ঢাকা ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে নতুন আশাবাদ, নিউইয়র্কে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নিউইয়র্কে মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে ব্যর্থতার সুযোগ নেই: রুহুল আমিন হাওলাদার রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর নাটোর সদর উপজেলায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মারা গেলেন মাদ্রাসা শিক্ষক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের মঞ্চে ট্রাম্পের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট ওমান উপকূলে মিসাইল হামলার কবলে বাংলাদেশি নাবিকদের জাহাজ ইবির সাদ্দাম হলের একই কক্ষের তিন বন্ধু হলেন সিভিল জজ

রাজধানীতে বেপরোয়া ছিনতাইকারী চক্র, বাড়ছে উদ্বেগ ও প্রাণহানি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:১৪:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজধানী ঢাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ক্রমশ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে। ব্যস্ত সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে পথচারীদের টার্গেট করে টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিচ্ছে অপরাধীরা। কোথাও মোটরসাইকেলে এসে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে, আবার কোথাও পথচারীদের গতিরোধ করে এই অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। ছিনতাইকারীদের হামলায় প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটায় নগরবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান ও গ্রেপ্তারের দাবি করলেও একের পর এক ঘটনায় তাদের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠছে।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে বেশ কয়েকটি নৃশংস ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৯ আগস্ট ভোরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন সড়কে ছিনতাইকারীদের হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে নিহত হন বগুড়ার একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা রনজিনা পারভীন। একই দিন রাজধানীর কদমতলীতে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে জনি (৩৫) নামের এক যুবক নিহত হন। এর আগে, ২৬ জুলাই মোহাম্মদপুর রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের সামনে ছিনতাইকারীদের হাতে প্রাণ হারান ২৫ বছর বয়সি যুবক ফজলে রাব্বি সুমন। গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকালে পল্লবীর প্যারিস রোড সংলগ্ন কাঁঠালতলা মাঠে সজীব (২৪) নামের এক তরুণকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে ছিনতাইকারীরা। এছাড়া গত ১১ জুন শেরে বাংলানগর থানা এলাকায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন।

পুলিশের ডেটাবেজ অনুযায়ী, ঢাকায় চিহ্নিত ছিনতাইকারীর সংখ্যা ১,৩৪৩ জন। এদের অনেকের নাম ও ছবি বিভিন্ন থানার নোটিশ বোর্ডে টাঙানো রয়েছে। তবে পুলিশের আটটি জোনে মোট ১,৪৫৩ জন ছিনতাইকারীর তালিকা রয়েছে। এর মধ্যে তেজগাঁও বিভাগে ২২১ জন, মিরপুরে ১২৮ জন, উত্তরায় ১৫৫ জন, ওয়ারীতে ২৩১ জন, মতিঝিলে ২০৮ জন, লালবাগে ১২৯ জন, রমনায় ১৭৮ জন এবং গুলশান বিভাগে ৯৩ জন ছিনতাইকারী সক্রিয় রয়েছে। অপরাধীদের একটি বড় অংশ মাদকাসক্ত, যারা মাদকের টাকা জোগাড় করতে ছিনতাইয়ে জড়ায়। বাধা দিলে তারা ভুক্তভোগীদের হত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করে না।

ছিনতাইয়ের মামলা ও গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত ঢাকায় ২৮১টি ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মোট মামলা হয়েছে ১৭২টি। এর মধ্যে তেজগাঁও বিভাগে ৩৪টি, রমনায় ১৭টি, লালবাগে ৫টি, ওয়ারীতে ৩৮টি, মতিঝিলে ২৫টি, মিরপুরে ১৬টি, গুলশানে ২০টি এবং উত্তরায় ১৭টি মামলা রেকর্ড করা হয়। এসব মামলায় মোট ৩৯৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে চিহ্নিত ছিনতাইকারীরা প্রায়ই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেও পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

অপরাধের ধরন পরিবর্তনের বিষয়ে জানা গেছে, আগে ছিনতাইকারীরা ভয় দেখিয়ে মালামাল লুটে পালাত, কিন্তু এখন তারা শুরুতেই ভুক্তভোগীকে আঘাত করে জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। এতে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দোকানিরা চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন। এছাড়া উত্তরার আবদুল্লাহপুর ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় টানাপার্টির উৎপাত এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। এদের অনেকেই ভাসমান ছিনতাইকারী, যারা রাতে ঢাকায় ছিনতাই করে দিনের বেলা আশপাশের জেলাগুলোতে আত্মগোপন করে। ফলে তাদের ধরতে পুলিশকে বেগ পেতে হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়ে। ওই সময় দেশের কয়েকটি কারাগার থেকে দাগি অপরাধীরা পালিয়ে যায় এবং অনেকে জামিনে মুক্তি পায়। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকার থানাগুলো থেকে অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়। নতুন কর্মকর্তাদের কাছে অপরাধের ডেটা বিশ্লেষণ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকায় ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অনেক এলাকায় রাতে পুলিশের টহল কমে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ছিনতাই রোধে পুলিশের টহল ও কঠোর অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুকি জানান, ছিনতাই প্রতিরোধে সরকার ও বিচার বিভাগ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের জামিনের তীব্র বিরোধিতা করা হচ্ছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছিনতাইকারীরা এখন সংঘবদ্ধ ও প্রশিক্ষিত চক্রে পরিণত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক জানান, ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ও সময়গুলো চিহ্নিত করে দৃশ্যমান পুলিশি টহল বাড়াতে হবে এবং ভুক্তভোগীদের মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই অপরাধ এখন বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে এবং এর পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো কোনো সদস্যের যোগসাজশ থাকতে পারে, যা খতিয়ে দেখা জরুরি।

রাজধানীর চিহ্নিত ছিনতাই হটস্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে যাত্রাবাড়ীর ধলপুর, কমলাপুর বটতলা, খিলগাঁও, মালিবাগ রেলগেট, দৈনিক বাংলা মোড়, পীরজঙ্গি মাজার ক্রসিং, মতিঝিল কালভার্ট রোড, হাতিরঝিলের নাসিরের টেক, শাহবাগ, গুলবাগ, রাজউক ক্রসিং, পল্টন মোড়ের ইউবিএল ক্রসিং, গোলাপ শাহ মাজার ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং এবং আব্দুল গণি রোড। এছাড়া মানিকনগর স্টেডিয়ামের সামনে, নন্দীপাড়া ব্রিজ, বাসাবো ক্রসিং, মোহাম্মদপুরের বসিলা, বনানী রেলগেট, চেয়ারম্যানবাড়ী, উত্তরার আবদুল্লাহপুর ও কল্যাণপুর মূল সড়কেও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজধানীতে বেপরোয়া ছিনতাইকারী চক্র, বাড়ছে উদ্বেগ ও প্রাণহানি

আপডেট সময় : ০৪:১৪:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানী ঢাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ক্রমশ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে। ব্যস্ত সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে পথচারীদের টার্গেট করে টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিচ্ছে অপরাধীরা। কোথাও মোটরসাইকেলে এসে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে, আবার কোথাও পথচারীদের গতিরোধ করে এই অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। ছিনতাইকারীদের হামলায় প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটায় নগরবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান ও গ্রেপ্তারের দাবি করলেও একের পর এক ঘটনায় তাদের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠছে।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে বেশ কয়েকটি নৃশংস ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৯ আগস্ট ভোরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন সড়কে ছিনতাইকারীদের হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে নিহত হন বগুড়ার একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা রনজিনা পারভীন। একই দিন রাজধানীর কদমতলীতে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে জনি (৩৫) নামের এক যুবক নিহত হন। এর আগে, ২৬ জুলাই মোহাম্মদপুর রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের সামনে ছিনতাইকারীদের হাতে প্রাণ হারান ২৫ বছর বয়সি যুবক ফজলে রাব্বি সুমন। গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকালে পল্লবীর প্যারিস রোড সংলগ্ন কাঁঠালতলা মাঠে সজীব (২৪) নামের এক তরুণকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে ছিনতাইকারীরা। এছাড়া গত ১১ জুন শেরে বাংলানগর থানা এলাকায় ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন।

পুলিশের ডেটাবেজ অনুযায়ী, ঢাকায় চিহ্নিত ছিনতাইকারীর সংখ্যা ১,৩৪৩ জন। এদের অনেকের নাম ও ছবি বিভিন্ন থানার নোটিশ বোর্ডে টাঙানো রয়েছে। তবে পুলিশের আটটি জোনে মোট ১,৪৫৩ জন ছিনতাইকারীর তালিকা রয়েছে। এর মধ্যে তেজগাঁও বিভাগে ২২১ জন, মিরপুরে ১২৮ জন, উত্তরায় ১৫৫ জন, ওয়ারীতে ২৩১ জন, মতিঝিলে ২০৮ জন, লালবাগে ১২৯ জন, রমনায় ১৭৮ জন এবং গুলশান বিভাগে ৯৩ জন ছিনতাইকারী সক্রিয় রয়েছে। অপরাধীদের একটি বড় অংশ মাদকাসক্ত, যারা মাদকের টাকা জোগাড় করতে ছিনতাইয়ে জড়ায়। বাধা দিলে তারা ভুক্তভোগীদের হত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করে না।

ছিনতাইয়ের মামলা ও গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত ঢাকায় ২৮১টি ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত মোট মামলা হয়েছে ১৭২টি। এর মধ্যে তেজগাঁও বিভাগে ৩৪টি, রমনায় ১৭টি, লালবাগে ৫টি, ওয়ারীতে ৩৮টি, মতিঝিলে ২৫টি, মিরপুরে ১৬টি, গুলশানে ২০টি এবং উত্তরায় ১৭টি মামলা রেকর্ড করা হয়। এসব মামলায় মোট ৩৯৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে চিহ্নিত ছিনতাইকারীরা প্রায়ই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেও পরবর্তী সময়ে জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

অপরাধের ধরন পরিবর্তনের বিষয়ে জানা গেছে, আগে ছিনতাইকারীরা ভয় দেখিয়ে মালামাল লুটে পালাত, কিন্তু এখন তারা শুরুতেই ভুক্তভোগীকে আঘাত করে জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। এতে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দোকানিরা চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন। এছাড়া উত্তরার আবদুল্লাহপুর ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় টানাপার্টির উৎপাত এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। এদের অনেকেই ভাসমান ছিনতাইকারী, যারা রাতে ঢাকায় ছিনতাই করে দিনের বেলা আশপাশের জেলাগুলোতে আত্মগোপন করে। ফলে তাদের ধরতে পুলিশকে বেগ পেতে হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়ে। ওই সময় দেশের কয়েকটি কারাগার থেকে দাগি অপরাধীরা পালিয়ে যায় এবং অনেকে জামিনে মুক্তি পায়। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকার থানাগুলো থেকে অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়। নতুন কর্মকর্তাদের কাছে অপরাধের ডেটা বিশ্লেষণ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকায় ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অনেক এলাকায় রাতে পুলিশের টহল কমে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ছিনতাই রোধে পুলিশের টহল ও কঠোর অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুকি জানান, ছিনতাই প্রতিরোধে সরকার ও বিচার বিভাগ কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামিদের জামিনের তীব্র বিরোধিতা করা হচ্ছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছিনতাইকারীরা এখন সংঘবদ্ধ ও প্রশিক্ষিত চক্রে পরিণত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক জানান, ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ও সময়গুলো চিহ্নিত করে দৃশ্যমান পুলিশি টহল বাড়াতে হবে এবং ভুক্তভোগীদের মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই অপরাধ এখন বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে এবং এর পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো কোনো সদস্যের যোগসাজশ থাকতে পারে, যা খতিয়ে দেখা জরুরি।

রাজধানীর চিহ্নিত ছিনতাই হটস্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে যাত্রাবাড়ীর ধলপুর, কমলাপুর বটতলা, খিলগাঁও, মালিবাগ রেলগেট, দৈনিক বাংলা মোড়, পীরজঙ্গি মাজার ক্রসিং, মতিঝিল কালভার্ট রোড, হাতিরঝিলের নাসিরের টেক, শাহবাগ, গুলবাগ, রাজউক ক্রসিং, পল্টন মোড়ের ইউবিএল ক্রসিং, গোলাপ শাহ মাজার ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং এবং আব্দুল গণি রোড। এছাড়া মানিকনগর স্টেডিয়ামের সামনে, নন্দীপাড়া ব্রিজ, বাসাবো ক্রসিং, মোহাম্মদপুরের বসিলা, বনানী রেলগেট, চেয়ারম্যানবাড়ী, উত্তরার আবদুল্লাহপুর ও কল্যাণপুর মূল সড়কেও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh