সিরাজগঞ্জের ১০৫৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান
- আপডেট সময় : ০১:১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জ জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় তীব্র শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার মোট ১ হাজার ৬৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১ হাজার ৫৬টিতেই কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। অর্থাৎ, প্রায় ৬৩ শতাংশের বেশি বিদ্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সংকট চলতে থাকায় স্কুলগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এই শূন্য পদগুলো পূরণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলার সবকটিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংকট রয়েছে উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, কাজীপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায়। উপজেলাভিত্তিক শূন্য পদের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, উল্লাপাড়ায় ১৬৮টি, কাজীপুরে ১৫৯টি, শাহজাদপুরে ১৫৫টি এবং সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় ১৪০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এছাড়া রায়গঞ্জে ১১৩টি, বেলকুচিতে ১০৩টি, তাড়াশে gateways ৯৭টি, চৌহালীতে ৯০টি এবং কামারখন্দ উপজেলায় ৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য পড়ে আছে।
প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোর জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে চলতি দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের কারণে তারা ক্লাসে আগের মতো সময় দিতে পারছেন না। কয়েকজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, প্রশাসনিক নানা কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে তাদের পক্ষে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীরা শিখন ঘাটতি নিয়ে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হচ্ছে, যা শিক্ষক সংকটের কারণে আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। দ্রুত এই শূন্য পদগুলো পূরণ করা না হলে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা।
শুধু প্রধান শিক্ষকই নয়, সিরাজগঞ্জে সহকারী শিক্ষকের পদও বিপুল সংখ্যায় শূন্য রয়েছে। জেলায় সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ৯ হাজার ৩৭৩টি হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ৮ হাজার ৫২৬ জন। ফলে সহকারী শিক্ষকের পদও খালি রয়েছে ৮৪৭টি। সংশ্লিষ্ট উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, শিক্ষক নিয়োগে প্রশাসনিক জটিলতা, আইনি মামলা, নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণে বিলম্ব এবং পদোন্নতি প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণেই মূলত এই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
এই সংকটের সত্যতা স্বীকার করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাহাব উদ্দিন জানান, জেলায় শুধু প্রধান শিক্ষকেরই নয়, সহকারী শিক্ষকেরও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলেই শূন্য পদগুলোতে নিয়োগ বা পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।




























