ডেঙ্গু মোকাবিলায় এখনই প্রয়োজন সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ
- আপডেট সময় : ০৮:১৬:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে

শ্রাবণের বৃষ্টি প্রকৃতিকে সজীব করলেও এই সময়টি ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য সবচেয়ে অনুকূল। চলতি বছর ডেঙ্গুর পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। জুন মাসের তুলনায় জুলাইয়ের প্রথম ১৯ দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৩৪ শতাংশ বেড়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাস ডেঙ্গুর সর্বোচ্চ ঝুঁকির সময়। তাই এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ডেঙ্গু এখন আর শুধু রাজধানীর সমস্যা নয়। এটি জেলা শহর, পৌর এলাকা এবং গ্রামাঞ্চলেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বরিশাল, চট্টগ্রাম এবং ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে ডেঙ্গু প্রতিরোধের কৌশল কেবল দুই সিটি করপোরেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা চলবে না। এর পরিবর্তে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সাধারণ মানুষকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
প্রতিবছর ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পর তৎপরতা দেখা যায়, কিন্তু আগাম প্রস্তুতির অভাব থেকেই যায়। অনেক ক্ষেত্রে ফগার মেশিনে ধোঁয়া ছিটানো বা সীমিত আকারে লার্ভিসাইড ব্যবহারের মতো গতানুগতিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। তবে গবেষণা অনুযায়ী, কেবল ধোঁয়া ছিটিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত লার্ভা জরিপ, নির্মাণাধীন ভবনের তদারকি এবং বাসাবাড়িতে জমে থাকা পরিষ্কার পানি অপসারণই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
নাগরিকদের দায়িত্ব এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এডিস মশা মানুষের ঘরবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, টব, ড্রাম বা পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে জন্মায়। কেবল পানি ফেলে দেওয়াই যথেষ্ট নয়, পাত্রগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার রাখতে হবে যাতে লার্ভা বা ডিম থেকে নতুন মশা জন্মাতে না পারে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতাই সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা।
একই সঙ্গে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকেও সম্ভাব্য চাপ সামাল দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্স, পর্যাপ্ত শয্যা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী নিশ্চিত করা জরুরি। দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ ও সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারলে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
সিটি করপোরেশনগুলোর জন্য জবাবদিহিমূলক ও বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। নিয়মিত লার্ভা জরিপ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। ডেঙ্গু মৌসুমি সমস্যা হলেও একে সারা বছরের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মোকাবিলা করতে হবে। বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই প্রস্তুতি গ্রহণ এবং সংকট দেখা দেওয়ার পর তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসাই এখন সময়ের দাবি।





























