ভারত-জাপান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি, কৌশলগত চাপে চীন
- আপডেট সময় : ০৫:২২:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার প্রেক্ষাপটে ভারত ও জাপান তাদের দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমির মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। দুই দেশ সমুদ্র নিরাপত্তা, নৌবাহিনীর যৌথ মহড়া, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে।
বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত ও জাপানের ‘বিশেষ কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারত্ব’ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি। এই সামরিক সহযোগিতা কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টিকেও অন্তর্ভুক্ত করছে। নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে দুই দেশ যুদ্ধজাহাজ পরিদর্শন, যৌথ মহড়া, নৌযানের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের পাশাপাশি সমুদ্রে মাইন শনাক্ত ও অপসারণের মতো বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করবে।
প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে জাপানের উন্নত প্রযুক্তি এবং ভারতের বৃহৎ উৎপাদন সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে যৌথ প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া উভয় দেশের স্পেশাল অপারেশনস ফোর্সের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং এআইভিত্তিক প্রতিরক্ষা গবেষণায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারতের ইন্টিগ্রেটেড থিয়েটার কমান্ড ব্যবস্থা চালুর পরও দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং পরমাণু প্রযুক্তি বিস্তারের অতীত ভূমিকার ঝুঁকি নিয়েও জাপানকে সতর্ক করেছে ভারত। নয়াদিল্লির আশঙ্কা, পাকিস্তানের হাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছালে তা অন্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে পাকিস্তানের পরমাণু বিজ্ঞানী এ কিউ খানের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পরমাণু প্রযুক্তি যোগাযোগের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করে ভারত জাপানকে এ বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। মোদি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ভারত-জাপানের এই অংশীদারত্ব ইন্দো-প্যাসিফিকসহ বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, ভারত ও জাপানের এই ঘনিষ্ঠতা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং চীনের সামরিক তৎপরতার মুখে বেইজিংয়ের জন্য একটি কৌশলগত বার্তা হিসেবে বিবেচিত হবে।
এদিকে জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন। সেখানে দুই দেশের ‘বিশেষ কৌশলগত ও বৈশ্বিক অংশীদারত্ব’ আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হয়। জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত ১৬তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকের কথাও স্মরণ করেন মোদি।

























