ঢাকা ০৯:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খালাসের পরও ৮ বছর জেল, ইব্রাহিমকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রুল অপতথ্য ও এআইয়ের অপব্যবহার রোধে বৈশ্বিক ঐক্যের ডাক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২০৩৬ জন বোয়িং কেনায় কোনো গোপন এজেন্ডা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এশিয়ান গেমসে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ শেরপুরে ব্রক্ষপুত্র নদ থেকে যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধার লালমোহনে দুর্গোৎসব ও সরকারি সেবামূলক কার্যক্রম নিয়ে প্রশাসনের সভা মিয়ানমারে বাজারে বিমান হামলা, নিহত অন্তত ৩৩ ২২টি লাইসেন্সবিহীন অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মে লেনদেন না করার সতর্কবার্তা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএসসিসিতে ১২ দিনব্যাপী এডিস মশার লার্ভা জরিপ শুরু

শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পুষ্টির গুরুত্ব ও করণীয়

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:২৭:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



একটি শিশুর পরিপূর্ণ শারীরিক ও মানসিক বিকাশের মূল ভিত্তি হলো সঠিক পুষ্টি। বয়স অনুযায়ী সঠিক উচ্চতা, ওজন, শেখার সক্ষমতা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখতে পুষ্টির কোনো বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর জীবনের প্রথম ২৪ মাস পুষ্টির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে তা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে।

জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশু মূলত মায়ের বুকের দুধ থেকেই প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেয়ে থাকে। তবে বয়স ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর মাতৃদুগ্ধের পাশাপাশি তাকে পুষ্টিকর পরিপূরক খাদ্য দেওয়া জরুরি। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে অপুষ্টির কারণে অনেক শিশুই খর্বকায় ও কৃশকায় হয়ে জন্মাচ্ছে। এমন শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকায় তাদের মৃত্যুর ঝুঁকিও অনেক বেশি থাকে। এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি ও উন্নত পয়োনিস্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

মানবদেহের সব উপাদান সচল রাখতে পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এ ক্ষেত্রে দুধকে একটি অনন্য ও বিকল্পহীন খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা দেহ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রোটিন সরবরাহ করে। শিশু, বাড়ন্ত বয়সী কিশোর-কিশোরী, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য প্রতিদিন দুধ পান করা অত্যন্ত জরুরি। এটি হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করার পাশাপাশি বয়স্কদের হাড়ের ভঙ্গুরতা রোধেও সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের পুষ্টির বিষয়টি সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এই বয়সে সঠিক পুষ্টি পেলে শিশুরা পড়াশোনায় ভালো করে এবং তাদের খর্বাকৃতি বা কম ওজনের মতো শারীরিক সমস্যা দূর হয়। আমাদের দেশে অপুষ্টির প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত জনসংখ্যা, দারিদ্র্য এবং পুষ্টি সম্পর্কে অসচেতনতা। অধিক জনসংখ্যার কারণে যেমন খাদ্যের সহজলভ্যতা কমে যায়, তেমনি দরিদ্র পরিবারের শিশুরা প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত হয়। অন্যদিকে, সচ্ছল পরিবারের সন্তানরাও অতিরিক্ত জাঙ্কফুড খাওয়ার কারণে অপুষ্টির শিকার হতে পারে।

বর্তমানে খাদ্যের উৎপাদন বাড়ায় দেশে খাদ্যাভাব অনেকটাই দূর হয়েছে। তবে রাসায়নিক ও ভেজালের কারণে খাদ্য দূষিত হচ্ছে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। চিকিৎসকদের মতে, পুষ্টিকর খাবার শুধু খাদ্যই নয়, এটি ওষুধ হিসেবেও কাজ করে। তাই খাদ্য নিরাপদ হওয়া অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই মনে করেন অর্থনৈতিক সংকটের কারণেই মানুষ অপুষ্টিতে ভোগে, তবে মূলত পুষ্টি ও খাদ্য সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাবই এর জন্য বেশি দায়ী। অনেকেই মনে করেন শুধু বেশি বেশি দুধ আর মাংস খেলেই স্বাস্থ্য ভালো থাকে। অথচ সুস্থ থাকার জন্য সুষম খাদ্যের প্রয়োজন। মাংস ও দুধের পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মাছ, ডিম, ডাল, ভাত, রুটি, শাকসবজি ও ফলমূল রাখা উচিত।

দেশে শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারীদের অপুষ্টি দূর করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানোর পাশাপাশি উপযুক্ত পরিপূরক খাবার এবং প্রতিaxel ছয় মাস পর পর ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে ভাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ডাল, শাকসবজি ও দেশীয় ফলের চাষ বাড়াতে হবে। দেশের পুষ্টিমানের টেকসই উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ এবং বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পুষ্টির গুরুত্ব ও করণীয়

আপডেট সময় : ১২:২৭:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একটি শিশুর পরিপূর্ণ শারীরিক ও মানসিক বিকাশের মূল ভিত্তি হলো সঠিক পুষ্টি। বয়স অনুযায়ী সঠিক উচ্চতা, ওজন, শেখার সক্ষমতা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখতে পুষ্টির কোনো বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর জীবনের প্রথম ২৪ মাস পুষ্টির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে তা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে।

জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশু মূলত মায়ের বুকের দুধ থেকেই প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেয়ে থাকে। তবে বয়স ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর মাতৃদুগ্ধের পাশাপাশি তাকে পুষ্টিকর পরিপূরক খাদ্য দেওয়া জরুরি। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে অপুষ্টির কারণে অনেক শিশুই খর্বকায় ও কৃশকায় হয়ে জন্মাচ্ছে। এমন শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকায় তাদের মৃত্যুর ঝুঁকিও অনেক বেশি থাকে। এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি ও উন্নত পয়োনিস্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

মানবদেহের সব উপাদান সচল রাখতে পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এ ক্ষেত্রে দুধকে একটি অনন্য ও বিকল্পহীন খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা দেহ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রোটিন সরবরাহ করে। শিশু, বাড়ন্ত বয়সী কিশোর-কিশোরী, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য প্রতিদিন দুধ পান করা অত্যন্ত জরুরি। এটি হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত করার পাশাপাশি বয়স্কদের হাড়ের ভঙ্গুরতা রোধেও সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের পুষ্টির বিষয়টি সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এই বয়সে সঠিক পুষ্টি পেলে শিশুরা পড়াশোনায় ভালো করে এবং তাদের খর্বাকৃতি বা কম ওজনের মতো শারীরিক সমস্যা দূর হয়। আমাদের দেশে অপুষ্টির প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত জনসংখ্যা, দারিদ্র্য এবং পুষ্টি সম্পর্কে অসচেতনতা। অধিক জনসংখ্যার কারণে যেমন খাদ্যের সহজলভ্যতা কমে যায়, তেমনি দরিদ্র পরিবারের শিশুরা প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত হয়। অন্যদিকে, সচ্ছল পরিবারের সন্তানরাও অতিরিক্ত জাঙ্কফুড খাওয়ার কারণে অপুষ্টির শিকার হতে পারে।

বর্তমানে খাদ্যের উৎপাদন বাড়ায় দেশে খাদ্যাভাব অনেকটাই দূর হয়েছে। তবে রাসায়নিক ও ভেজালের কারণে খাদ্য দূষিত হচ্ছে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। চিকিৎসকদের মতে, পুষ্টিকর খাবার শুধু খাদ্যই নয়, এটি ওষুধ হিসেবেও কাজ করে। তাই খাদ্য নিরাপদ হওয়া অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই মনে করেন অর্থনৈতিক সংকটের কারণেই মানুষ অপুষ্টিতে ভোগে, তবে মূলত পুষ্টি ও খাদ্য সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাবই এর জন্য বেশি দায়ী। অনেকেই মনে করেন শুধু বেশি বেশি দুধ আর মাংস খেলেই স্বাস্থ্য ভালো থাকে। অথচ সুস্থ থাকার জন্য সুষম খাদ্যের প্রয়োজন। মাংস ও দুধের পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মাছ, ডিম, ডাল, ভাত, রুটি, শাকসবজি ও ফলমূল রাখা উচিত।

দেশে শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারীদের অপুষ্টি দূর করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানোর পাশাপাশি উপযুক্ত পরিপূরক খাবার এবং প্রতিaxel ছয় মাস পর পর ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে ভাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ডাল, শাকসবজি ও দেশীয় ফলের চাষ বাড়াতে হবে। দেশের পুষ্টিমানের টেকসই উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ এবং বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin