর বয়সী স্বামী বিশাল নেপালির ছবি সাঁটানোর সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন ২২ বছরের মনিতা নেপালি। মাত্র ছয় মাস আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। পেশায় চালক বিশাল কাজের সূত্রে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে যেতেন। দুর্যোগের ঠিক এক ঘণ্টা আগে রাসুয়ায় সকালে হাঁটতে বের হয়ে স্ত্রীর সঙ্গে শেষ কথা বলেছিলেন তিনি। সন্ধ্যায় আবার ফোন করার কথা থাকলেও তারপর থেকে তাঁর ফোন বন্ধ। চার দিন পেরিয়ে গেলেও মনিতা আশা ছাড়েননি, তাঁর বিশ্বাস স্বামী ঠিকই ফিরে আসবেন।

রাসুয়ার একটি গ্রামে বাস করা নিজের পরিবারের ১২ জন সদস্যের নিখোঁজ ছবি নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন ৩৬ বছর বয়সী তুলমায়া তামাং। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছে তাঁর পাঁচ মাস বয়সী ভাতিজিও। চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাওয়া তুলমায়া বলেন, স্বজনদের জীবিত পাওয়ার আশা এখন ফিকে হয়ে আসছে। আমরা যদি অন্তত তাদের মৃতদেহগুলো পেতাম, তাহলেও শান্তি পেতাম। তা না হলে এই দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণা কখনো শেষ হবে না।

নিখোঁজদের একটি বড় অংশ হিমালয়ের উঁচুতে ত্রিশূলী নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের শ্রমিক। কাদার স্রোতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এসব প্রকল্পের অন্তত ৯০০ শ্রমিক এখনও নিখোঁজ, যাদের মধ্যে ৬৩ জন ভারতীয় নাগরিক। গত ২৮ আগস্টের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, নেপালি সেনারা ত্রিশূলী-১ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে কাদা ভেদ করে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ত্রিশূলী-১ ও ত্রিশূলী-৩ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে এখনও শতাধিক মানুষ আটকা পড়ে আছেন। এই প্রকল্পেরই রাতের শিফট শেষে ঘুমানোর সময় নিখোঁজ হন ২৪ বছর বয়সী সুজন নেপালি। তাঁর বোন সুশিশা মালুওয়ার কাঠমান্ডুর ট্রমা সেন্টারে প্রতিদিন ভাইয়ের নাম খুঁজছেন এবং দেয়ালে ছবি সাঁটাচ্ছেন। চার দিন পরও আশা না হারিয়ে সুশিশা বলেন, আমরা আশা হারাইনি। হয়তো কোথাও তাঁকে খুঁজে পাব। হয়তো তিনি বেঁচে আছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo