ঢাকা ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সময়ের প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন হতে পারে: আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বিশ্বকাপে এক মিনিটও খেলার সুযোগ পাননি যে দুর্ভাগা ফুটবলাররা অবৈধ সম্পদ অর্জন: ফরিদপুরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের স্ত্রীর ৩ বছরের জেল লোহিত সাগরে সৌদি ট্যাংকারে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়ল ভোটার তালিকা সংশোধনে ১৫৪ কর্মকর্তা নিয়োগ দিল নির্বাচন কমিশন নেক আমলের পার্থিব ৫ পুরস্কার ও কল্যাণ দিল্লির রাজনীতিতে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ লোহিত সাগরে সৌদির দুই জাহাজে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এপস্টেইনের সহযোগী মডেল স্কাউট ড্যানিয়েল সিয়াদের রহস্যজনক মৃত্যু

এপস্টেইনের সহযোগী মডেল স্কাউট ড্যানিয়েল সিয়াদের রহস্যজনক মৃত্যু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৫:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের অন্যতম সহযোগী ও মডেল সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত স্কাউট ড্যানিয়েল সিয়াদের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ফ্রান্সের প্যারিসের কাছে নিজ বাড়ি থেকে ৬৯ বছর বয়সী এই মডেল স্কাউটের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে ফরাসি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দি গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। মানব পাচার, ধর্ষণসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে ফ্রান্সে বিশেষ প্রসিকিউটরদের তদন্তের আওতায় ছিলেন তিনি। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলের ১ হাজারেরও বেশি নথিতে সিয়াদের নাম উঠে আসে।

ফরাসি তদন্তকারীদের মুখোমুখি হওয়ার আগেই গত সোমবার সন্ধ্যায় নিজের বাড়ি থেকে সিয়াদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ইতিমধ্যে ময়নাতদন্তসহ আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। সিয়াদ তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন এবং তদন্তকারীদের কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার অপেক্ষায় ছিলেন। এপস্টেইনের হয়ে নারী পাচার ও নির্যাতনে সহযোগিতা করার অভিযোগে অভিযুক্ত ফরাসি পুরুষদের মধ্যে তিনি অন্যতম।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মডেল খুঁজে বের করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন সিয়াদ। পূর্ব ইউরোপের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে কিউবা ও সুইডেন পর্যন্ত ঘুরে বেড়াতেন তিনি। মূলত মডেলিংয়ের আড়ালে এপস্টেইনের জন্য উপযুক্ত নারীদের সন্ধান করাই ছিল তার কাজ। ২০১৪ সালে এপস্টেইনকে পাঠানো এক ইমেইলে নিজের কাজকে মাছ ধরার সঙ্গে তুলনা করে সিয়াদ লিখেছিলেন, 'এই ব্যস্ততায় মাঝে মাঝে নিজেকে মাছ শিকারি মনে হয়; কখনো দ্রুত ধরা পড়ে, আবার কখনো কোনো মাছই পাওয়া যায় না।' এপস্টেইনের মৃত্যুর কয়েক মাস পূর্ব পর্যন্ত তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে কারাগারে আত্মহত্যা করা জাঁ-লুক ব্রুনেলের জন্যও কমিশনভিত্তিক স্কাউট হিসেবে কাজ করতেন সিয়াদ। উল্লেখ্য, জেফরি এপস্টেইন ২০১৯ সালে কারাগারে মারা যান।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক ইমেইল বিবৃতিতে সিয়াদ দাবি করেছিলেন, তিনি কেবল প্যারিসে বৈধ মডেল কাস্টিংয়ের জন্যই নারীদের পাঠাতেন। এপস্টেইনের বড় অ্যাপার্টমেন্টে আয়োজিত সেই কাস্টিংগুলো মাত্র ১০ মিনিটের মতো চলত এবং তিনি নিজেই মডেলদের নিয়ে সেখান থেকে চলে আসতেন। তবে সাবেক সুইডিশ মডেল এবা কার্লসন সিয়াদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন। কার্লসনের দাবি, ১৯৯০ সালে স্টকহোমে সিয়াদ তাকে স্কাউট করেন এবং পরবর্তীতে ফ্রান্সে নিয়ে ধর্ষণ করেন। সিয়াদের মৃত্যুর খবর শুনে কার্লসন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, 'এটি অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি গ্রেপ্তারের খুব কাছাকাছি ছিলেন। আমরা ন্যায়বিচারের জন্য দীর্ঘ লড়াই করেছি।'

মৃত্যুর আগে ফ্রান্স টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিয়াদ দাবি করেন, এপস্টেইন তার বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েছিলেন এবং তিনি জানতেন না যে এপস্টেইন এতটা বিপজ্জনক ছিলেন। তিনি দাবি করেন, কোনো নাবালক বা নির্যাতনের শিকার হওয়া প্রাপ্তব্যস্ক ব্যক্তিকে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেননি। ডিওজে ফাইল অনুযায়ী, ২০১৬ সালেই এফবিআই সিয়াদের এসব সন্দেহজনক কার্যক্রমের তথ্য পেয়েছিল। পরবর্তীতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফরাসি প্রসিকিউটররা এপস্টেইন ফাইল পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট দল গঠন করেন।

