ঢাকা ১২:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডারউইন টেস্টের জন্য শক্তিশালী একাদশ ঘোষণা করল অস্ট্রেলিয়া সিলেটে নিজ বাসায় স্বামী-স্ত্রী ও মেয়ের গলাকাটা লাশ উদ্ধার মাধ্যমিকের ৮৫ শতাংশ শিক্ষকেরই নেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি নতুন ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিকে স্বাগত জানাল কাতার ভারত থেকে আসছে বাংলাদেশ রেলওয়ের ১৯টি নতুন কোচ সাবেক প্রেসিডেন্ট ও এস আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ব্যাংকার সাময়িক বরখাস্ত খুলনার রূপসায় ইটভাটায় পাহারার সময় গুলি করে যুবক হত্যা হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, দাবি ট্রাম্পের র‍্যাব বিলুপ্ত করে আসছে এসআরবি, খসড়া আইনে যা থাকছে রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির প্রস্তুতি সম্পন্ন

মাধ্যমিকের ৮৫ শতাংশ শিক্ষকেরই নেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৩:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ইংরেজি ও গণিত পড়ানো শিক্ষকদের একটি বিশাল অংশের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেই। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইংরেজি শিক্ষকদের ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং গণিত শিক্ষকদের ৮৬ দশমিক ৭৮ শতাংশেরই নির্ধারিত বিষয়ের ওপর উচ্চশিক্ষার কোনো ডিগ্রি নেই।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে গত ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ চিত্র ফুটে উঠেছে। এই ফলাফলের বিশ্লেষণে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও গণিতে চরম দুর্বলতা বিশেষভাবে লক্ষ্য করা গেছে। শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শ্রেণিকক্ষে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের তীব্র সংকট এবং প্রশিক্ষণের ঘাটতিই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ।

ব্যানবেইসের পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট ৬৪ হাজার ১৪৭ জন গণিত শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে বিষয়ভিত্তিক ডিগ্রিধারী মাত্র ১৩ দশমিক ২২ শতাংশ। অর্থাৎ ৮৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ শিক্ষক অন্য বিষয়ের ডিগ্রি নিয়েও গণিত পড়াচ্ছেন। একইভাবে, ৬০ হাজার ৮৫৭ জন ইংরেজি শিক্ষকের মধ্যে মাত্র ৯ হাজার ৩৭৬ জন বা ১৫ দশমিক ৪ শতাংশের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি রয়েছে। বাকি ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষক অন্য বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের মতে, অনেক শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে গণিতের পর্যাপ্ত অনুশীলনের চেয়ে সূত্র ও নিয়ম মুখস্থ করানোর ওপর বেশি জোর দেন। ফলে পরীক্ষার প্রশ্নে সামান্য পরিবর্তন এলেই শিক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়ে। বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় বাধ্য হয়েই অন্য বিষয়ের শিক্ষকদের দিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পড়ানো হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ভিত্তি দুর্বল করে দিচ্ছে।

এসএসসি পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহ বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার সবচেয়ে কম, ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এছাড়া বরিশাল বোর্ডে ৬৯ দশমিক ২৪, সিলেট বোর্ডে ৬৯ দশমিক ১১, যশোর বোর্ডে ৭১ দশমিক ৮৪, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৭২ দশমিক ২৭, রাজশাহী বোর্ডে ৭৪ দশমিক ৭০, ঢাকা বোর্ডে ৭৮ দশমিক ৪০ এবং কুমিল্লা বোর্ডে ৮১ দশমিক ২৯ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে পাস করেছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৯৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। গণিতের ক্ষেত্রেও ময়মনসিংহ ও মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার ৬৯ শতাংশের ঘরে আটকে আছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আব্দুল হালিম বলেন, সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠানেই দীর্ঘদিন ধরে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট চলছে। দক্ষ শিক্ষকদের এই পেশায় আকৃষ্ট করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী গ্রামীণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই সংকটকে প্রকট হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষক সংকট দূর করার পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা এবং শহর ও গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য কমানো প্রয়োজন।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মাধ্যমিক বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন খান জানিয়েছেন, সরকারি ও বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠানের শূন্যপদ যাচাই করে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এসব পদ পূরণের চেষ্টা চলছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

মাধ্যমিকের ৮৫ শতাংশ শিক্ষকেরই নেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি

আপডেট সময় : ১২:২৩:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
print news

দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ইংরেজি ও গণিত পড়ানো শিক্ষকদের একটি বিশাল অংশের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেই। বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইংরেজি শিক্ষকদের ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং গণিত শিক্ষকদের ৮৬ দশমিক ৭৮ শতাংশেরই নির্ধারিত বিষয়ের ওপর উচ্চশিক্ষার কোনো ডিগ্রি নেই।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে গত ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ চিত্র ফুটে উঠেছে। এই ফলাফলের বিশ্লেষণে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও গণিতে চরম দুর্বলতা বিশেষভাবে লক্ষ্য করা গেছে। শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শ্রেণিকক্ষে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের তীব্র সংকট এবং প্রশিক্ষণের ঘাটতিই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ।

ব্যানবেইসের পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট ৬৪ হাজার ১৪৭ জন গণিত শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে বিষয়ভিত্তিক ডিগ্রিধারী মাত্র ১৩ দশমিক ২২ শতাংশ। অর্থাৎ ৮৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ শিক্ষক অন্য বিষয়ের ডিগ্রি নিয়েও গণিত পড়াচ্ছেন। একইভাবে, ৬০ হাজার ৮৫৭ জন ইংরেজি শিক্ষকের মধ্যে মাত্র ৯ হাজার ৩৭৬ জন বা ১৫ দশমিক ৪ শতাংশের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি রয়েছে। বাকি ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষক অন্য বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের মতে, অনেক শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে গণিতের পর্যাপ্ত অনুশীলনের চেয়ে সূত্র ও নিয়ম মুখস্থ করানোর ওপর বেশি জোর দেন। ফলে পরীক্ষার প্রশ্নে সামান্য পরিবর্তন এলেই শিক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়ে। বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় বাধ্য হয়েই অন্য বিষয়ের শিক্ষকদের দিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পড়ানো হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ভিত্তি দুর্বল করে দিচ্ছে।

এসএসসি পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহ বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার সবচেয়ে কম, ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এছাড়া বরিশাল বোর্ডে ৬৯ দশমিক ২৪, সিলেট বোর্ডে ৬৯ দশমিক ১১, যশোর বোর্ডে ৭১ দশমিক ৮৪, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৭২ দশমিক ২৭, রাজশাহী বোর্ডে ৭৪ দশমিক ৭০, ঢাকা বোর্ডে ৭৮ দশমিক ৪০ এবং কুমিল্লা বোর্ডে ৮১ দশমিক ২৯ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে পাস করেছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৯৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। গণিতের ক্ষেত্রেও ময়মনসিংহ ও মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার ৬৯ শতাংশের ঘরে আটকে আছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আব্দুল হালিম বলেন, সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের প্রতিষ্ঠানেই দীর্ঘদিন ধরে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট চলছে। দক্ষ শিক্ষকদের এই পেশায় আকৃষ্ট করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী গ্রামীণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই সংকটকে প্রকট হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষক সংকট দূর করার পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা এবং শহর ও গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য কমানো প্রয়োজন।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মাধ্যমিক বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন খান জানিয়েছেন, সরকারি ও বেসরকারি উভয় প্রতিষ্ঠানের শূন্যপদ যাচাই করে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এসব পদ পূরণের চেষ্টা চলছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din