ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ চসিক মেয়রের
- আপডেট সময় : ০৩:৩৯:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি কর্পোরেশনের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, বরং এর জন্য নগরবাসীর সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সচেতনতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর ২২ নম্বর এনায়েত বাজার ওয়ার্ডে চসিক আয়োজিত মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। কর্মসূচি চলাকালে মেয়র নিজে রাণীর দিঘী পরিষ্কার কার্যক্রমে অংশ নেন এবং স্থানীয় জনগণের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এডিস মশা কোনো দল-মত কিংবা শ্রেণি-পেশা দেখে কামড়ায় না। তাই ডেঙ্গুর হাত থেকে বাঁচতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। চসিকের পক্ষ থেকে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সকালে লার্ভিসাইড এবং বিকেলে এডাল্টিসাইড স্প্রে করা হচ্ছে। তবে জনগণ সচেতন না হলে শুধু সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে ডেঙ্গু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন কাজ।
চট্টগ্রামকে একটি নান্দনিক ও পর্যটনবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মেয়র বলেন, শুধু বড় বড় স্থাপনা নির্মাণ করলেই হবে না, শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যবাহী দীঘিগুলোও সংরক্ষণ করতে হবে। নগরীর বিভিন্ন দীঘির পাড়ে জমে থাকা দীর্ঘদিনের মাটি ও আবর্জনা অপসারণ করে সেগুলোর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দীঘির চারপাশে হাঁটার পথ, আলোকসজ্জা, ডাস্টবিন ও বসার জন্য সিমেন্টের বেঞ্চ স্থাপন করে পরিবেশবান্ধব সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
নাগরিকদের যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, প্লাস্টিক ও পলিথিন ফেলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, অনেক সময় বহুতল ভবন থেকে সরাসরি জলাশয়ে বর্জ্য ফেলা হয়। এতে শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং মশার প্রজনন বাড়ে। প্লাস্টিকের পাত্র, ডাবের খোসা ও পলিথিনে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। তাই সবার উচিত নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমে আছে কি না তা নিয়মিত পরীক্ষা করা।
জ্বর হলে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ দিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সব জ্বরই ডেঙ্গু নয়। চিকুনগুনিয়া, টাইফয়েড, নিউমোনিয়া কিংবা প্রস্রাবের সংক্রমণের কারণেও জ্বর হতে পারে। তবে দুই-তিন দিন ধরে জ্বর থাকলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত। চসিক পরিচালিত মেমন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বিশেষ ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্ট সেল চালু করা হয়েছে, যেখানে বিনামূল্যে এনএস-১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড পরিদর্শন করে শিশু ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক ইউনিট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সবশেষে মেয়র বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সবাই নিজ নিজ কর্মস্থল ও বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখলে এবং সম্মিলিত উদ্যোগ নিলে চট্টগ্রামকে একটি স্বাস্থ্যকর, পরিচ্ছন্ন ও পর্যটনবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। মশক নিধন কার্যক্রম পরিদর্শনকালে মেয়রের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন এবং প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।





