এ বছরের শুরুতে প্রকাশিত ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের এপস্টাইন ফাইলের ১,০০০-এর বেশি নথিতে তার নাম উল্লেখ রয়েছে।সিয়াদ এপস্টাইনকে নারী ট্রাফিকিং ও নির্যাতনে সাহায্য করার অভিযোগে অভিযুক্ত কয়েকজন ফরাসি পুরুষের মধ্যে একজন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

এপস্টেইনের সহযোগী মডেল স্কাউট ড্যানিয়েল সিয়াদের রহস্যজনক মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৭:৫৫:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
print news

যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের অন্যতম সহযোগী ও মডেল সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত স্কাউট ড্যানিয়েল সিয়াদের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ফ্রান্সের প্যারিসের কাছে নিজ বাড়ি থেকে ৬৯ বছর বয়সী এই মডেল স্কাউটের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে ফরাসি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দি গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। মানব পাচার, ধর্ষণসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে ফ্রান্সে বিশেষ প্রসিকিউটরদের তদন্তের আওতায় ছিলেন তিনি। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে) প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলের ১ হাজারেরও বেশি নথিতে সিয়াদের নাম উঠে আসে।

ফরাসি তদন্তকারীদের মুখোমুখি হওয়ার আগেই গত সোমবার সন্ধ্যায় নিজের বাড়ি থেকে সিয়াদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ইতিমধ্যে ময়নাতদন্তসহ আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। সিয়াদ তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন এবং তদন্তকারীদের কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার অপেক্ষায় ছিলেন। এপস্টেইনের হয়ে নারী পাচার ও নির্যাতনে সহযোগিতা করার অভিযোগে অভিযুক্ত ফরাসি পুরুষদের মধ্যে তিনি অন্যতম।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মডেল খুঁজে বের করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন সিয়াদ। পূর্ব ইউরোপের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে কিউবা ও সুইডেন পর্যন্ত ঘুরে বেড়াতেন তিনি। মূলত মডেলিংয়ের আড়ালে এপস্টেইনের জন্য উপযুক্ত নারীদের সন্ধান করাই ছিল তার কাজ। ২০১৪ সালে এপস্টেইনকে পাঠানো এক ইমেইলে নিজের কাজকে মাছ ধরার সঙ্গে তুলনা করে সিয়াদ লিখেছিলেন, 'এই ব্যস্ততায় মাঝে মাঝে নিজেকে মাছ শিকারি মনে হয়; কখনো দ্রুত ধরা পড়ে, আবার কখনো কোনো মাছই পাওয়া যায় না।' এপস্টেইনের মৃত্যুর কয়েক মাস পূর্ব পর্যন্ত তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে কারাগারে আত্মহত্যা করা জাঁ-লুক ব্রুনেলের জন্যও কমিশনভিত্তিক স্কাউট হিসেবে কাজ করতেন সিয়াদ। উল্লেখ্য, জেফরি এপস্টেইন ২০১৯ সালে কারাগারে মারা যান।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক ইমেইল বিবৃতিতে সিয়াদ দাবি করেছিলেন, তিনি কেবল প্যারিসে বৈধ মডেল কাস্টিংয়ের জন্যই নারীদের পাঠাতেন। এপস্টেইনের বড় অ্যাপার্টমেন্টে আয়োজিত সেই কাস্টিংগুলো মাত্র ১০ মিনিটের মতো চলত এবং তিনি নিজেই মডেলদের নিয়ে সেখান থেকে চলে আসতেন। তবে সাবেক সুইডিশ মডেল এবা কার্লসন সিয়াদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন। কার্লসনের দাবি, ১৯৯০ সালে স্টকহোমে সিয়াদ তাকে স্কাউট করেন এবং পরবর্তীতে ফ্রান্সে নিয়ে ধর্ষণ করেন। সিয়াদের মৃত্যুর খবর শুনে কার্লসন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, 'এটি অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি গ্রেপ্তারের খুব কাছাকাছি ছিলেন। আমরা ন্যায়বিচারের জন্য দীর্ঘ লড়াই করেছি।'

মৃত্যুর আগে ফ্রান্স টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিয়াদ দাবি করেন, এপস্টেইন তার বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েছিলেন এবং তিনি জানতেন না যে এপস্টেইন এতটা বিপজ্জনক ছিলেন। তিনি দাবি করেন, কোনো নাবালক বা নির্যাতনের শিকার হওয়া প্রাপ্তব্যস্ক ব্যক্তিকে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেননি। ডিওজে ফাইল অনুযায়ী, ২০১৬ সালেই এফবিআই সিয়াদের এসব সন্দেহজনক কার্যক্রমের তথ্য পেয়েছিল। পরবর্তীতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফরাসি প্রসিকিউটররা এপস্টেইন ফাইল পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেট দল গঠন করেন।

এ বছরের শুরুতে প্রকাশিত ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের এপস্টাইন ফাইলের ১,০০০-এর বেশি নথিতে তার নাম উল্লেখ রয়েছে।সিয়াদ এপস্টাইনকে নারী ট্রাফিকিং ও নির্যাতনে সাহায্য করার অভিযোগে অভিযুক্ত কয়েকজন ফরাসি পুরুষের মধ্যে একজন।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy