ঢাকা ০১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কুমিল্লার পাড়া-মহল্লায় বেপরোয়া কিশোর গ্যাং, টিকটকের আড়ালে খুন ও অস্ত্রের মহড়া পরীক্ষা ছাড়াই ইসলামী ব্যাংকে সাড়ে ৮ হাজার নিয়োগ, নেপথ্যে এস আলমের ‘বিশেষ বাক্স’ দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দুকধারীদের গুলিতে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ১১ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাস ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করল সরকার সার চাইতে গিয়ে ৮ দিন জেল খাটলেন কুড়িগ্রামের দুই কৃষক ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ পাহাড়তলী সাব-রেজিস্ট্রার ও দুই কর্মচারী আটক সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে আসছে ‘দ্য ব্যাটম্যান পার্ট টু’ কৃষি মন্ত্রণালয়ে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ‘আমলনামা’ পর্যালোচনা শুরু এশিয়ান গেমস কাবাডিতে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ মুকসুদপুরে বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত

আফগানিস্তানে তীব্র হচ্ছে শিশুর অপুষ্টি, সহায়তার অভাবে ধুঁকছে লাখো শিশু

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আন্তর্জাতিক সহায়তার চরম ঘাটতির মুখে দাঁড়িয়ে আফগানিস্তানে শিশুর অপুষ্টি পরিস্থিতি বর্তমানে এক আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে জানিয়েছে যে, প্রয়োজনীয় অর্থায়নের তীব্র সংকটের কারণে তারা মারাত্মক অপুষ্টিতে আক্রান্ত প্রতি সাতজন মা ও শিশুর মধ্যে মাত্র একজনকে সহায়তা প্রদান করতে পারছে। এর ফলে ৮৫ শতাংশেরও বেশি ভুক্তভোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে খালি হাতে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।

সংস্থাটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের মোট প্রদেশের এক-তৃতীয়াংশেই শিশুদের শারীরিক ক্ষয় বা ‘ওয়েস্টিং’ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায় পৌঁছেছে। অপুষ্টির এই প্রাণঘাতী রূপটিতে আক্রান্ত শিশুদের উচ্চতার তুলনায় ওজন মারাত্মকভাবে কমে যায়, যা মূলত পর্যাপ্ত খাবারের অভাব বা অসুস্থতার কারণে ঘটে। এই সংকটজনক পরিস্থিতির ৮০ শতাংশই দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ঘটছে। তাদের অনেকেই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে আসা হচ্ছে, যার ফলে অনেক ক্ষেত্রে তাদের বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

দেশটির এই নাজুক পরিস্থিতির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণকে মূল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সীমান্ত বাণিজ্য ব্যাহত হওয়া এবং গত তিন বছরে প্রতিবেশীদের বহিষ্কার নীতির কারণে প্রায় ৬০ লাখ আফগান নাগরিকের দেশে ফিরে আসা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যাপকভাবে ছাঁটাই করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ চরম খাদ্য সংকটের কবলে পড়েছেন। যদিও চলতি মৌসুমে ফসলের ফলন ভালো হয়েছে, তবুও শরণার্থী আগমন ও মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের দুর্গতি কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় দাতা দেশগুলোর তহবিল কাটছাঁটের ফলে ডব্লিউএফপি চরম দুর্গত এলাকাগুলোতে দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধের খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিও স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে তীব্র হচ্ছে শিশুর অপুষ্টি, সহায়তার অভাবে ধুঁকছে লাখো শিশু

আপডেট সময় : ০৫:০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক সহায়তার চরম ঘাটতির মুখে দাঁড়িয়ে আফগানিস্তানে শিশুর অপুষ্টি পরিস্থিতি বর্তমানে এক আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে জানিয়েছে যে, প্রয়োজনীয় অর্থায়নের তীব্র সংকটের কারণে তারা মারাত্মক অপুষ্টিতে আক্রান্ত প্রতি সাতজন মা ও শিশুর মধ্যে মাত্র একজনকে সহায়তা প্রদান করতে পারছে। এর ফলে ৮৫ শতাংশেরও বেশি ভুক্তভোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে খালি হাতে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।

সংস্থাটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের মোট প্রদেশের এক-তৃতীয়াংশেই শিশুদের শারীরিক ক্ষয় বা ‘ওয়েস্টিং’ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায় পৌঁছেছে। অপুষ্টির এই প্রাণঘাতী রূপটিতে আক্রান্ত শিশুদের উচ্চতার তুলনায় ওজন মারাত্মকভাবে কমে যায়, যা মূলত পর্যাপ্ত খাবারের অভাব বা অসুস্থতার কারণে ঘটে। এই সংকটজনক পরিস্থিতির ৮০ শতাংশই দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ঘটছে। তাদের অনেকেই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে আসা হচ্ছে, যার ফলে অনেক ক্ষেত্রে তাদের বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

দেশটির এই নাজুক পরিস্থিতির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণকে মূল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সীমান্ত বাণিজ্য ব্যাহত হওয়া এবং গত তিন বছরে প্রতিবেশীদের বহিষ্কার নীতির কারণে প্রায় ৬০ লাখ আফগান নাগরিকের দেশে ফিরে আসা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যাপকভাবে ছাঁটাই করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ চরম খাদ্য সংকটের কবলে পড়েছেন। যদিও চলতি মৌসুমে ফসলের ফলন ভালো হয়েছে, তবুও শরণার্থী আগমন ও মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের দুর্গতি কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় দাতা দেশগুলোর তহবিল কাটছাঁটের ফলে ডব্লিউএফপি চরম দুর্গত এলাকাগুলোতে দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধের খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিও স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy