জন্মদিনে জেমস: সমাজকে আনন্দ দিতেই আমার সংগীতের পথচলা
- আপডেট সময় : ০৯:৪৭:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

সংগীতের মাধ্যমে মানুষকে আনন্দ দেওয়াই যার দীর্ঘ পথচলার অঙ্গীকার, সেই সংগীতজগতের ‘গুরু’ ও নগরবাউলখ্যাত মাহফুজ আনাম জেমসের আজ জন্মদিন। সময়ের স্রোতে অনেক বছর পার হয়েছে, সংগীতের ভাষা বদলেছে এবং নতুন প্রজন্মের আগমন ঘটেছে। তবু গিটার হাতে সেই চিরচেনা ‘গুরু’ আজও গানের মধ্যেই খুঁজে ফেরেন জীবনের আনন্দ। নিজের জন্মদিন, জীবনদর্শন এবং সংগীতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
জন্মদিন পালন প্রসঙ্গে জেমস বলেন, ‘জন্মদিন তো একটাই, যেদিন তুমি জন্মেছ। এরপর এগুলো তো জন্মদিন নয়। যেদিন জন্মেছ, আর যেদিন মারা যাবে মৃত্যুদিন, এই দুইটাই আছে। আমি সমাজ বদল করতে আসিনি। আমি সমাজকে আনন্দ দিতে এসেছি। মানুষ বারবার তো জন্ম নেয় না। জন্মদিন একটাই। আমি কোনো দিনই এভাবে বিশেষভাবে জন্মদিন কাটাই না। এমনিতেই পরিবারের সঙ্গে থাকব, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাব।’
সংগীত ও সংস্কৃতির বিবর্তন নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অনেক শিল্পধারা হারিয়ে গেছে। আবার কিছু শিল্পধারা আছে, যেগুলো মানুষ ভালোবাসা ও আবেগ থেকেই ধরে রেখেছে।’ গান মানুষের জন্য—এই দর্শনের কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘গান বানিয়েছে, মানুষ গান শুনবে, গান গাইবে। পথে-ঘাটে যে যার ইচ্ছামতো গান গাইবে, নিজের মতো করে গাইবে। সংস্কৃতি তো নদীর মতো, এটা বয়ে চলবে। বাধা দিলে এটা বাধাগ্রস্ত হবে। যে যার গান করছে, করতে থাকুক। তবে গান তো বানানোই হয়েছে মানুষকে শোনানোর জন্য এবং গাওয়ার জন্য।’
নতুন গান করার ইচ্ছার কথা জানালেও জেমস বর্তমান সময়টাকে নতুনদের বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ‘নতুন গান করার ইচ্ছা অবশ্যই আছে। এই সময়ে প্রচুর নতুন, ভীষণ প্রতিভাবান অনেক শিল্পী আসছে। এখন তাদের সময়, তারা করবে। একটা সময় থাকে, এখন নতুনদের সময়। নতুনরা গান বের করছে, শোনো তাদের গান।’
উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালের ২ অক্টোবর নওগাঁয় জন্মগ্রহণ করেন জেমস। তবে তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে চট্টগ্রামে। সংগীতের প্রতি গভীর টানে পরিবারের সঙ্গে মতবিরোধের এক পর্যায়ে তিনি ঘর ছাড়েন। এরপর চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিংয়ে শুরু হয় তার সংগীতজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দীর্ঘ এই পথচলায় নিজের স্বতন্ত্র গায়কী ও সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে শ্রোতাদের হৃদয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন এক অনন্য অবস্থান।





























