সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার নির্ধারণ এখন সময়ের দাবি
- আপডেট সময় : ১০:২১:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

কোভিড-১৯ মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং সর্বশেষ মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে দীর্ঘ সময় ধরে দেশের অর্থনীতি চাপের মধ্যে রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিগত সরকারের আমল থেকে চলে আসা নিম্নমুখী অর্থনৈতিক সূচক। এই প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের বর্ধিত দাম এবং দেশি-বিদেশি ঋণ পরিশোধের বাড়তি চাপের কারণে সরকারের ওপর আর্থিক বোঝা আরও ভারী হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের মতে, এই পরিস্থিতিতে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর সুযোগ সীমিত। তাই সরকারি ব্যয় খাতগুলো পর্যালোচনা করে খরচের অগ্রাধিকার ঠিক করাই এখন সবচেয়ে বড় বিকল্প। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামোর জন্য বাড়তি ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে, যা গত অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আদায় করা শুল্ক-করের প্রায় ২৫ শতাংশ। অথচ সরকারের এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগানের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
জাহিদ হোসেন আরও বলেন, সরকারের মনোভাব এমন যে, আজকের সমস্যা কাল দেখা যাবে, যেন কেউ এসে বেলআউট করবে। কিন্তু বর্তমান রাজস্ব প্রশাসনের সক্ষমতা দিয়ে ৪৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা কঠিন, যা এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রার অংশ। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬০-৭০ ডলার থেকে বেড়ে ৯৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং এলএনজির দামও দ্বিগুণ হয়েছে। এই বাড়তি খরচ মেটানোর জন্য টাকা ছাপানো বা ধারদেনা করা কোনো সঠিক সমাধান নয়।
অর্থনীতিবিদের মতে, এটি কোনো এককালীন সমস্যা নয় বরং প্রতিবছরই এই বাড়তি বেতন-ভাতার জন্য ১ লাখ কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন হবে এবং তা চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়বে। তাই সংস্কারহীন রাজস্ব কাঠামোর ওপর নির্ভর না করে সরকারি ব্যয় কমানোর সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হবে এবং ব্যয়ের অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে।





























