গাজায় নিরস্ত্রীকরণে হামাসের নীতিগত সম্মতি, শিগগিরই আসছে ঘোষণা

- আপডেট সময় : ০৯:১৮:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস গাজায় পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ পরিকল্পনায় নীতিগতভাবে সম্মতি জানিয়েছে। সংগঠনটির একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, এ বিষয়ে খুব দ্রুতই একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। বিবিসির হাতে আসা খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, এতে হামাসের অস্ত্র সমর্পণের বিভিন্ন ধাপ, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি এবং পুরো প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নের বিস্তারিত রূপরেখা রয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতার কথা ঘোষণা করেন। ট্রাম্পের মতে, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসন গঠনের পথ সুগম করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করবে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, হামাসসহ গাজায় সক্রিয় সব সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণে ‘বোর্ড অব পিস’ একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছেছে, যা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপিকে হামাসের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, এই চুক্তিতে সংগঠনের অস্ত্রের বিষয়টির পাশাপাশি গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে সরে যাওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হামাসের এক জ্যেষ্ঠ নেতা নিশ্চিত করেছেন যে, অস্ত্র সংক্রান্ত বিষয়ে সমঝোতা হওয়ার পাশাপাশি গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারের বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছে। তবে এই বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াটি কয়েকটি সুপরিকল্পিত ধাপে সম্পন্ন হবে। পুরো কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর ইসরায়েল তাদের সেনা গাজা থেকে প্রত্যাহার করবে। এরপর একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী নবগঠিত ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে গাজার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখা মিশর, কাতার ও তুরস্ককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই হামাসের নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম বড় অচলাবস্থার কারণ ছিল।
গত অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ বৃহস্পতিবারও ইসরায়েলি হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজন শিশু রয়েছে। এরই মধ্যে গাজা যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা করতে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর একটি বৈঠক শিগগিরই কায়রোতে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে মিশরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-কাহেরা। নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ না করা হলেও এই বৈঠকে যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে, যেখানে অংশ নেবে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও তুরস্ক।























