দিল্লিতে তালেবানের প্রথম প্রকাশ্য আয়োজন, অংশ নিল ভারত
- আপডেট সময় : ০৫:১৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রথমবারের মতো একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পাঁচ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে সোমবার এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই আয়োজন থেকে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর ও মজবুত করার বার্তা দিয়েছে তালেবান।
অনুষ্ঠানের মঞ্চে ভারত ও তালেবানের জাতীয় পতাকা পাশাপাশি প্রদর্শন করা হয়। সেখানে আফগানিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নূর আহমদ নূর তার দেশের পররাষ্ট্রনীতি এবং ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন। তিনি উল্লেখ করেন, আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি পারস্পরিক সম্মান, ভারসাম্যপূর্ণ যোগাযোগ এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্বাস বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করাই এখন তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
নূর আহমদ নূর বলেন, ভারত ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক শক্তিশালী হলে উভয় দেশই সুফল পাবে। এর ফলে পুরো অঞ্চলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার প্রসার ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে। আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে বাণিজ্য, জ্বালানি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তালেবান সরকারের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছিল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাকিস্তান-আফগানিস্তান-ইরান বিষয়ক বিভাগের যুগ্মসচিব আনন্দ প্রকাশ এই অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন। যদিও ভারত এখন পর্যন্ত তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সফরও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নূর আহমদ নূর তার বক্তব্যে দাবি করেন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক ক্ষেত্রে ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে একটি গঠনমূলক বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে। আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকিসহ বিভিন্ন মন্ত্রীদের ভারত সফরের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সফরে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া তিনি দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, কয়েক শতাব্দী ধরে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও যোগাযোগের মেলবন্ধন রয়েছে। কাবুল, হেরাত ও কান্দাহারের মতো আফগান শহরগুলোতে যেমন একসময় ভারতীয় ব্যবসায়ীদের আনাগোনা ছিল, তেমনি দিল্লি ও লাহোরেও আফগান পণ্ডিত, কবি ও সুফিদের গভীর প্রভাব ছিল। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ও দুই দেশের পারস্পরিক যোগাযোগ ছিল নিবিড়।
অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ভূমিকার প্রশংসা করেন নূর আহমদ নূর। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আফগানিস্তানের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ভারতের অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আফগানিস্তানের পক্ষে ভারত আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।
এই কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে ভুটান, ইরান, ইরিত্রিয়া, জ্যামাইকা, নাইজার, ফিলিস্তিন ও সার্বিয়ার রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া চীন, রাশিয়া, কাতার, ইরাক, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কূটনীতিকরাও অংশ নেন। তবে অনুষ্ঠানটিতে পশ্চিমা বা ইউরোপীয় দেশগুলোর কোনো কূটনীতিকের উপস্থিতি দেখা যায়নি।




























