ঢাকা ০১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গ্রাম ও শহর: জীবনযাত্রার ভিন্নতা, শিশুদের স্বাস্থ্যে এগিয়ে গ্রাম উখিয়ায় বিজিবিকে লক্ষ্য করে গুলি, দেড় লাখ ইয়াবা উদ্ধার আজ বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৪তম আত্মাহুতি দিবস হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজ উদ্ধারে ইরানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ৫ দিনের আলটিমেটাম দিল ইরান জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা ও বাড়তি চাপ লোক দেখানো ইবাদত থেকে বাঁচার উপায় ও করণীয় জমি ছাড়ার নোটিশে দিশেহারা নাটোরের দিনমজুরের কলেজপড়ুয়া তিন মেয়ে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হলেন নোমান মাহমুদ হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী

মার্কিন কোম্পানি গানভোরের সঙ্গে ১ লাখ কোটি টাকার এলএনজি চুক্তি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি গানভোর ইউএসএ এলএলসির কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ১২ বছরে বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী প্রায় এক লাখ কোটি টাকার এলএনজি কেনা হবে। এই ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার জ্বালানি খাত সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় এবং সরাসরি সরকার টু সরকার (জিটুজি) চুক্তির মাধ্যমে।

জ্বালানি বিভাগের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত ১২ বছরে গানভোর ইউএসএর কাছ থেকে মোট ১১৭ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। এর মধ্যে ২০২৬ সালে ৫টি, ২০২৭ সালে ৬টি এবং ২০২৮ সালে ৩টি কার্গো সরবরাহ করবে প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রথম পর্বের গ্যাসের দাম নির্ধারিত হবে জেকেএম (জাপান-কোরিয়া মার্কেট) প্লাস প্রতি এমএমবিটিইউ-তে দশমিক ০৮৭৫ ডলার ফর্মুলায়। পরবর্তীতে ২০২৮ সালে আরও ৩টি কার্গো এবং ২০২৯ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ১০টি করে কার্গো সরবরাহ করা হবে। দ্বিতীয় এই পর্বের গ্যাসের মূল্য প্রতি এমএমবিটিইউতে মার্কিন হ্যানরিহাব সূচকের ১২১ শতাংশ প্লাস ৫ দশমিক ২০ ডলার হিসেবে নির্ধারণ করা হবে। উল্লেখ্য, হ্যানরিহাব সূচক অনুযায়ী সম্প্রতি প্রতি এমএমবিটিইউ গ্যাসের দাম ছিল ২ দশমিক ৭০ ডলার।

বর্তমানে পেট্রোবাংলা স্পট মার্কেট থেকে প্রতিযোগিতামূলক দরে গানভোর সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে এলএনজি কিনে থাকে। তবে এবার সরাসরি মার্কিন মূল প্রতিষ্ঠান গানভোর ইউএসএর কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদে এই গ্যাস কেনা হবে। এর বাইরে মার্কিন আরেক কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গেও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে কাতার থেকে এলএনজি আমদানিতে বিঘ্ন ঘটায় এক্সিলারেট এনার্জি বর্তমানে বাংলাদেশকে এলএনজি সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কোম্পানিটির দাবি, যুদ্ধের কারণে কাতার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা সেখান থেকে গ্যাস পাচ্ছে না।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশের কোম্পানির সাথে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বাংলাদেশ এখন চুক্তির আওতাভুক্ত বেশিরভাগ কার্গো পাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে স্পট মার্কেট থেকে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে সরকারকে। বর্তমানে প্রতি কার্গো এলএনজি আমদানিতে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ৯০০ কোটি টাকার বেশি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা কেটে গেলে এই ব্যয় কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সাধারণত বছরে প্রায় ১১৫টি কার্গো এলএনজি আমদানি করে থাকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই পরিমাণ এলএনজি আমদানিতে ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

বর্তমানে দেশে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। দৈনিক ৩৮০ কোটি ঘনফুটের বেশি চাহিদার বিপরীতে স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ করা হতো ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস। তবে গত ২১ জুলাই মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর সরবরাহ পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। বর্তমানে দেশে দৈনিক মাত্র ২১৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে গানভোরের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি এই চুক্তি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor

নিউজটি শেয়ার করুন

মার্কিন কোম্পানি গানভোরের সঙ্গে ১ লাখ কোটি টাকার এলএনজি চুক্তি

আপডেট সময় : ০৬:০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি গানভোর ইউএসএ এলএলসির কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ১২ বছরে বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী প্রায় এক লাখ কোটি টাকার এলএনজি কেনা হবে। এই ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার জ্বালানি খাত সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় এবং সরাসরি সরকার টু সরকার (জিটুজি) চুক্তির মাধ্যমে।

জ্বালানি বিভাগের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত ১২ বছরে গানভোর ইউএসএর কাছ থেকে মোট ১১৭ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। এর মধ্যে ২০২৬ সালে ৫টি, ২০২৭ সালে ৬টি এবং ২০২৮ সালে ৩টি কার্গো সরবরাহ করবে প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রথম পর্বের গ্যাসের দাম নির্ধারিত হবে জেকেএম (জাপান-কোরিয়া মার্কেট) প্লাস প্রতি এমএমবিটিইউ-তে দশমিক ০৮৭৫ ডলার ফর্মুলায়। পরবর্তীতে ২০২৮ সালে আরও ৩টি কার্গো এবং ২০২৯ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ১০টি করে কার্গো সরবরাহ করা হবে। দ্বিতীয় এই পর্বের গ্যাসের মূল্য প্রতি এমএমবিটিইউতে মার্কিন হ্যানরিহাব সূচকের ১২১ শতাংশ প্লাস ৫ দশমিক ২০ ডলার হিসেবে নির্ধারণ করা হবে। উল্লেখ্য, হ্যানরিহাব সূচক অনুযায়ী সম্প্রতি প্রতি এমএমবিটিইউ গ্যাসের দাম ছিল ২ দশমিক ৭০ ডলার।

বর্তমানে পেট্রোবাংলা স্পট মার্কেট থেকে প্রতিযোগিতামূলক দরে গানভোর সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে এলএনজি কিনে থাকে। তবে এবার সরাসরি মার্কিন মূল প্রতিষ্ঠান গানভোর ইউএসএর কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদে এই গ্যাস কেনা হবে। এর বাইরে মার্কিন আরেক কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গেও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে কাতার থেকে এলএনজি আমদানিতে বিঘ্ন ঘটায় এক্সিলারেট এনার্জি বর্তমানে বাংলাদেশকে এলএনজি সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কোম্পানিটির দাবি, যুদ্ধের কারণে কাতার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা সেখান থেকে গ্যাস পাচ্ছে না।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশের কোম্পানির সাথে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বাংলাদেশ এখন চুক্তির আওতাভুক্ত বেশিরভাগ কার্গো পাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে স্পট মার্কেট থেকে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে সরকারকে। বর্তমানে প্রতি কার্গো এলএনজি আমদানিতে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ৯০০ কোটি টাকার বেশি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা কেটে গেলে এই ব্যয় কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সাধারণত বছরে প্রায় ১১৫টি কার্গো এলএনজি আমদানি করে থাকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই পরিমাণ এলএনজি আমদানিতে ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

বর্তমানে দেশে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। দৈনিক ৩৮০ কোটি ঘনফুটের বেশি চাহিদার বিপরীতে স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ করা হতো ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস। তবে গত ২১ জুলাই মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর সরবরাহ পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। বর্তমানে দেশে দৈনিক মাত্র ২১৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে গানভোরের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি এই চুক্তি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Jugantor