ঢাকা ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আরেকটি অনিবার্য বিপ্লব আসন্ন, প্রস্তুতির আহ্বান জামায়াত আমীরের যুক্তরাজ্যের চিভনিং স্কলারশিপ: ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদনের সুযোগ হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার খবরে বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মঞ্চে আসন পেলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস জড়তা কাটাতে শুটিংয়ের আগে গালিগালাজের অনুশীলন করেছিলেন দীপিকা দেশের প্রথম রাষ্ট্রীয় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল এক্সিট সম্পন্ন করল স্টার্টআপ বাংলাদেশ ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চান ট্রাম্প, ‘মানুষ হত্যা করতে চান না’ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকী আজ সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনই আনসার বাহিনীর প্রধান কর্তব্য: ডিজি গ্যাস সংকটে লোকসানের মুখে সিএনজি স্টেশন, চাকরি হারানোর শঙ্কায় কর্মীরা

আল-আকসায় ইসরায়েলি হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় জরুরি বৈঠক ডাকল জর্দান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ‘আসন্ন ঝুঁকি’ এবং এর ফলে নতুন করে ধর্মীয় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আরব ও ইসলামিক বিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে জর্দান। চুক্তি অনুযায়ী এই প্রাঙ্গণটিতে কেবল মুসলিমদের প্রার্থনার অধিকার থাকলেও, সম্প্রতি কট্টর জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের নেতৃত্বে দুই হাজারের বেশি উগ্রপন্থি ইসরায়েলি সেখানে প্রবেশ করে ধর্মানুষ্ঠান সম্পন্ন করেছে। আম্মান এই ঘটনাকে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, আসন্ন সেপ্টেম্বরের ইহুদি ধর্মীয় উৎসব এবং অক্টোবরে ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উগ্রপন্থিরা ঐতিহ্যগত হাশেমাইট রাজতন্ত্রের অভিভাবকত্বকে আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। জর্দানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি সতর্ক করে বলেছেন, আল-আকসার স্থিতাবস্থা বিনষ্ট করা হলে তা পুরো মুসলিম বিশ্বে সংঘাত ছড়িয়ে দেবে।

আল-আকসার সুরক্ষার পাশাপাশি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের জাতিগত নিধন অভিযান এবং ফিলিস্তিনিদের জর্দানে ঠেলে দেওয়ার সম্ভাব্য চেষ্টা নিয়ে আম্মান চরম উদ্বিগ্ন। সাফাদি ফিলিস্তিনিদের এই গণবাস্তুচ্যুতিকে জর্দানের অখণ্ডতার জন্য একটি ‘রেড লাইন’ হিসেবে দেখছেন। দেশটির জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি ফিলিস্তিনি শরণার্থী হওয়ায়, নতুন করে শরণার্থী আগমন অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বিঘ্নিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর বাইরেও গাজা যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনার জবাবে ইসরায়েল জর্দানের পানি সরবরাহ চুক্তি অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছে, যা দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে জর্দান এই সংকট মোকাবিলায় তৎপর থাকলেও দেশের ভেতরেও সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপ প্রবল। গাজা যুদ্ধের প্রভাবে জর্দানে ইসরায়েলবিরোধী জনমত চরম রূপ নিয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে মার্কিন সৈন্যের উপস্থিতিতে ইরানের পাল্টা হামলায় জর্দানের ভূমি ব্যবহৃত হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এই বহুমুখী সীমান্ত সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতার মধ্যে আল-আকসার অভিভাবকত্ব রক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এখন আম্মানের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

আল-আকসায় ইসরায়েলি হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় জরুরি বৈঠক ডাকল জর্দান

আপডেট সময় : ০৬:২১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
print news

আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ‘আসন্ন ঝুঁকি’ এবং এর ফলে নতুন করে ধর্মীয় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আরব ও ইসলামিক বিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে জর্দান। চুক্তি অনুযায়ী এই প্রাঙ্গণটিতে কেবল মুসলিমদের প্রার্থনার অধিকার থাকলেও, সম্প্রতি কট্টর জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের নেতৃত্বে দুই হাজারের বেশি উগ্রপন্থি ইসরায়েলি সেখানে প্রবেশ করে ধর্মানুষ্ঠান সম্পন্ন করেছে। আম্মান এই ঘটনাকে আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, আসন্ন সেপ্টেম্বরের ইহুদি ধর্মীয় উৎসব এবং অক্টোবরে ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উগ্রপন্থিরা ঐতিহ্যগত হাশেমাইট রাজতন্ত্রের অভিভাবকত্বকে আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। জর্দানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি সতর্ক করে বলেছেন, আল-আকসার স্থিতাবস্থা বিনষ্ট করা হলে তা পুরো মুসলিম বিশ্বে সংঘাত ছড়িয়ে দেবে।

আল-আকসার সুরক্ষার পাশাপাশি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের জাতিগত নিধন অভিযান এবং ফিলিস্তিনিদের জর্দানে ঠেলে দেওয়ার সম্ভাব্য চেষ্টা নিয়ে আম্মান চরম উদ্বিগ্ন। সাফাদি ফিলিস্তিনিদের এই গণবাস্তুচ্যুতিকে জর্দানের অখণ্ডতার জন্য একটি ‘রেড লাইন’ হিসেবে দেখছেন। দেশটির জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি ফিলিস্তিনি শরণার্থী হওয়ায়, নতুন করে শরণার্থী আগমন অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বিঘ্নিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এর বাইরেও গাজা যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনার জবাবে ইসরায়েল জর্দানের পানি সরবরাহ চুক্তি অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছে, যা দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে জর্দান এই সংকট মোকাবিলায় তৎপর থাকলেও দেশের ভেতরেও সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপ প্রবল। গাজা যুদ্ধের প্রভাবে জর্দানে ইসরায়েলবিরোধী জনমত চরম রূপ নিয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে মার্কিন সৈন্যের উপস্থিতিতে ইরানের পাল্টা হামলায় জর্দানের ভূমি ব্যবহৃত হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এই বহুমুখী সীমান্ত সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতার মধ্যে আল-আকসার অভিভাবকত্ব রক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এখন আম্মানের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy