ঢাকা ০৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের দাপটে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ছে মার্কিন বাহিনী এআই কি মৃত সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে পারে? কোরে-এদার নতুন সিনেমা শিক্ষার্থীদের বুঝেশুনে আন্দোলন করার আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় আলাদা প্রশ্নপত্র: জাতীয় শিক্ষার ওপর প্রভাব কী মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে গুজব উড়িয়ে দিলেন প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশে প্রযুক্তি ও ডিজিটাল পেমেন্ট খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ভিসা বন্দিবিনিময়ের জন্য ১৭০০ ফিলিস্তিনির লাশ আটকে রেখেছে ইসরাইল ৭১ টিভির চেয়ারম্যানসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে সমন জারি ওমানে বিপৎসীমায় আটকা পড়া ট্যাংকার থেকে ৪০০ কিমি এলাকায় তেল ছড়িয়েছে প্রাণনাশের হুমকিতে কনটেইনারে লুকিয়ে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প

এআই কি মৃত সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে পারে? কোরে-এদার নতুন সিনেমা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০২:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

প্রিয়জনকে হারানোর শোক এবং তাকে পুনরায় ফিরে পাওয়ার অদম্য আকাঙ্ক্ষার মাঝে প্রযুক্তির ভূমিকা কতটুকু—এই মৌলিক প্রশ্নটিই জাপানি নির্মাতা হিরোকাজু কোরে-এদার নতুন চলচ্চিত্র 'শিপ ইন দ্য বক্স'-এর মূল উপজীব্য। গল্পটি আবর্তিত হয় স্থপতি ওতোনে ও তার স্বামী কেনসুকের জীবন নিয়ে, যারা দুই বছর আগে একটি দুর্ঘটনায় তাদের সাত বছর বয়সী ছেলে কাকেরুকে হারিয়েছেন। শোকের ছায়ায় আচ্ছন্ন এই দম্পতির সামনে 'রিবার্থ' নামের একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অদ্ভুত এক প্রস্তাব নিয়ে উপস্থিত হয়। তারা জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে মৃত ব্যক্তির আদল, কণ্ঠস্বর ও স্মৃতি ধারণকারী একটি মানবাকৃতি প্রতিরূপ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেয়।

দম্পতি শেষ পর্যন্ত সেই কৃত্রিম প্রতিরূপকে গ্রহণ করেন, যার ফলে তাদের ঘরে ফিরে আসে কাকেরুর মতো দেখতে ও কথা বলা একটি এআই সত্তা। এখানেই সিনেমার মূল দার্শনিক দ্বন্দ্বের সূচনা। দর্শককে ভাবতে বাধ্য করা হয়—চেহারা, স্মৃতি ও কণ্ঠ হুবহু মিলে গেলেও একে কি আদৌ সেই মৃত শিশুটি বলা যায়? নাকি এটি কেবল শোকের সাময়িক উপশমকারী একটি উন্নত প্রযুক্তি মাত্র? কোরে-এদা এই জটিল প্রশ্নের কোনো সহজ উত্তর না দিয়ে অত্যন্ত ধীর ও সংযত ভঙ্গিতে গল্পটি এগিয়ে নিয়েছেন।

সিনেমার ভেতরে কাকেরুর চরিত্রটি কখনো শিশুসুলভ, আবার কখনো অস্বাভাবিক বুদ্ধিদীপ্ত হয়ে ওঠে। সে স্থানীয় ট্রেনের সব স্টেশনের নাম অনায়াসেই বলতে পারে, যা দর্শকের মনে প্রশ্ন জাগায় যে এই যন্ত্রের ভেতরে কি নিজস্ব কোনো সত্তা বা অনুভূতির জন্ম হচ্ছে? এর আগে '২০০১: আ স্পেস ওডিসি' বা 'ব্লেড রানার'-এর মতো ছবিতে মানুষ ও যন্ত্রের সম্পর্কের যে জটিলতা দেখা গেছে, কোরে-এদা সেই পথে হাঁটার সুযোগ পেলেও বারবার সেখান থেকে সরে এসে মানবিক আবেগের ওপরই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

ছবিতে আন্তোয়ান দ্য সেন্ট-একজুপেরির 'দ্য লিটল প্রিন্স' বইটির একটি প্রতীকি ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। কাকেরুর পড়া এই বইয়ের 'বাক্সের ভেতরের ভেড়া' যেন এখানে আত্মার প্রতীক হয়ে উঠেছে, যা প্রযুক্তি ও দর্শনের সীমানা ছাড়িয়ে প্রশ্ন তোলে—একটি যন্ত্রের কি আত্মা থাকা সম্ভব? এছাড়া গাছের সঙ্গে কাকেরুর সম্পর্ক জীবন ও জৈব সত্তার সংজ্ঞাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। তবে সমালোচকদের মতে, ছবিটির কাঠামো কিছুটা ঢিলেঢালা। এটি শোকের গল্প, এআই নিয়ে সতর্কবার্তা এবং রহস্যের মিশ্রণ ঘটাতে গিয়ে কোনো একটি দিকেই পর্যাপ্ত গভীরতা অর্জনে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। শেষ পর্যন্ত 'শিপ ইন দ্য বক্স' কোনো প্রযুক্তি-থ্রিলার নয়, বরং এক বিষণ্ন প্রযুক্তি-রূপকথা হয়েই থেকে যায়, যা দর্শককে এই প্রশ্নটির সামনে দাঁড় করিয়ে রাখে—মানুষ হওয়ার জন্য শরীর ও বুদ্ধির বাইরে আর কী প্রয়োজন?

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

এআই কি মৃত সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে পারে? কোরে-এদার নতুন সিনেমা

আপডেট সময় : ০৩:০২:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
print news

প্রিয়জনকে হারানোর শোক এবং তাকে পুনরায় ফিরে পাওয়ার অদম্য আকাঙ্ক্ষার মাঝে প্রযুক্তির ভূমিকা কতটুকু—এই মৌলিক প্রশ্নটিই জাপানি নির্মাতা হিরোকাজু কোরে-এদার নতুন চলচ্চিত্র 'শিপ ইন দ্য বক্স'-এর মূল উপজীব্য। গল্পটি আবর্তিত হয় স্থপতি ওতোনে ও তার স্বামী কেনসুকের জীবন নিয়ে, যারা দুই বছর আগে একটি দুর্ঘটনায় তাদের সাত বছর বয়সী ছেলে কাকেরুকে হারিয়েছেন। শোকের ছায়ায় আচ্ছন্ন এই দম্পতির সামনে 'রিবার্থ' নামের একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অদ্ভুত এক প্রস্তাব নিয়ে উপস্থিত হয়। তারা জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে মৃত ব্যক্তির আদল, কণ্ঠস্বর ও স্মৃতি ধারণকারী একটি মানবাকৃতি প্রতিরূপ তৈরির প্রতিশ্রুতি দেয়।

দম্পতি শেষ পর্যন্ত সেই কৃত্রিম প্রতিরূপকে গ্রহণ করেন, যার ফলে তাদের ঘরে ফিরে আসে কাকেরুর মতো দেখতে ও কথা বলা একটি এআই সত্তা। এখানেই সিনেমার মূল দার্শনিক দ্বন্দ্বের সূচনা। দর্শককে ভাবতে বাধ্য করা হয়—চেহারা, স্মৃতি ও কণ্ঠ হুবহু মিলে গেলেও একে কি আদৌ সেই মৃত শিশুটি বলা যায়? নাকি এটি কেবল শোকের সাময়িক উপশমকারী একটি উন্নত প্রযুক্তি মাত্র? কোরে-এদা এই জটিল প্রশ্নের কোনো সহজ উত্তর না দিয়ে অত্যন্ত ধীর ও সংযত ভঙ্গিতে গল্পটি এগিয়ে নিয়েছেন।

সিনেমার ভেতরে কাকেরুর চরিত্রটি কখনো শিশুসুলভ, আবার কখনো অস্বাভাবিক বুদ্ধিদীপ্ত হয়ে ওঠে। সে স্থানীয় ট্রেনের সব স্টেশনের নাম অনায়াসেই বলতে পারে, যা দর্শকের মনে প্রশ্ন জাগায় যে এই যন্ত্রের ভেতরে কি নিজস্ব কোনো সত্তা বা অনুভূতির জন্ম হচ্ছে? এর আগে '২০০১: আ স্পেস ওডিসি' বা 'ব্লেড রানার'-এর মতো ছবিতে মানুষ ও যন্ত্রের সম্পর্কের যে জটিলতা দেখা গেছে, কোরে-এদা সেই পথে হাঁটার সুযোগ পেলেও বারবার সেখান থেকে সরে এসে মানবিক আবেগের ওপরই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

ছবিতে আন্তোয়ান দ্য সেন্ট-একজুপেরির 'দ্য লিটল প্রিন্স' বইটির একটি প্রতীকি ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। কাকেরুর পড়া এই বইয়ের 'বাক্সের ভেতরের ভেড়া' যেন এখানে আত্মার প্রতীক হয়ে উঠেছে, যা প্রযুক্তি ও দর্শনের সীমানা ছাড়িয়ে প্রশ্ন তোলে—একটি যন্ত্রের কি আত্মা থাকা সম্ভব? এছাড়া গাছের সঙ্গে কাকেরুর সম্পর্ক জীবন ও জৈব সত্তার সংজ্ঞাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। তবে সমালোচকদের মতে, ছবিটির কাঠামো কিছুটা ঢিলেঢালা। এটি শোকের গল্প, এআই নিয়ে সতর্কবার্তা এবং রহস্যের মিশ্রণ ঘটাতে গিয়ে কোনো একটি দিকেই পর্যাপ্ত গভীরতা অর্জনে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। শেষ পর্যন্ত 'শিপ ইন দ্য বক্স' কোনো প্রযুক্তি-থ্রিলার নয়, বরং এক বিষণ্ন প্রযুক্তি-রূপকথা হয়েই থেকে যায়, যা দর্শককে এই প্রশ্নটির সামনে দাঁড় করিয়ে রাখে—মানুষ হওয়ার জন্য শরীর ও বুদ্ধির বাইরে আর কী প্রয়োজন?

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin