ঢাকা ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিজ দপ্তরে ১২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ চুয়েটের উপাচার্য, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ৬ বছরের বিরতি ভেঙে ওটিটি সিরিজে ফিরছেন বিপাশা বসু মক্কা-মদিনার নিরাপত্তা নিয়ে শামা ওবায়েদ: বাংলাদেশ বসে থাকবে না কারা অধিদপ্তরে নতুন মহাপরিদর্শক হিসেবে যোগ দিলেন আনোয়ারুল কবীর অভিমান করে ফের ঘর ছাড়ল সাইদুল, ১১ দিন পর ফিরল মায়ের কাছে ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় আমিই: ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো সিরাজগঞ্জে আখের বাম্পার ফলন, বাজারে নতুন গুড় বিক্রি করে লাভবান কৃষকেরা একা হয়ে যাওয়া মানেই ভয় নয়, নিজের সাম্রাজ্যের পথে যাত্রা: পূজা চেরী নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ১৪৫ জন আটক কুমিল্লায় সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড়

ক্লাসরুম সংকটের মাঝেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬ নতুন বিভাগ চালুর পরিকল্পনা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ৪০ (03 September 2026, 23:40)

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান তীব্র শ্রেণিকক্ষ সংকটের সমাধান না করেই নতুন করে আরও ১৬টি বিভাগ চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই ঘোষণা দেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদনসাপেক্ষে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন বিভাগগুলো চালু করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট হ্যান্ডবুকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চালু থাকা ২৯টি বিভাগের জন্য মাত্র ৯৮টি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। অধিকাংশ বিভাগকেই মাত্র দুই থেকে তিনটি ক্লাসরুম নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। প্রতিটি বিভাগে একাধিক বর্ষ, সেমিস্টার ও ব্যাচের নিয়মিত ক্লাস থাকায় এই সংকটের কারণে ক্লাসের সময়সূচি নির্ধারণ, পরীক্ষা আয়োজন এবং অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

শ্রেণিকক্ষ বরাদ্দের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগে মাত্র একটি ক্লাসরুম রয়েছে। এছাড়া এগ্রোটেকনোলজি, এডুকেশন, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি, হিস্ট্রি অ্যান্ড সিভিলাইজেশন, স্কাল্পচার এবং সেইল, ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগে রয়েছে দুটি করে শ্রেণিকক্ষ। অন্যদিকে রসায়ন, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, ইংরেজি, ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি, আইন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, ফার্মেসি, পদার্থবিজ্ঞান, প্রিন্টমেকিং ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ তিনটির বেশি ক্লাসরুম পাচ্ছে না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন জানান, নতুন বিভাগ চালুর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার প্ল্যানের অংশ হলেও এখনই এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। অবকাঠামোগত সংকট নিরসন, পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ এবং মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করার পরই কেবল এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, খুলনার পাইকগাছায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস চালু হলে সেখানে প্রাথমিকভাবে চার থেকে পাঁচটি বিভাগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম স্পষ্ট করেছেন যে, নতুন বিভাগ চালুর ক্ষেত্রে ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো, পরিধি, শিক্ষক সংখ্যা ও শিক্ষার মান বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দুই বছর আগে ভাষা শিক্ষা বিভাগ চালুর অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হলেও এখনো তার অনুমোদন মেলেনি। তাই প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও অবকাঠামো নিশ্চিত হওয়ার পরই নতুন বিভাগ চালুর চূড়ান্ত উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন বিভাগ চালুর আগে বিদ্যমান ক্লাসরুম সংকট দূর করা এবং কার্যকর শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষার মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

ক্লাসরুম সংকটের মাঝেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬ নতুন বিভাগ চালুর পরিকল্পনা

আপডেট সময় : ০১:০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ৪০ (03 September 2026, 23:40)

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান তীব্র শ্রেণিকক্ষ সংকটের সমাধান না করেই নতুন করে আরও ১৬টি বিভাগ চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই ঘোষণা দেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদনসাপেক্ষে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন বিভাগগুলো চালু করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট হ্যান্ডবুকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চালু থাকা ২৯টি বিভাগের জন্য মাত্র ৯৮টি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। অধিকাংশ বিভাগকেই মাত্র দুই থেকে তিনটি ক্লাসরুম নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। প্রতিটি বিভাগে একাধিক বর্ষ, সেমিস্টার ও ব্যাচের নিয়মিত ক্লাস থাকায় এই সংকটের কারণে ক্লাসের সময়সূচি নির্ধারণ, পরীক্ষা আয়োজন এবং অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

শ্রেণিকক্ষ বরাদ্দের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগে মাত্র একটি ক্লাসরুম রয়েছে। এছাড়া এগ্রোটেকনোলজি, এডুকেশন, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি, হিস্ট্রি অ্যান্ড সিভিলাইজেশন, স্কাল্পচার এবং সেইল, ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগে রয়েছে দুটি করে শ্রেণিকক্ষ। অন্যদিকে রসায়ন, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, ইংরেজি, ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি, আইন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, ফার্মেসি, পদার্থবিজ্ঞান, প্রিন্টমেকিং ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগ তিনটির বেশি ক্লাসরুম পাচ্ছে না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন জানান, নতুন বিভাগ চালুর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার প্ল্যানের অংশ হলেও এখনই এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। অবকাঠামোগত সংকট নিরসন, পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ এবং মানসম্মত শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করার পরই কেবল এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, খুলনার পাইকগাছায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস চালু হলে সেখানে প্রাথমিকভাবে চার থেকে পাঁচটি বিভাগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম স্পষ্ট করেছেন যে, নতুন বিভাগ চালুর ক্ষেত্রে ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো, পরিধি, শিক্ষক সংখ্যা ও শিক্ষার মান বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দুই বছর আগে ভাষা শিক্ষা বিভাগ চালুর অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হলেও এখনো তার অনুমোদন মেলেনি। তাই প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও অবকাঠামো নিশ্চিত হওয়ার পরই নতুন বিভাগ চালুর চূড়ান্ত উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন বিভাগ চালুর আগে বিদ্যমান ক্লাসরুম সংকট দূর করা এবং কার্যকর শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষার মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh