ঢাকা ১০:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মিরপুরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় ডা. শফিকুর রহমানের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভাতা বাড়ানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ম্যানেজার পুলিশ হেফাজতে কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ পর্যটকের মৃত্যু, তদন্ত কমিটি ফ্যামিলি কার্ড তালাক বন্ধ করেছে, দাবি চিফ হুইপের তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী নিহত সাংবাদিক আলিফের পরিবারের পাশে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: ঢাকেশ্বরী মন্দিরে মতবিনিময়ে রাষ্ট্রপতি সৌদি আরবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

পশ্চিম তীরে নতুন বসতি প্রকল্প: পশ্চিমাদের তীব্র নিন্দা ও সতর্কতা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:২৬:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অধিকৃত পশ্চিম তীরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় ১,২০০টি নতুন ইহুদি বসতি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বানের ইসরাইলি সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও কানাডা। দেশগুলো এই পদক্ষেপকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে পরিকল্পনাটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত বসতি সম্প্রসারণ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে আরও সংকুচিত করবে এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথকে কঠিন করে তুলবে।

এক যৌথ বিবৃতিতে পাঁচ দেশ জানায়, পশ্চিম তীরে সহিংসতা ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলা যখন নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং ফিলিস্তিনি অর্থনীতি নানা বিধিনিষেধের চাপে রয়েছে, তখন নতুন বসতি নির্মাণের এই সিদ্ধান্ত আরও উদ্বেগজনক। ইসরায়েলের পরিকল্পনাটি মূলত জেরুজালেমের পূর্বদিকে অবস্থিত ‘ই১’ এলাকায়। প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চলটি পূর্ব জেরুজালেম ও ইসরাইলি বসতি মালে আদুমিমের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক চাপের কারণে ইসরাইল এখানে বড় ধরনের বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে বিরত ছিল।

তবে বুধবার ইসরাইলের আবাসন মন্ত্রণালয় ৩,৪০১টি অনুমোদিত আবাসন ইউনিটের মধ্যে ১,২৩৪টির নির্মাণের জন্য দরপত্র প্রকাশ করে। এসব ইউনিট গত বছরের আগস্টে ইসরাইলি সরকার অনুমোদন দিয়েছিল। আগামী ১৯ অক্টোবর দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে। ফলে এর মধ্যে কোনো দরপত্র চূড়ান্ত হলে পরবর্তী সরকার চাইলেও তা বাতিল করা কঠিন হতে পারে।

‘ই১’ প্রকল্পের বিরোধীরা বলছেন, এর বাস্তবায়ন পশ্চিম তীরকে কার্যত উত্তর ও দক্ষিণ অংশে বিভক্ত করবে। একই সঙ্গে রামাল্লাহ, পূর্ব জেরুজালেম ও বেথলেহেমকে যুক্ত করে একটি ধারাবাহিক ফিলিস্তিনি নগরাঞ্চল গড়ে তোলার সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হবে। এতে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সংহতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিবও ‘ই১’ প্রকল্পকে একটি ধারাবাহিক ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য ‘অস্তিত্বের হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের সমালোচনার জবাবে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে ইসরাইলি বসতিগুলো অবৈধ—এমন অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘ ও অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর সেখানে প্রায় ১৬০টি বসতি গড়ে উঠেছে, যেখানে প্রায় সাত লাখ ইসরায়েলি ইহুদি বসবাস করছেন। একই ভূখণ্ডে প্রায় ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনির বসবাস। আন্তর্জাতিক বিরোধিতা সত্ত্বেও ধারাবাহিক ইসরাইলি সরকারগুলো বসতি সম্প্রসারণ অনুমোদন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০২২ সালের শেষ দিকে ডানপন্থী ও বসতিপন্থী জোট নিয়ে ক্ষমতায় ফেরার পর এই সম্প্রসারণ আরও দ্রুত হয়েছে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে চলমান উদ্বেগের মধ্যেই ‘ই১’ প্রকল্প নতুন করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

পশ্চিম তীরে নতুন বসতি প্রকল্প: পশ্চিমাদের তীব্র নিন্দা ও সতর্কতা

আপডেট সময় : ০৯:২৬:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

অধিকৃত পশ্চিম তীরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় ১,২০০টি নতুন ইহুদি বসতি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বানের ইসরাইলি সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও কানাডা। দেশগুলো এই পদক্ষেপকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে পরিকল্পনাটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত বসতি সম্প্রসারণ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে আরও সংকুচিত করবে এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথকে কঠিন করে তুলবে।

এক যৌথ বিবৃতিতে পাঁচ দেশ জানায়, পশ্চিম তীরে সহিংসতা ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলা যখন নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং ফিলিস্তিনি অর্থনীতি নানা বিধিনিষেধের চাপে রয়েছে, তখন নতুন বসতি নির্মাণের এই সিদ্ধান্ত আরও উদ্বেগজনক। ইসরায়েলের পরিকল্পনাটি মূলত জেরুজালেমের পূর্বদিকে অবস্থিত ‘ই১’ এলাকায়। প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চলটি পূর্ব জেরুজালেম ও ইসরাইলি বসতি মালে আদুমিমের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক চাপের কারণে ইসরাইল এখানে বড় ধরনের বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে বিরত ছিল।

তবে বুধবার ইসরাইলের আবাসন মন্ত্রণালয় ৩,৪০১টি অনুমোদিত আবাসন ইউনিটের মধ্যে ১,২৩৪টির নির্মাণের জন্য দরপত্র প্রকাশ করে। এসব ইউনিট গত বছরের আগস্টে ইসরাইলি সরকার অনুমোদন দিয়েছিল। আগামী ১৯ অক্টোবর দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে। ফলে এর মধ্যে কোনো দরপত্র চূড়ান্ত হলে পরবর্তী সরকার চাইলেও তা বাতিল করা কঠিন হতে পারে।

‘ই১’ প্রকল্পের বিরোধীরা বলছেন, এর বাস্তবায়ন পশ্চিম তীরকে কার্যত উত্তর ও দক্ষিণ অংশে বিভক্ত করবে। একই সঙ্গে রামাল্লাহ, পূর্ব জেরুজালেম ও বেথলেহেমকে যুক্ত করে একটি ধারাবাহিক ফিলিস্তিনি নগরাঞ্চল গড়ে তোলার সম্ভাবনাও বাধাগ্রস্ত হবে। এতে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভৌগোলিক সংহতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিবও ‘ই১’ প্রকল্পকে একটি ধারাবাহিক ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য ‘অস্তিত্বের হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের সমালোচনার জবাবে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে ইসরাইলি বসতিগুলো অবৈধ—এমন অবস্থান দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘ ও অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের। ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর সেখানে প্রায় ১৬০টি বসতি গড়ে উঠেছে, যেখানে প্রায় সাত লাখ ইসরায়েলি ইহুদি বসবাস করছেন। একই ভূখণ্ডে প্রায় ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনির বসবাস। আন্তর্জাতিক বিরোধিতা সত্ত্বেও ধারাবাহিক ইসরাইলি সরকারগুলো বসতি সম্প্রসারণ অনুমোদন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০২২ সালের শেষ দিকে ডানপন্থী ও বসতিপন্থী জোট নিয়ে ক্ষমতায় ফেরার পর এই সম্প্রসারণ আরও দ্রুত হয়েছে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে চলমান উদ্বেগের মধ্যেই ‘ই১’ প্রকল্প নতুন করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin