ঢাকা ০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শর্ত না মানলে খুলবে না হরমুজ প্রণালি, জানাল আইআরজিসি ১৭ সেনা নিহতের পর হুথিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনি বাহিনীর পাল্টা অভিযান ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের ওপর হামলার জবাবে শিবিরকে প্রতিহত করেছি : নাছির রাজধানীর মহাখালীতে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল তরুণের হবিগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে কুপিয়ে যুবককে হত্যা বগুড়ায় ৪০০ একর জমিতে নতুন শিল্পপার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী নাসার মহাকাশ অভিযানে নেতৃত্বে বাংলাদেশি জ্যোতির্বিজ্ঞানী লামীয়া ঝিনাইদহে জেলা পরিষদ গোল্ডকাপ ফাইনাল: লাইফ ওয়ে ক্লাব ৩-০ গোলে চ্যাম্পিয়ন রামগতিতে অগ্নিকাণ্ডে ৮ দোকান ভস্মীভূত, ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি

মক্কা চুক্তি সৌদিকে প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে পারবে না, দাবি ইরানের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের সদ্য স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছে ইরান। ইরানের পার্লামেন্ট সদস্য এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক কমিশনের সদস্য ইব্রাহিম রেজায়ী এই চুক্তিকে একটি ‘কাগুজে চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই চুক্তি সৌদি আরবকে কোনো প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে পারবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইব্রাহিম রেজায়ী উল্লেখ করেন, সৌদি আরব বছরের পর বছর ধরে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করেও যেভাবে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি, ঠিক তেমনি এই চুক্তিও তাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হবে। তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব যদি নিজেদের বর্তমান নীতিতে পরিবর্তন আনে, তবে অন্য কোনো দেশের কাছে নিরাপত্তার জন্য এভাবে ‘অনুরোধ’ করার প্রয়োজন পড়বে না।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ইসলামের পবিত্র শহর মক্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধ, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা সংকট এবং লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল বিঘ্নিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি করা হয়।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই চুক্তির মূল ধারাটি স্পষ্ট করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, চুক্তি সই করা তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা বাকি সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য। দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, ভ্রাতৃত্বের বন্ধন, ইসলামি সংহতি এবং অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে এই সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

মূলত ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজেদের প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব বাড়ানোর জোর চেষ্টা চালাচ্ছে সৌদি আরব। অতীতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও তেল স্থাপনাগুলো ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং ইরাকভিত্তিক মিলিশিয়াদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। এই নিরাপত্তা ঝুঁকির পটভূমিতেই তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন এই প্রতিরক্ষা চুক্তিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছিল রিয়াদ, যা এখন ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়ল।

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০১: ২০আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০১: ৪০

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

মক্কা চুক্তি সৌদিকে প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে পারবে না, দাবি ইরানের

আপডেট সময় : ০২:০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
print news

তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের সদ্য স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছে ইরান। ইরানের পার্লামেন্ট সদস্য এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক কমিশনের সদস্য ইব্রাহিম রেজায়ী এই চুক্তিকে একটি ‘কাগুজে চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই চুক্তি সৌদি আরবকে কোনো প্রকৃত নিরাপত্তা দিতে পারবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইব্রাহিম রেজায়ী উল্লেখ করেন, সৌদি আরব বছরের পর বছর ধরে একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করেও যেভাবে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি, ঠিক তেমনি এই চুক্তিও তাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হবে। তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব যদি নিজেদের বর্তমান নীতিতে পরিবর্তন আনে, তবে অন্য কোনো দেশের কাছে নিরাপত্তার জন্য এভাবে ‘অনুরোধ’ করার প্রয়োজন পড়বে না।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ইসলামের পবিত্র শহর মক্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধ, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা সংকট এবং লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল বিঘ্নিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি করা হয়।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই চুক্তির মূল ধারাটি স্পষ্ট করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, চুক্তি সই করা তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা বাকি সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য। দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, ভ্রাতৃত্বের বন্ধন, ইসলামি সংহতি এবং অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে এই সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

মূলত ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজেদের প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব বাড়ানোর জোর চেষ্টা চালাচ্ছে সৌদি আরব। অতীতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও তেল স্থাপনাগুলো ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং ইরাকভিত্তিক মিলিশিয়াদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। এই নিরাপত্তা ঝুঁকির পটভূমিতেই তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন এই প্রতিরক্ষা চুক্তিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছিল রিয়াদ, যা এখন ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়ল।

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০১: ২০আপডেট : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০১: ৪০

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh