ঢাকা ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ-আফগানিস্তান টেস্টের সঙ্গে থাকছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের জমজমাট লড়াই পানামায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, ধসে পড়েছে বহু ভবন ৮ হাজার লবণচাষি মাঠে নামার অপেক্ষায়, শঙ্কায় ন্যায্যমূল্য ইরান যুদ্ধের খেসারত দিচ্ছে জনগণ, ট্রাম্পকে দুষলেন ডেমোক্র্যাটরা চাপ অব্যাহত থাকলে মোদি সরকারের পতন নিশ্চিত: রাহুল গান্ধী ১১ বছর ধরে বন্ধ এমআরআই, দিনাজপুর মেডিকেলে ব্যাহত চিকিৎসাসেবা ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নাভি পিলাই শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের জন্য বিগত সরকারকে দায়ী করলেন রিজভী মাদারগঞ্জে আরও দুটি কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে বাপেক্স শিক্ষকদের বেতন সংকটে বন্ধ লামার মিরিঞ্জা প্রাথমিক বিদ্যালয়

সস্তা প্যাকেটজাত খাবারে ভারতের নির্ভরশীলতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বিতর্ক

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:২০:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ভারতের বাজারে ম্যাগি ইনস্ট্যান্ট নুডলস কিংবা থামস আপের মতো সস্তা প্যাকেটজাত খাবারের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী একই ব্র্যান্ডের পুষ্টিকর সংস্করণ বিক্রি হলেও ভারতে কেন এসব খাবারের মান ভিন্ন, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। নিম্ন পারিবারিক আয়ের কারণে ভারতীয় ভোক্তারা মূলত সাশ্রয়ী মূল্যের এসব পণ্যের দিকেই বেশি ঝুঁকে থাকেন। এই বিশাল বাজারের সুযোগ নিয়ে বড় খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য দেশের তুলনায় ভারতে তুলনামূলক শিথিল খাদ্যমান অনুসরণ করার সুযোগ পেয়েছে।

পরিস্থিতি এখন পরিবর্তনের দিকে। ভারতের খাদ্যনিরাপত্তা ও মান কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই) গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, কোনো খাদ্যপণ্যে সরকারের নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি যোগ করা চিনি, লবণ বা সম্পৃক্ত চর্বি থাকলে প্যাকেটে আরও কঠোর লাল সতর্কতামূলক লেবেল চালু করা হতে পারে। এর আগে ধাপে ধাপে এই লেবেল চালুর প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা প্রশ্ন তোলার পর এফএসএসএআই এই অবস্থান জানিয়েছে। অল ইন্ডিয়া ফুড প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, প্রস্তাবিত লেবেল ব্যবস্থা চালু হলে ভারতে প্যাকেটজাত খাবারের ৮০ শতাংশেই অতিরিক্ত চর্বি, চিনি বা লবণ রয়েছে বলে সতর্কতামূলক চিহ্ন দিতে হতে পারে।

ভারতে অতিরিক্ত চিনির ব্যবহার বিশেষ উদ্বেগের বিষয়। বিশ্বে মোট ডায়াবেটিস রোগীর প্রায় এক-চতুর্থাংশই ভারতে। ডেনমার্কের ওষুধ কোম্পানি নোভো নরডিস্কের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ১০ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং প্রিডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১৩ কোটি ৬০ লাখ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এর জন্য প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যবহারকেও আংশিকভাবে দায়ী করেছেন।

ভারতে প্যাকেটজাত খাবারের বাজার দ্রুত বড় হচ্ছে। গত বছর দেশটিতে প্যাকেটজাত খাবারের বাজার ছিল ১২৯ দশমিক ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। চলতি বছর সেটি বেড়ে ১৩৭ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আইএমএআরসি গ্রুপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩৪ সালে এই বাজার ২৩৮ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

সুইজারল্যান্ডের খাদ্যপণ্য প্রতিষ্ঠান নেসলের ম্যাগি নুডলস ১৯৮৩ সালে ভারতে প্রথম বাজারে আসে। তখন সদ্য কর্মজীবনে প্রবেশ করা মা ও শিশুদের লক্ষ্য করে পণ্যটির প্রচার চালানো হতো। বর্তমানে ভারত নেসলের সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা অঞ্চল। নেসলের দাবি, স্থানীয় স্বাদের পছন্দ, খাদ্যসংস্কৃতি ও আবহাওয়ার ওপর ভিত্তি করে তারা পণ্যের রেসিপি নির্ধারণ করে। তবে ভারতে ম্যাগির সব ধরনের নুডলসেই পাম তেল ব্যবহার করা হয়, যেখানে যুক্তরাজ্যে বিক্রি হওয়া অনেক সংস্করণে তুলনামূলক বেশি দামের সূর্যমুখী তেল ব্যবহার করা হয়। একইভাবে অস্ট্রেলিয়ায় বিক্রি হওয়া কিটক্যাটের তুলনায় ভারতের কিটক্যাটে কোকোর পরিমাণ কম।

