ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারের ১৮০ দিনের কাজের মূল্যায়ন তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী ইরানের হুমকির মুখে গোপনে তুরস্ক ছাড়লেন ডোনাল্ড ট্রাম্প মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানি শুরু সাকিব ভালো খেলোয়াড়, তবে মানুষ হিসেবে নষ্ট: তথ্য উপদেষ্টা নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণ: চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবা মাইদুলেরও মৃত্যু চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারে দেড় কোটি টাকার বিদেশি সিগারেট জব্দ চার সন্তানকে বড় করা বাবার শেষ পরিণতি বৃদ্ধাশ্রমে, পাশে নেই কেউ চট্টগ্রামে বহুতল ভবনে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক, সন্দেহের তির রায়হানের দিকে শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে একটি মহল: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অ্যামচেম প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আজাদ কাশ্মীরে সংঘর্ষে ব্রিটিশ নাগরিক নিহত, আটক আরও ১

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৭:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় মোহাম্মদ আখতার নামে এক ব্রিটিশ নাগরিক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এছাড়া ওয়াকাস আরিফ নামে আরেক ব্রিটিশ নাগরিককে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় একটি কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে বলে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

নিহত মোহাম্মদ আখতারের বয়স ৫০ বছর। তিনি যুক্তরাজ্যের পিটারবরো শহরের বাসিন্দা ছিলেন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গত ৯ জুন কোটলি শহরে বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে তিনি নিহত হন। আখতারের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ সাদ জানিয়েছেন, আখতার নিজে কোনো বিক্ষোভে অংশ নেননি। তার বাড়ির কাছেই বিক্ষোভ চলছিল এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া একটি বিপথগামী গুলি সরাসরি তার বুকে এসে লাগে। তবে কাশ্মীরের পুলিশ বা ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ করতে সাহস পায়নি তার পরিবার। সাদ জানান, বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা বা হয়রানির আশঙ্কা ছিল।

এদিকে, পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তর (এফসিডিও)। ইসলামাবাদে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনারসহ এফসিডিওর মন্ত্রীরা পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় গত ৭ আগস্ট ব্রিটিশ সরকার তাদের ভ্রমণ নির্দেশনাও হালনাগাদ করেছে, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হ্যামিশ ফ্যালকনার গত ১৬ ও ১৭ জুন ইসলামাবাদ সফরের সময় কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। বর্তমান ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্টিফেন ডাউটিও এ বিষয়ে যোগাযোগ বজায় রাখছেন। তবে এ প্রসঙ্গে দ্য গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা লন্ডনে দেশটির হাইকমিশন কোনো মন্তব্য করেনি।

অন্যদিকে, নটিংহামের বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক ওয়াকাস আরিফ গত ৫ জুনের বিক্ষোভের পর মিরপুর শহর থেকে আটক হন। তার পরিবারও দাবি করেছে যে তিনি বিক্ষোভে অংশ নেননি। ওয়াকাসের বোন সুমেরা জানান, তার অন্য দুই ভাই বিক্ষোভে অংশ নিতে বাইরে গেলে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী ও রেঞ্জার্স তাদের বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালায় এবং ওয়াকাসসহ ভাইদের ধরে নিয়ে যায়। সুমেরার অভিযোগ, ওয়াকাসের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি এবং তাকে এখনো আদালতে হাজির করা হয়নি। বিক্ষোভের তীব্রতা কমাতে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে গণহারে আটক করছে বলে তিনি দাবি করেন।

ওয়াকাসের স্ত্রী ভারিশা কামপুলভি জানিয়েছেন, মিরপুর কারাগারে বন্দি থাকা তার স্বামীর সঙ্গে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ সরাসরি কোনো যোগাযোগ করতে পারেনি। এ নিয়ে গত ২৬ জুন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে তাকে পাঠানো একটি ইমেইলে জানানো হয়, কনস্যুলার কর্মকর্তারা কারাগার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারলেও সরাসরি ওয়াকাসের সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। তবে কারাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে ওয়াকাস সুস্থ আছেন।

উল্লেখ্য, পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে অর্থনৈতিক ও নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে সুশীল সমাজের সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)। অঞ্চলটিতে গত ২৭ জুলাই থেকে তিন ধাপে নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও চলমান সহিংসতার কারণে তা বারবার ব্যাহত হয়েছে। পাকিস্তান সরকার জেএএসিকে ইতিমধ্যে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং গত ৫ জুন থেকে ওই অঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে গত মাসে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠলেও পাকিস্তান সরকার তা অস্বীকার করেছে। জেএএসির দাবি, বন্দুকের নলের মুখে এই নির্বাচন একটি ‘প্রহসন’ এবং ভিন্নমত দমনে সাধারণ কাশ্মীরিদের আটক করা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

আজাদ কাশ্মীরে সংঘর্ষে ব্রিটিশ নাগরিক নিহত, আটক আরও ১

আপডেট সময় : ১২:২৭:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
print news

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় মোহাম্মদ আখতার নামে এক ব্রিটিশ নাগরিক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এছাড়া ওয়াকাস আরিফ নামে আরেক ব্রিটিশ নাগরিককে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় একটি কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে বলে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

নিহত মোহাম্মদ আখতারের বয়স ৫০ বছর। তিনি যুক্তরাজ্যের পিটারবরো শহরের বাসিন্দা ছিলেন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গত ৯ জুন কোটলি শহরে বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে তিনি নিহত হন। আখতারের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ সাদ জানিয়েছেন, আখতার নিজে কোনো বিক্ষোভে অংশ নেননি। তার বাড়ির কাছেই বিক্ষোভ চলছিল এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া একটি বিপথগামী গুলি সরাসরি তার বুকে এসে লাগে। তবে কাশ্মীরের পুলিশ বা ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ করতে সাহস পায়নি তার পরিবার। সাদ জানান, বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা বা হয়রানির আশঙ্কা ছিল।

এদিকে, পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তর (এফসিডিও)। ইসলামাবাদে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনারসহ এফসিডিওর মন্ত্রীরা পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় গত ৭ আগস্ট ব্রিটিশ সরকার তাদের ভ্রমণ নির্দেশনাও হালনাগাদ করেছে, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হ্যামিশ ফ্যালকনার গত ১৬ ও ১৭ জুন ইসলামাবাদ সফরের সময় কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। বর্তমান ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্টিফেন ডাউটিও এ বিষয়ে যোগাযোগ বজায় রাখছেন। তবে এ প্রসঙ্গে দ্য গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা লন্ডনে দেশটির হাইকমিশন কোনো মন্তব্য করেনি।

অন্যদিকে, নটিংহামের বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক ওয়াকাস আরিফ গত ৫ জুনের বিক্ষোভের পর মিরপুর শহর থেকে আটক হন। তার পরিবারও দাবি করেছে যে তিনি বিক্ষোভে অংশ নেননি। ওয়াকাসের বোন সুমেরা জানান, তার অন্য দুই ভাই বিক্ষোভে অংশ নিতে বাইরে গেলে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী ও রেঞ্জার্স তাদের বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালায় এবং ওয়াকাসসহ ভাইদের ধরে নিয়ে যায়। সুমেরার অভিযোগ, ওয়াকাসের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি এবং তাকে এখনো আদালতে হাজির করা হয়নি। বিক্ষোভের তীব্রতা কমাতে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে গণহারে আটক করছে বলে তিনি দাবি করেন।

ওয়াকাসের স্ত্রী ভারিশা কামপুলভি জানিয়েছেন, মিরপুর কারাগারে বন্দি থাকা তার স্বামীর সঙ্গে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ সরাসরি কোনো যোগাযোগ করতে পারেনি। এ নিয়ে গত ২৬ জুন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে তাকে পাঠানো একটি ইমেইলে জানানো হয়, কনস্যুলার কর্মকর্তারা কারাগার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারলেও সরাসরি ওয়াকাসের সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। তবে কারাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে ওয়াকাস সুস্থ আছেন।

উল্লেখ্য, পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে অর্থনৈতিক ও নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে সুশীল সমাজের সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)। অঞ্চলটিতে গত ২৭ জুলাই থেকে তিন ধাপে নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও চলমান সহিংসতার কারণে তা বারবার ব্যাহত হয়েছে। পাকিস্তান সরকার জেএএসিকে ইতিমধ্যে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং গত ৫ জুন থেকে ওই অঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে গত মাসে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠলেও পাকিস্তান সরকার তা অস্বীকার করেছে। জেএএসির দাবি, বন্দুকের নলের মুখে এই নির্বাচন একটি ‘প্রহসন’ এবং ভিন্নমত দমনে সাধারণ কাশ্মীরিদের আটক করা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy