ঢাকা ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত ৫ গুণ বাড়ালো ইসি মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির নতুন সময়সূচি ঘোষণা নোয়াখালীতে নিম্নমানের সেতু নির্মাণ, দুই প্রকৌশলীর কৈফিয়ত তলব নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন বরিশালে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ সাবেক সাত এমপি ও তাদের স্বজনদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা আপা আর ফিরে আসবে না, খুনিদের ছাড় নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বারিধারায় গাড়িচাপা: কিশোর চালক আজান আলী শরীফ অবশেষে গ্রেপ্তার সম্ভাবনা থেকে সংকটে গণঅধিকার পরিষদ: রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার লড়াই মাস্টার্স পরীক্ষার আগেই বিচারক হলেন ইবির রাজু আহমেদ

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি, আগস্টে আয় ৮১৭ মিলিয়ন ডলার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৬:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের সুবাতাস বইছে। গত আগস্ট মাসে একক মাস হিসেবে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে দেশের তৈরি পোশাক খাত (আরএমজি)। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের আগস্টের তুলনায় এ বছরের আগস্টে দেশটিতে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৫.৬৫ শতাংশ। এই একক মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ৮১৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ, যা আগের বছরের একই মাসে ছিল ৬৫০.৩৪ মিলিয়ন ডলার।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস অর্থাৎ জুলাই ও আগস্ট মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে মোট ১.৬১ বিলিয়ন ডলার। এই অঙ্ক আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১১.৪২ শতাংশ বেশি। অর্থবছরের এই শুরুর দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানির মাসিক গড় দাঁড়িয়েছে ৮০৬.৪৬ মিলিয়ন ডলার। যেখানে বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো রপ্তানিকে ১২ মাসের গড়ে হিসাব করলে মাসিক গড় ছিল can ৬৪৫.৩৮ মিলিয়ন ডলার। মূলত আগস্টের শক্তিশালী ২৫.৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করেই চলতি অর্থবছরের শুরুতে এই ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশি পণ্যের জন্য একক বৃহত্তম রপ্তানি বাজার হলো যুক্তরাষ্ট্র। বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৯.০৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ৪.০৯ শতাংশ বেশি। মোট আয়ের মধ্যে তৈরি পোশাক খাত থেকেই এসেছে ৭.৭৪ বিলিয়ন ডলার। বাকি প্রায় ১.৩০ বিলিয়ন ডলার এসেছে পোশাকের বাইরে অন্যান্য পণ্য থেকে। পোশাক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের তালিকায় রয়েছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক ও মেলামাইন পণ্য, টেক্সটাইল ও সুতা, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল পণ্য এবং জুতা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আরও বাড়াতে ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, হালকা প্রকৌশল এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

রপ্তানি বৃদ্ধির এই ধারাকে দেশের উদ্যোক্তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। দেশের অন্যতম শীর্ষ পোশাক উদ্যোক্তা ও এফবিসিসিআই-এর বর্তমান প্রশাসক মো. ফজলুল হক জানান, আগস্ট মাসে সাধারণত শীতকালীন পোশাকের ক্রয়াদেশ দেওয়ার শেষ সময় থাকে। এই শেষ সময়ের কার্যাদেশের কারণেই আগস্টে রপ্তানিতে এমন উল্লম্ফন দেখা গেছে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের নিজস্ব সক্ষমতা রয়েছে, যার ফলে এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। সামনের মাসগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে ভালো অর্ডার পাওয়া যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

একই ধরনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ও ফতুল্লা অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে শামীম এহসান। তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, দেশের উদ্যোক্তারা তা দারুণভাবে কাজে লাগাচ্ছেন। তবে এই ধারা বজায় রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সরকারের নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহিউদ্দিন রুবেল পোশাক রপ্তানির বর্তমান গতিকে অত্যন্ত আশাব্যাঞ্জক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি হিসাব করে দেখান, রপ্তানির এই গতি যদি আগামী ১২ মাস অব্যাহত থাকে, তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পণ্যের বহুমুখীকরণ, উচ্চমূল্য সংযোজন ও মানোন্নয়নের পাশাপাশি জ্বালানি ও অন্যান্য ইউটিলিটি সেবা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে প্রায় ৯.০৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি, আগস্টে আয় ৮১৭ মিলিয়ন ডলার

আপডেট সময় : ০৯:৪৬:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের সুবাতাস বইছে। গত আগস্ট মাসে একক মাস হিসেবে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে দেশের তৈরি পোশাক খাত (আরএমজি)। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের আগস্টের তুলনায় এ বছরের আগস্টে দেশটিতে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৫.৬৫ শতাংশ। এই একক মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ৮১৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ, যা আগের বছরের একই মাসে ছিল ৬৫০.৩৪ মিলিয়ন ডলার।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস অর্থাৎ জুলাই ও আগস্ট মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে মোট ১.৬১ বিলিয়ন ডলার। এই অঙ্ক আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১১.৪২ শতাংশ বেশি। অর্থবছরের এই শুরুর দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানির মাসিক গড় দাঁড়িয়েছে ৮০৬.৪৬ মিলিয়ন ডলার। যেখানে বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো রপ্তানিকে ১২ মাসের গড়ে হিসাব করলে মাসিক গড় ছিল can ৬৪৫.৩৮ মিলিয়ন ডলার। মূলত আগস্টের শক্তিশালী ২৫.৬৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করেই চলতি অর্থবছরের শুরুতে এই ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশি পণ্যের জন্য একক বৃহত্তম রপ্তানি বাজার হলো যুক্তরাষ্ট্র। বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৯.০৪ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ৪.০৯ শতাংশ বেশি। মোট আয়ের মধ্যে তৈরি পোশাক খাত থেকেই এসেছে ৭.৭৪ বিলিয়ন ডলার। বাকি প্রায় ১.৩০ বিলিয়ন ডলার এসেছে পোশাকের বাইরে অন্যান্য পণ্য থেকে। পোশাক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের তালিকায় রয়েছে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক ও মেলামাইন পণ্য, টেক্সটাইল ও সুতা, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল পণ্য এবং জুতা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আরও বাড়াতে ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, হালকা প্রকৌশল এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

রপ্তানি বৃদ্ধির এই ধারাকে দেশের উদ্যোক্তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন। দেশের অন্যতম শীর্ষ পোশাক উদ্যোক্তা ও এফবিসিসিআই-এর বর্তমান প্রশাসক মো. ফজলুল হক জানান, আগস্ট মাসে সাধারণত শীতকালীন পোশাকের ক্রয়াদেশ দেওয়ার শেষ সময় থাকে। এই শেষ সময়ের কার্যাদেশের কারণেই আগস্টে রপ্তানিতে এমন উল্লম্ফন দেখা গেছে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের নিজস্ব সক্ষমতা রয়েছে, যার ফলে এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। সামনের মাসগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে ভালো অর্ডার পাওয়া যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

একই ধরনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ও ফতুল্লা অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে শামীম এহসান। তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, দেশের উদ্যোক্তারা তা দারুণভাবে কাজে লাগাচ্ছেন। তবে এই ধারা বজায় রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সরকারের নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মহিউদ্দিন রুবেল পোশাক রপ্তানির বর্তমান গতিকে অত্যন্ত আশাব্যাঞ্জক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি হিসাব করে দেখান, রপ্তানির এই গতি যদি আগামী ১২ মাস অব্যাহত থাকে, তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পণ্যের বহুমুখীকরণ, উচ্চমূল্য সংযোজন ও মানোন্নয়নের পাশাপাশি জ্বালানি ও অন্যান্য ইউটিলিটি সেবা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে প্রায় ৯.০৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin