আর্কটিক রুটে নতুন নৌবাণিজ্য পথ তৈরিতে এগোচ্ছে চীন
- আপডেট সময় : ০৩:০৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

বিশ্ববাণিজ্যের নতুন মানচিত্র তৈরির লক্ষ্যে রাশিয়ার উত্তর উপকূল ঘেঁষে আর্কটিক অঞ্চলের নর্দার্ন সি রুট ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে চীন। এই নতুন নৌপথটি ব্যবহার করে চীনা পণ্য ইউরোপে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা প্রচলিত সুয়েজ খালপথের তুলনায় যাত্রার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে পারে।
সম্প্রতি চীনা শিপিং কোম্পানি ‘সি লিজেন্ড’ নিয়মিত কনটেইনার জাহাজ চলাচলের কার্যক্রম শুরু করেছে। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চীনের নিংবো বন্দর থেকে রাশিয়ার উত্তরের জলপথ হয়ে যুক্তরাজ্যের ফেলিক্সস্টো বন্দরে পণ্যবাহী জাহাজ পৌঁছাবে। বিশ্লেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আর্কটিকের বরফ গলে যাওয়ায় এই পথটি এখন বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে প্রচলিত রুটের তুলনায় এই পথে পণ্য পরিবহনে সময় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসতে পারে।
চীনের জন্য এই রুটটি কেবল বাণিজ্যিক নয়, বরং কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কিংবা নিরাপত্তা সংকটের কারণে সুয়েজ খাল বা লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে আর্কটিক রুট একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এদিকে, রাশিয়াও এই রুটের ব্যবহার বাড়াতে তৎপর রয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকেই তারা এই পথ ব্যবহার করে এশিয়ায় তেল রপ্তানি কার্যক্রম জোরদার করেছে।
তবে এই নতুন নৌপথ চালুর ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও বিদ্যমান। আর্কটিকের আবহাওয়া অত্যন্ত প্রতিকূল এবং বছরের অধিকাংশ সময় সমুদ্র বরফে ঢাকা থাকে। তাই নিরাপদ নৌচলাচলের জন্য বিশেষায়িত জাহাজ, উন্নত নেভিগেশন প্রযুক্তি এবং শক্তিশালী উদ্ধার অবকাঠামো প্রয়োজন। পরিবেশবাদীরাও এই রুট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন; তাদের মতে, আর্কটিক অঞ্চলে জাহাজ চলাচল বাড়লে তা জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এসব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, চীনের ‘আর্কটিক সিল্ক রোড’ উদ্যোগকে বিশ্ববাণিজ্যের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের একটি বড় ধাপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১৪: ৫৩আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১৪: ৫৭
রাশিয়াও নর্দার্ন সি রুটের ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছে। চলতি বছর এ পথ দিয়ে এশিয়ায় রাশিয়ার তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের শুরু থেকেই রাশিয়া এ রুট ব্যবহার করে এশিয়ায় তেল পাঠানোর কার্যক্রম জোরদার করেছে।




























