রক্তের গ্রুপের সঙ্গে স্ট্রোকের সম্পর্ক: ঝুঁকিতে কারা, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
- আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

মানুষের জীবনপদ্ধতিতে পরিবর্তন, আবহাওয়া ও খাদ্যাভ্যাসের বদল এবং প্রকৃতি থেকে সুস্থ থাকার উপাদানগুলো হারিয়ে যাওয়ার কারণে বর্তমানে রোগবালাইয়ের প্রকোপ বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হৃদরোগের পাশাপাশি স্ট্রোক এখন বৈশ্বিক মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ হৃদরোগ ও স্ট্রোকে প্রাণ হারাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, স্ট্রোক হলে বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা যেমন কম, তেমনি যারা বেঁচে ফেরেন, তাদের বড় একটি অংশ আজীবনের জন্য পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
চিকিৎসকদের মতে, স্ট্রোকের পেছনে উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, ধূমপান, স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন বড় ঝুঁকির কারণ। এছাড়া অতিরিক্ত মদ্যপান, শারীরিক অনিষ্ক্রিয়তা, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, ঘুমজনিত ব্যাধি যেমন স্লিপ অ্যাপনিয়া এবং হৃদরোগের মতো বিষয়গুলো স্ট্রোকের আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। পরিবারের কারও স্ট্রোকের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়ে, তাই চিকিৎসকরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
সম্প্রতি এক গবেষণায় স্ট্রোকের ঝুঁকির সঙ্গে রক্তের গ্রুপের এক নতুন ও চমকপ্রদ সম্পর্কের তথ্য উঠে এসেছে। ২০২২ সালে নিউরোলজি জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তের ‘এ’ গ্রুপের একটি বিশেষ ধরন ‘এ১’ যাদের রয়েছে, তাদের ৬০ বছর বয়সের আগেই স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি অন্যান্য রক্তের গ্রুপের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। একই গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ‘বি’ গ্রুপের রক্তের মানুষের ক্ষেত্রেও স্ট্রোকের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি, যা প্রায় ১১ শতাংশ। অন্যদিকে, যাদের রক্তের গ্রুপ ‘ও১’, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি ১২ শতাংশ কম।
গবেষণাটি অত্যন্ত ব্যাপক ছিল, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগৃহীত ৪৮টি জেনেটিক গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৭ হাজার স্ট্রোক আক্রান্ত ব্যক্তি এবং ৬ লাখ সুস্থ মানুষের তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল, যাদের বয়স ছিল ১৮ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে। গবেষণার প্রধান লেখক ও যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিশেষজ্ঞ ড. স্টিভেন কিটনার জানান, রক্তের ‘এ’ গ্রুপ কেন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায় তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তবে এটি সম্ভবত রক্ত জমাট বাঁধা, প্লাটলেটের কার্যকারিতা, রক্তনালির ভেতরের কোষ এবং নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগই উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, জাপান, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ছিলেন, যার মধ্যে ইউরোপীয় বংশোদ্ভূতদের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬৫ শতাংশ। তাই গবেষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে আরও বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর ওপর গবেষণা করলে এই সম্পর্ক আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, রক্তের গ্রুপ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তবে স্ট্রোকের প্রধান ঝুঁকিগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই রক্তের গ্রুপ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, ধূমপান ত্যাগ, নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং অ্যালকোহল গ্রহণ সীমিত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।





