ইউনিলিভারের ভারতের সাবেক বিপণন কর্মকর্তা শশাঙ্ক মেহতা বলেন, এটি জাতীয় গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—কেন ভারতকে কম দেওয়া হবে? প্রতিষ্ঠানগুলো কেন আমার হয়ে সিদ্ধান্ত নেবে যে আমি ভালো উপাদান কিনতে পারব না? নেসলের সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উন্নত মানের উপাদান ব্যবহার করলে খরচ বাড়ে, যা দাম নিয়ে সচেতন বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।

কোকাকোলা কোম্পানির থামস আপও স্থানীয় স্বাদের সঙ্গে মানিয়ে কয়েক দশকে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ভারতে থামস আপের বার্ষিক বিক্রি ১০০ কোটি ডলারের বেশি। ১৯৯৩ সালে প্রায় ৬ কোটি ডলারে কোকাকোলা ব্র্যান্ডটি কিনে নেয়। চিলিতে ২০১৬ সালে খাদ্যপণ্যের লেবেল দেওয়ার আইন চালুর পর চিনিযুক্ত পানীয়ের বিক্রি ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমে গিয়েছিল। ভারতেও এমন কঠোর লেবেল ব্যবস্থার দাবি জোরালো হচ্ছে, যদিও কোকাকোলা এবং নেসলে ও পেপসিকোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন সংগঠন অতীতে এর বিরোধিতা করেছিল।

মন্ডেলেজের ভারতীয় ইউনিটের সাবেক কর্মকর্তা পারুল শর্মা বলেন, ভারতে অনেক পণ্যের রেসিপি কয়েক দশক আগে এমন ভোক্তাদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছিল, যাঁরা দাম নিয়ে খুবই সচেতন। সেই রেসিপিগুলোই পরবর্তী সময়ে চালু রাখা হয়েছে। ভোক্তাদের দীর্ঘদিনের আনুগত্য হারানোর ঝুঁকি না নিয়ে এক রাতের মধ্যে কোনো পণ্যের রেসিপি বদলে ফেলা বড় কোম্পানিগুলোর জন্য কঠিন।

১৯১২ সালে নেসলে তৎকালীন ব্রিটিশ উপনিবেশ ভারতে চিনিযুক্ত ঘন দুধ বিক্রি শুরু করে।

তখন দেশটির স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বড় অংশই ছিল অত্যন্ত দরিদ্র।ইউনিলিভার ১৯৩৭ সালে ভারতে ‘ডালডা’ বিক্রি শুরু করে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

সস্তা প্যাকেটজাত খাবারে ভারতের নির্ভরশীলতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বিতর্ক

আপডেট সময় : ০৮:২০:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের বাজারে ম্যাগি ইনস্ট্যান্ট নুডলস কিংবা থামস আপের মতো সস্তা প্যাকেটজাত খাবারের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী একই ব্র্যান্ডের পুষ্টিকর সংস্করণ বিক্রি হলেও ভারতে কেন এসব খাবারের মান ভিন্ন, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। নিম্ন পারিবারিক আয়ের কারণে ভারতীয় ভোক্তারা মূলত সাশ্রয়ী মূল্যের এসব পণ্যের দিকেই বেশি ঝুঁকে থাকেন। এই বিশাল বাজারের সুযোগ নিয়ে বড় খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য দেশের তুলনায় ভারতে তুলনামূলক শিথিল খাদ্যমান অনুসরণ করার সুযোগ পেয়েছে।

পরিস্থিতি এখন পরিবর্তনের দিকে। ভারতের খাদ্যনিরাপত্তা ও মান কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই) গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, কোনো খাদ্যপণ্যে সরকারের নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি যোগ করা চিনি, লবণ বা সম্পৃক্ত চর্বি থাকলে প্যাকেটে আরও কঠোর লাল সতর্কতামূলক লেবেল চালু করা হতে পারে। এর আগে ধাপে ধাপে এই লেবেল চালুর প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা প্রশ্ন তোলার পর এফএসএসএআই এই অবস্থান জানিয়েছে। অল ইন্ডিয়া ফুড প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, প্রস্তাবিত লেবেল ব্যবস্থা চালু হলে ভারতে প্যাকেটজাত খাবারের ৮০ শতাংশেই অতিরিক্ত চর্বি, চিনি বা লবণ রয়েছে বলে সতর্কতামূলক চিহ্ন দিতে হতে পারে।

