২০৩০ সালের মধ্যে চার কোটি মানুষকে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে আনার লক্ষ্য
- আপডেট সময় : ০৯:২৯:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ২৬। দেশের প্রান্তিক ও সাধারণ মানুষের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় চার কোটি মানুষকে এই সুরক্ষাবলয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান।
বর্তমানে প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস—এই চারটি স্কিমে মোট তিন লাখ ৭৯ হাজার ৬৫৫ জন গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন, যাদের জমানো ফান্ডের পরিমাণ ২৯১ কোটি ১৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা। ড. সুরাতুজ্জামান জানান, এই তহবিল সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিযুক্ত। এই অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়, যা অত্যন্ত নিরাপদ। বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফার হার ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১১.৭২ শতাংশ, যা বর্তমান মূল্যস্ফীতির হারের চেয়ে বেশি। এছাড়া মাসিক চাঁদার বিপরীতে কর রেয়াত এবং প্রাপ্ত পেনশনের ওপর আয়করমুক্ত সুবিধাও রয়েছে।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধান বাধা হলো সচেতনতার অভাব। তবে ইউটিউব, পত্রিকা ও বিভিন্ন মেলায় প্রচারণার মাধ্যমে মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়ছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর গত কয়েক মাসে আমাদের ফেসবুক ভিউ তিন হাজার থেকে বেড়ে ২৬-২৭ হাজারে উন্নীত হয়েছে। রাজনৈতিক পরিবর্তন বা ফান্ড নিয়ে কোনো উদ্বেগের অবকাশ নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন, কারণ বর্তমান সরকার পেনশন ফান্ড গঠনের বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক।
ড. সুরাতুজ্জামান আরও জানান, অতীতে দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে অনেক ব্যাংক-বীমা ও করপোরেশনের তহবিল তছরুপ হলেও এই পেনশন তহবিলে কেউ হাত দিতে পারেনি। প্রায় ১৫০ কোটি টাকার মতো ফান্ড তখনো সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ছিল। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের রাজনৈতিক ইশতেহারে পেনশন ফান্ড গঠনের কথা বলা থাকায় তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত ইতিবাচক।
প্রবাসীদের জন্য এই স্কিম সহজ করতে প্রবাসী কল্যাণ সচিব ও গ্রিসের হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং বিশ্বের সব দূতাবাসে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তাৎক্ষণিকভাবে টাকা তোলার বিধান না থাকলেও, বিশেষ পরিস্থিতিতে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি অ্যাকচুয়ারিয়াল গাইডলাইনের পর চূড়ান্ত করা হবে। এছাড়া নমিনির বয়সসীমা ৭৫ থেকে বাড়িয়ে ৮০ বছর করা হয়েছে এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহযোগিতায় শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর কাজ চলছে।
ড. সুরাতুজ্জামানের মতে, বার্ধক্যকালীন আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বজনীন পেনশন স্কিম একটি দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর উদ্যোগ। স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।





























