পোশাক খাতের ৫০ লাখ শ্রমিককে সর্বজনীন পেনশনে আনার উদ্যোগ
- আপডেট সময় : ১০:৩০:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

তৈরি পোশাক শিল্পের প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিককে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় নিয়ে আসতে যৌথভাবে কাজ জোরদার করবে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট খাতের নেতারা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে পোশাক শ্রমিকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পেনশন স্কিম একটি অত্যন্ত কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা বলয় হিসেবে কাজ করবে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নুরুল কাদের অডিটরিয়ামে আয়োজিত ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ক আলোচনা সভায়’ এসব তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য শেখ কামরুল হাসান। তিনি উল্লেখ করেন, উন্নত বিশ্বের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও প্রবীণ বয়সে নাগরিকদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকার এই সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করেছে, যা আগামী প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান, যিনি এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্বও করেন। তিনি জানান, ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী যেকোনো নাগরিক এই স্কিমে অংশ নিতে পারবেন এবং ৬০ বছর পূর্ণ হওয়ার পর থেকে নিয়মিত পেনশন সুবিধা পাবেন। এছাড়া কোনো গ্রাহক পেনশন পাওয়ার বয়স হওয়ার আগেই মারা গেলে, তার মনোনীত নমিনি জমাকৃত পুরো অর্থ মুনাফাসহ ফেরত পাবেন। কোনো গ্রাহক সাময়িক আর্থিক সংকটে পড়লে চাঁদার পরিমাণ সমন্বয়ের সুযোগও রাখা হয়েছে।
ড. মো. সুরাতুজ্জামান আরও জানান, সর্বজনীন পেনশন কার্যক্রমকে আরও বেগবান ও শক্তিশালী করতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শ্রম আইন ২০২৬-এর সংশোধনী অনুযায়ী, যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন, সেখানে শ্রমিকদের পেনশনের আওতায় আনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুততম সময়ে তাদের শ্রমিকদের জন্য পেনশন হিসাব খোলার পদক্ষেপ নিতে হবে।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। তিনি বলেন, পোশাক খাতের শ্রমিকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের যত দ্রুত সম্ভব পেনশনের আওতায় আনা জরুরি। শ্রমিকদের এই স্কিমে অংশ নিতে উৎসাহিত করার জন্য প্রথম দুই বছর সরকারি প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব করেন তিনি। একই সঙ্গে পোশাক শ্রমিকদের ক্ষেত্রে পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করারও দাবি জানান বিজিএমইএ সভাপতি।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিককে এই বিশাল ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা এবং তা নিয়মিত পরিচালনা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এটি নিঃসন্দেহে একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও দূরদর্শী উদ্যোগ। সংগঠনের সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিমের সম্ভাব্য আকর্ষণীয় মুনাফার হার শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষায় বড় অবদান রাখতে পারে। এ লক্ষ্যে শ্রমিকদের সম্পৃক্ত করতে বিজিএমইএ সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামবে।
উক্ত আলোচনা সভায় বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানার মালিক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং খাতসংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দেশের প্রধান রপ্তানিমুখী খাত তৈরি পোশাক শিল্পের বিশাল কর্মীবাহিনীকে পেনশনের আওতায় আনা সম্ভব হলে সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ আর্থিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে।





