ভারতে অতিরিক্ত চিনির ব্যবহার বিশেষ উদ্বেগের বিষয়। বিশ্বে মোট ডায়াবেটিস রোগীর প্রায় এক-চতুর্থাংশই ভারতে। ডেনমার্কের ওষুধ কোম্পানি নোভো নরডিস্কের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ১০ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং প্রিডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১৩ কোটি ৬০ লাখ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এর জন্য প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যবহারকেও আংশিকভাবে দায়ী করেছেন।

ভারতে প্যাকেটজাত খাবারের বাজার দ্রুত বড় হচ্ছে। গত বছর দেশটিতে প্যাকেটজাত খাবারের বাজার ছিল ১২৯ দশমিক ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। চলতি বছর সেটি বেড়ে ১৩৭ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আইএমএআরসি গ্রুপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩৪ সালে এই বাজার ২৩৮ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

সুইজারল্যান্ডের খাদ্যপণ্য প্রতিষ্ঠান নেসলের ম্যাগি নুডলস ১৯৮৩ সালে ভারতে প্রথম বাজারে আসে। তখন সদ্য কর্মজীবনে প্রবেশ করা মা ও শিশুদের লক্ষ্য করে পণ্যটির প্রচার চালানো হতো। বর্তমানে ভারত নেসলের সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা অঞ্চল। নেসলের দাবি, স্থানীয় স্বাদের পছন্দ, খাদ্যসংস্কৃতি ও আবহাওয়ার ওপর ভিত্তি করে তারা পণ্যের রেসিপি নির্ধারণ করে। তবে ভারতে ম্যাগির সব ধরনের নুডলসেই পাম তেল ব্যবহার করা হয়, যেখানে যুক্তরাজ্যে বিক্রি হওয়া অনেক সংস্করণে তুলনামূলক বেশি দামের সূর্যমুখী তেল ব্যবহার করা হয়। একইভাবে অস্ট্রেলিয়ায় বিক্রি হওয়া কিটক্যাটের তুলনায় ভারতের কিটক্যাটে কোকোর পরিমাণ কম।

ইউনিলিভারের ভারতের সাবেক বিপণন কর্মকর্তা শশাঙ্ক মেহতা বলেন, এটি জাতীয় গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—কেন ভারতকে কম দেওয়া হবে? প্রতিষ্ঠানগুলো কেন আমার হয়ে সিদ্ধান্ত নেবে যে আমি ভালো উপাদান কিনতে পারব না? নেসলের সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উন্নত মানের উপাদান ব্যবহার করলে খরচ বাড়ে, যা দাম নিয়ে সচেতন বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।

কোকাকোলা কোম্পানির থামস আপও স্থানীয় স্বাদের সঙ্গে মানিয়ে কয়েক দশকে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ভারতে থামস আপের বার্ষিক বিক্রি ১০০ কোটি ডলারের বেশি। ১৯৯৩ সালে প্রায় ৬ কোটি ডলারে কোকাকোলা ব্র্যান্ডটি কিনে নেয়। চিলিতে ২০১৬ সালে খাদ্যপণ্যের লেবেল দেওয়ার আইন চালুর পর চিনিযুক্ত পানীয়ের বিক্রি ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমে গিয়েছিল। ভারতেও এমন কঠোর লেবেল ব্যবস্থার দাবি জোরালো হচ্ছে, যদিও কোকাকোলা এবং নেসলে ও পেপসিকোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন সংগঠন অতীতে এর বিরোধিতা করেছিল।

মন্ডেলেজের ভারতীয় ইউনিটের সাবেক কর্মকর্তা পারুল শর্মা বলেন, ভারতে অনেক পণ্যের রেসিপি কয়েক দশক আগে এমন ভোক্তাদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছিল, যাঁরা দাম নিয়ে খুবই সচেতন। সেই রেসিপিগুলোই পরবর্তী সময়ে চালু রাখা হয়েছে। ভোক্তাদের দীর্ঘদিনের আনুগত্য হারানোর ঝুঁকি না নিয়ে এক রাতের মধ্যে কোনো পণ্যের রেসিপি বদলে ফেলা বড় কোম্পানিগুলোর জন্য কঠিন।

১৯১২ সালে নেসলে তৎকালীন ব্রিটিশ উপনিবেশ ভারতে চিনিযুক্ত ঘন দুধ বিক্রি শুরু করে।

তখন দেশটির স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বড় অংশই ছিল অত্যন্ত দরিদ্র।ইউনিলিভার ১৯৩৭ সালে ভারতে ‘ডালডা’ বিক্রি শুরু করে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo