কোচিং বাণিজ্যের আড়ালে শিক্ষার সংকট ও সৃজনশীলতার বিভ্রান্তি
- আপডেট সময় : ১১:১৭:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

সৃষ্টিশীল কোচিং সেন্টারের পরিচালক আব্দুল মালেক একজন ডিগ্রি পাস করা ব্যক্তি। ভাগ্যের জোরে একটি কোচিং সেন্টারের মালিক হয়েছেন তিনি। তার কোচিং সেন্টারে বাংলা ক্লাসের শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় মালেক নিজেই ক্লাসটি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কথার মারপ্যাঁচে তিনি বাংলা বা অর্থনীতির ক্লাস চালিয়ে নিতে পারদর্শী। ক্লাসে ঢোকার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা তাকে নানা প্রশ্ন করতে থাকে। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল বোর্ড বই কেনা, কোর্সের ব্যাপ্তি এবং গাইড বই কেনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে।
এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী এই শিক্ষার্থীরা রেজাল্টের অপেক্ষায় রয়েছে এবং ভালো কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি হিসেবে কোচিংয়ে ভর্তি হয়েছে। মালেক শিক্ষার্থীদের হাসিমুখে জানান, বোর্ড বই কেনার কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি দাবি করেন, বোর্ড বই প্রকাশ করা হয় শুধুমাত্র ব্যবসার উদ্দেশ্যে, কারণ ছাত্রছাত্রীরা সেগুলো কিনবে কিন্তু সেখান থেকে পরীক্ষায় কোনো প্রশ্ন আসবে না। তার মতে, গাইড বই কিনলেও তা থেকে প্রশ্ন আসার সম্ভাবনা কম।
কলেজে পড়াশোনা হয় না বলে দাবি করেন মালেক। তার মতে, দেড়শো থেকে দু'শ শিক্ষার্থীর একেকটি সেকশনে শিক্ষকদের নাম প্রেজেন্ট করতেই সময় পার হয়ে যায়, তাই সেখানে পড়াশোনা হওয়ার সুযোগ নেই। তিনি নিজেকে এবং তার কোচিং সেন্টারকে দেশের শিক্ষার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, তিন বছর ধরে তাদের তৈরি করা নোট পড়ে অনেক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পার হয়ে চাকরি করছে। তবে মানস নামের এক ছাত্রের প্রশ্নের মুখে পড়ে মালেক কিছুটা বিব্রত হন। মানস জানতে চায়, পাঁচ-ছয় বছর আগে শিক্ষার্থীরা কোন নোট পড়ত, কারণ কোচিং সেন্টারটি তো মাত্র তিন বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এই কোচিং সেন্টারের প্রভাব এবং মালেকের শেখানো কৌশলের প্রতিফলন দেখা যায় আনিসের খাতায়। সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরে আনিস লিখেছে, যৌতুক না নেওয়াটা আজকের যুগে একটি মারাত্মক ভুল। সে তার উত্তরে হৈমন্তী চরিত্র ও তার ভাই নয়ন সম্পর্কে বানিয়ে নানা কথা লিখেছে। মালেক স্যার আগে থেকেই তাদের শিখিয়েছিলেন যে, যত বেশি বানিয়ে লিখবে, ততই সৃজনশীলতা প্রকাশ পাবে। আনিসের এই উত্তরটি তার কোচিং সেন্টারের প্রভাবেরই এক বাস্তব উদাহরণ।





























