ঢাকা ০২:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঈশ্বরদীতে ক্রেতা সেজে দুই ভরি স্বর্ণের মালা নিয়ে চম্পট গোপালগঞ্জে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ ইবির আইন অনুষদের ১৯ শিক্ষার্থী সিভিল জজ পদে মনোনীত নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে নতুন আশাবাদ, নিউইয়র্কে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নিউইয়র্কে মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে ব্যর্থতার সুযোগ নেই: রুহুল আমিন হাওলাদার রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর নাটোর সদর উপজেলায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মারা গেলেন মাদ্রাসা শিক্ষক

আত্মহত্যা প্রতিরোধে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আত্মহত্যাকে কেবল ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সংকট হিসেবে না দেখে জনস্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে কাজ করা সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তারা বলছেন, আত্মহত্যামূলক আচরণকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় এনে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আত্মহত্যা নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে সহানুভূতিশীল পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি।

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ২৬। বৃহস্পতিবার বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর.সি. মজুমদার অডিটোরিয়ামে 'চেইঞ্জিং দ্য ন্যারেটিভ অন সুইসাইড' শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশন (বিটিএফ)। বক্তারা বলেন, আত্মহত্যার চিন্তা বা প্রবণতা থাকা ব্যক্তিরা অনেক সময় বিভিন্ন সংকেত বা আচরণের মাধ্যমে তাদের মানসিক অবস্থার জানান দেন। এসব সংকেতকে গুরুত্ব দিয়ে মনোযোগের সঙ্গে শোনা, বিচার না করা এবং অবহেলা না করে দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া জীবন বাঁচাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান সেমিনারে কি-নোট স্পিকার হিসেবে বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী প্রতি বছর বিশ্বে সাত লাখের বেশি মানুষ আত্মহত্যায় মারা যান, যার ৭৭ শতাংশই ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। তিনি মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধের জন্য শুধু মৃত্যুর সংখ্যা কমানো নয়, বরং ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবার পথ প্রশস্ত করতে হবে।

বিটিএফের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়শ্রী জামান বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধ সম্ভব—এই বিশ্বাস সমাজের অনেকেরই নেই। তিনি বলেন, প্রচলিত মিথ ও ভুল তথ্যের ভিড়ে প্রকৃত সত্য চাপা পড়ে যায়। তাই পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের সচেতন হওয়া এবং আত্মহত্যার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তির প্রতি সহমর্মিতা দেখানো অপরিহার্য। সেমিনারে বক্তব্য রাখেন আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের অধ্যাপক (অব.) কাজী লুতফুন নেসা, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক কবিতা দিলাওয়ার, বিনির্মাণ সংগঠনের সভাপতি নিলুফার বিলকিস এবং ইনারহুইল ক্লাব অব ওয়েসিস ঢাকা ডিস্ট্রিক্ট-৩৪৫-এর প্রেসিডেন্ট সাদিয়া জিনাত। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি ও বক্তব্য রাখেন কবি জুনান নাশিত এবং এমিলি জামান।

সেমিনারের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর.সি. মজুমদার অডিটোরিয়াম থেকে মধুর ক্যান্টিন ও ডাকসু ভবন হয়ে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ পর্যন্ত একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধের দায়িত্ব শুধু বিশেষজ্ঞদের নয়, বরং সবচেয়ে কাছের মানুষরাই আগে পরিবর্তনের সংকেতগুলো ধরতে পারেন, তাই সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনই এই সংকট নিরসনের মূল চাবিকাঠি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

আত্মহত্যা প্রতিরোধে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

আপডেট সময় : ০৪:৩৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আত্মহত্যাকে কেবল ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সংকট হিসেবে না দেখে জনস্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে কাজ করা সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তারা বলছেন, আত্মহত্যামূলক আচরণকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় এনে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আত্মহত্যা নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে সহানুভূতিশীল পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি।

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ২৬। বৃহস্পতিবার বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর.সি. মজুমদার অডিটোরিয়ামে 'চেইঞ্জিং দ্য ন্যারেটিভ অন সুইসাইড' শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ব্রাইটার টুমোরো ফাউন্ডেশন (বিটিএফ)। বক্তারা বলেন, আত্মহত্যার চিন্তা বা প্রবণতা থাকা ব্যক্তিরা অনেক সময় বিভিন্ন সংকেত বা আচরণের মাধ্যমে তাদের মানসিক অবস্থার জানান দেন। এসব সংকেতকে গুরুত্ব দিয়ে মনোযোগের সঙ্গে শোনা, বিচার না করা এবং অবহেলা না করে দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া জীবন বাঁচাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান সেমিনারে কি-নোট স্পিকার হিসেবে বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী প্রতি বছর বিশ্বে সাত লাখের বেশি মানুষ আত্মহত্যায় মারা যান, যার ৭৭ শতাংশই ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। তিনি মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধের জন্য শুধু মৃত্যুর সংখ্যা কমানো নয়, বরং ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবার পথ প্রশস্ত করতে হবে।

বিটিএফের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়শ্রী জামান বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধ সম্ভব—এই বিশ্বাস সমাজের অনেকেরই নেই। তিনি বলেন, প্রচলিত মিথ ও ভুল তথ্যের ভিড়ে প্রকৃত সত্য চাপা পড়ে যায়। তাই পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের সচেতন হওয়া এবং আত্মহত্যার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তির প্রতি সহমর্মিতা দেখানো অপরিহার্য। সেমিনারে বক্তব্য রাখেন আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের অধ্যাপক (অব.) কাজী লুতফুন নেসা, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক কবিতা দিলাওয়ার, বিনির্মাণ সংগঠনের সভাপতি নিলুফার বিলকিস এবং ইনারহুইল ক্লাব অব ওয়েসিস ঢাকা ডিস্ট্রিক্ট-৩৪৫-এর প্রেসিডেন্ট সাদিয়া জিনাত। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি ও বক্তব্য রাখেন কবি জুনান নাশিত এবং এমিলি জামান।

সেমিনারের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর.সি. মজুমদার অডিটোরিয়াম থেকে মধুর ক্যান্টিন ও ডাকসু ভবন হয়ে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ পর্যন্ত একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধের দায়িত্ব শুধু বিশেষজ্ঞদের নয়, বরং সবচেয়ে কাছের মানুষরাই আগে পরিবর্তনের সংকেতগুলো ধরতে পারেন, তাই সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনই এই সংকট নিরসনের মূল চাবিকাঠি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh