ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রেসিডেন্ট বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল, কারণ জানাল রয়টার্স টেকসই উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান ববি হাজ্জাজের স্কুলে ঢুকে ছাত্রকে মারধর, ছাত্রদল সভাপতি আজীবন বহিষ্কার আফগানিস্তানের ১০টি লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানের বিমান ও ড্রোন হামলা দাউদকান্দি থানায় ১৭ কিশোরের পালানোর অভিযোগ, অস্বীকার পুলিশের বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করল বিমান বাংলাদেশ গ্রাম ও শহর: জীবনযাত্রার ভিন্নতা, শিশুদের স্বাস্থ্যে এগিয়ে গ্রাম উখিয়ায় বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি, দেড় লাখ ইয়াবা উদ্ধার আজ বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৪তম আত্মাহুতি দিবস

আল-আকসায় ইসরায়েলি হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় জরুরি বৈঠক ডাকল জর্দান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:২১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ‘আসন্ন ঝুঁকি’ এবং এর ফলে নতুন করে ধর্মীয় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আরব ও ইসলামিক বিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে জর্দান। চুক্তি অনুযায়ী এই প্রাঙ্গণটিতে কেবল মুসলিমদের প্রার্থনার অধিকার থাকলেও, সম্প্রতি কট্টর জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের নেতৃত্বে দুই হাজারের বেশি উগ্রপন্থি ইসরায়েলি সেখানে প্রবেশ করে ধর্মানুষ্ঠান সম্পন্ন করেছে। আম্মান এই ঘটনাকে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, আসন্ন সেপ্টেম্বরের ইহুদি ধর্মীয় উৎসব এবং অক্টোবরে ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উগ্রপন্থিরা ঐতিহ্যগত হাশেমাইট রাজতন্ত্রের অভিভাবকত্বকে আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। জর্দানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি সতর্ক করে বলেছেন, আল-আকসার স্থিতাবস্থা বিনষ্ট করা হলে তা পুরো মুসলিম বিশ্বে সংঘাত ছড়িয়ে দেবে।

আল-আকসার সুরক্ষার পাশাপাশি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের জাতিগত নিধন অভিযান এবং ফিলিস্তিনিদের জর্দানে ঠেলে দেওয়ার সম্ভাব্য চেষ্টা নিয়ে আম্মান চরম উদ্বিগ্ন। সাফাদি ফিলিস্তিনিদের এই গণবাস্তুচ্যুতিকে জর্দানের অখণ্ডতার জন্য একটি ‘রেড লাইন’ হিসেবে দেখছেন। দেশটির জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি ফিলিস্তিনি শরণার্থী হওয়ায়, নতুন করে শরণার্থী আগমন অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বিঘ্নিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর বাইরেও গাজা যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনার জবাবে ইসরায়েল জর্দানের পানি সরবরাহ চুক্তি অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছে, যা দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে জর্দান এই সংকট মোকাবিলায় তৎপর থাকলেও দেশের ভেতরেও সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপ প্রবল। গাজা যুদ্ধের প্রভাবে জর্দানে ইসরায়েলবিরোধী জনমত চরম রূপ নিয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে মার্কিন সৈন্যের উপস্থিতিতে ইরানের পাল্টা হামলায় জর্দানের ভূমি ব্যবহৃত হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এই বহুমুখী সীমান্ত সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতার মধ্যে আল-আকসার অভিভাবকত্ব রক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এখন আম্মানের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

আল-আকসায় ইসরায়েলি হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় জরুরি বৈঠক ডাকল জর্দান

আপডেট সময় : ০৬:২১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ‘আসন্ন ঝুঁকি’ এবং এর ফলে নতুন করে ধর্মীয় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আরব ও ইসলামিক বিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে জর্দান। চুক্তি অনুযায়ী এই প্রাঙ্গণটিতে কেবল মুসলিমদের প্রার্থনার অধিকার থাকলেও, সম্প্রতি কট্টর জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের নেতৃত্বে দুই হাজারের বেশি উগ্রপন্থি ইসরায়েলি সেখানে প্রবেশ করে ধর্মানুষ্ঠান সম্পন্ন করেছে। আম্মান এই ঘটনাকে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, আসন্ন সেপ্টেম্বরের ইহুদি ধর্মীয় উৎসব এবং অক্টোবরে ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উগ্রপন্থিরা ঐতিহ্যগত হাশেমাইট রাজতন্ত্রের অভিভাবকত্বকে আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। জর্দানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি সতর্ক করে বলেছেন, আল-আকসার স্থিতাবস্থা বিনষ্ট করা হলে তা পুরো মুসলিম বিশ্বে সংঘাত ছড়িয়ে দেবে।

আল-আকসার সুরক্ষার পাশাপাশি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের জাতিগত নিধন অভিযান এবং ফিলিস্তিনিদের জর্দানে ঠেলে দেওয়ার সম্ভাব্য চেষ্টা নিয়ে আম্মান চরম উদ্বিগ্ন। সাফাদি ফিলিস্তিনিদের এই গণবাস্তুচ্যুতিকে জর্দানের অখণ্ডতার জন্য একটি ‘রেড লাইন’ হিসেবে দেখছেন। দেশটির জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি ফিলিস্তিনি শরণার্থী হওয়ায়, নতুন করে শরণার্থী আগমন অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বিঘ্নিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর বাইরেও গাজা যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনার জবাবে ইসরায়েল জর্দানের পানি সরবরাহ চুক্তি অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছে, যা দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে জর্দান এই সংকট মোকাবিলায় তৎপর থাকলেও দেশের ভেতরেও সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপ প্রবল। গাজা যুদ্ধের প্রভাবে জর্দানে ইসরায়েলবিরোধী জনমত চরম রূপ নিয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে মার্কিন সৈন্যের উপস্থিতিতে ইরানের পাল্টা হামলায় জর্দানের ভূমি ব্যবহৃত হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এই বহুমুখী সীমান্ত সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতার মধ্যে আল-আকসার অভিভাবকত্ব রক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এখন আম্মানের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy