একনেকে উঠছে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী

- আপডেট সময় : ০৯:৩৩:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ ছয় মাসের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প 'ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে'-এর দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উঠছে। আগামী বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠেয় এই সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে। পরিকল্পনা বিভাগ এই বৈঠকের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের সংশোধনী অনুমোদিত হলে এর নকশায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ যুক্ত হবে। এর মধ্যে রয়েছে বাইপাইল ইন্টারচেঞ্জ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে প্রবেশ ও বহির্গমন সুবিধা এবং নির্মাণাধীন এমআরটি লাইন-১ (পাতাল মেট্রোরেল)-এর সঙ্গে সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব সংযোজন রাজধানী ও এর আশপাশের সড়ক নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।
প্রকল্পের ব্যয় বড় পরিসরে বাড়ানোরও প্রস্তাব করা হয়েছে। মূল অনুমোদনে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯০১ কোটি ৩২ লাখ টাকা, যা প্রথম সংশোধনীতে বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। দ্বিতীয় সংশোধনীতে আরও নয় হাজার ৬৮০ কোটি টাকা যোগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে মোট ব্যয় দাঁড়াবে ২৬ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা, যা মূল প্রাক্কলনের তুলনায় প্রায় ৫৫ দশমিক ১৫ শতাংশ বেশি। ব্যয় বাড়ার কারণ হিসেবে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, ভ্যাট ও আয়কর কাঠামোর পরিবর্তন, কাস্টমস শুল্ক বৃদ্ধি, ইউটিলিটি স্থানান্তর, অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ, পরামর্শক সেবার ব্যয় এবং নতুন অবকাঠামো সংযোজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি চীন সরকারের অর্থায়নে জি-টু-জি (সরকার-টু-সরকার) ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। মোট ব্যয়ের মধ্যে পাঁচ হাজার ৯৫১ কোটি ৪১ লাখ টাকা সরকারি তহবিল থেকে এবং ১০ হাজার ৯৪৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা চীনের ঋণ থেকে আসবে। প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর কাওলা থেকে আব্দুল্লাহপুর, কামারপাড়া, ধউর, আশুলিয়া, জিরাবো, বাইপাইল ও সাভার ইপিজেড হয়ে শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি চালু হলে উত্তরাঞ্চলগামী যানবাহনের যাতায়াত সহজ হবে এবং বিমানবন্দর এলাকা, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও এশিয়ান হাইওয়ের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত হবে।
প্রকল্পটির সময়সীমা বাড়ানোরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঋণচুক্তি বিলম্বিত হওয়ায় তা পিছিয়ে যায়। বর্তমানে মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত থাকলেও, অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত সময় নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পে ১১ হাজার ৭৩৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে, যার আর্থিক অগ্রগতি ৬৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ। বাস্তবায়নকারী সংস্থার তথ্যমতে, ভৌত কাজের অগ্রগতি ইতোমধ্যে ৫৮ দশমিক পাঁচ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য, একই একনেক সভায় ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ছাড়াও আরও আটটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। তালিকায় ভোলা জেলার নদীভাঙন রোধ, দিনাজপুর ও পল্লী সড়ক উন্নয়ন, সামাজিক অবকাঠামো, দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, গ্যাস অনুসন্ধান, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সুবিধা সম্প্রসারণ-সংক্রান্ত প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।



























