ডেঙ্গুর প্রকোপ: উত্তরের চেয়ে ঢাকা দক্ষিণে তিন গুণ বেশি মৃত্যু
- আপডেট সময় : ১১:১৪:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশজুড়ে ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে উত্তর সিটির তুলনায় দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বেশি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে গত ৮ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) পর্যন্ত ঢাকার দুই সিটিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬২ জন, যার মধ্যে ৪৬ জনই ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) বাসিন্দা। বাকি ১৬ জন মারা গেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএনসিসি)।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩০ জনে। এর মধ্যে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে সর্বোচ্চ ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে খুলনা বিভাগে। এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ১৩ জন, বরিশাল বিভাগে ১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪ জন এবং রংপুর ও সিলেট বিভাগে একজন করে ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন।
এই সময়ে দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৪৫ হাজার ৪৭৫ জনে। আক্রান্তের দিক থেকেও উত্তরের চেয়ে দক্ষিণ সিটি এগিয়ে রয়েছে। ডিএসসিসিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ৳২৫ জন এবং ডিএনসিসিতে ৫ হাজার ৪২৩ জন। ঢাকার বাইরে অন্যান্য বিভাগের মধ্যে খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ২৯৮ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৬ হাজার ৯৬৬ জন, বরিশাল বিভাগে ৬ হাজার ৮১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬ হাজার ৭৭২ জন, রাজশাহী বিভাগে ২ হাজার ৫৫৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২ হাজার ৪৯৯ জন, রংপুর বিভাগে ১ হাজার ১৬৮ জন এবং সিলেট বিভাগে ২০৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।
তবে সরকারি এই পরিসংখ্যান মানতে রাজি নন ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান। তাঁর দাবি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দেশের অন্যতম বড় চিকিৎসাকেন্দ্র এবং এটি দক্ষিণ সিটি এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় সারা দেশ থেকেই রোগীরা এখানে আসেন। এই হাসপাতালের সব তথ্য দক্ষিণ সিটির হিসাবে যুক্ত হওয়ায় বাস্তবে দক্ষিণে রোগীর সংখ্যা বেশি মনে হচ্ছে, যা সঠিক নয়। তিনি জানান, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। এছাড়া অঞ্চলভিত্তিক মনিটরিং টিম গঠন, মশকনিধন কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং লার্ভা ধ্বংসের অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে দুটি টিম সকালে লার্ভা পরীক্ষা করছে এবং বিকেলে ওষুধ দিচ্ছে। লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট স্থাপনার মালিকদের সতর্ক করা হচ্ছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মশার প্রজনন মৌসুম দীর্ঘায়িত হয়েছে। হালকা বৃষ্টিপাত মশার প্রজননস্থল সক্রিয় করে তুললেও অতি ভারী বৃষ্টি অনেক সময় লার্ভা ধ্বংস করে দেয়। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে একটি পূর্ণাঙ্গ আবহাওয়াভিত্তিক পূর্বাভাসモデル বা মডেল তৈরি করা প্রয়োজন। তিনি ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র এবং নির্মাণাধীন ভবনের জমা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার তাগিদ দেন। একই সঙ্গে মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
এদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী তিন মাসকে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে সরকার তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। গত মঙ্গলবার এক সভায় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু মশকনিধন নয়, পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার ওপর জোর দিতে হবে। এই কর্মসূচি মহানগরে সিটি কর্পোরেশন, জেলায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) সমন্বয় করবেন।
এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ৫ হাজার ৮২৫ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে রয়েছেন ৫ হাজার ৪২৩ জন।





























