ঢাকা ০৩:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সোনারগাঁয়ে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ১২ ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে ট্যাব ও প্রশিক্ষণ শুরু সমাজসেবা অধিদপ্তরের জাতিসংঘে আজ প্রথম ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান না ফেরার দেশে প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রেসিডেন্ট বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল, কারণ জানাল রয়টার্স টেকসই উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান ববি হাজ্জাজের স্কুলে ঢুকে ছাত্রকে মারধর, ছাত্রদল সভাপতি আজীবন বহিষ্কার আফগানিস্তানের ১০টি লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানের বিমান ও ড্রোন হামলা দাউদকান্দি থানায় ১৭ কিশোরের পালানোর অভিযোগ, অস্বীকার পুলিশের

খিলক্ষেতে স্ত্রীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন, মরদেহ উদ্ধারের পর স্বামী গ্রেপ্তার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:১০:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজধানীর খিলক্ষেতে স্ত্রী মুক্তা ইসলামকে শিকল দিয়ে বেঁধে ও বেল্ট দিয়ে নির্মম নির্যাতনের পর তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বামী সোহেল শিকদারকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নির্যাতনের একটি ৩ মিনিটের ভিডিও মুক্তার ভাইয়ের মোবাইলে পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন সোহেল। এর কয়েক দিন পরই মুক্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় খিলক্ষেত থানায় মামলা দায়ের করেছেন নিহতের ভাই তানভীর রহমান।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবি এবং পরকীয়ার মিথ্যা সন্দেহে দীর্ঘদিন ধরে মুক্তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাচ্ছিলেন সোহেল। বরিশাল বাকেরগঞ্জের বাসিন্দা এই দম্পতি খিলক্ষেতে বসবাস করতেন। সেখানে মুদি ও এমব্রয়ডারি ব্যবসায় লোকসানের পর থেকেই সোহেল যৌতুকের জন্য চাপ দিতে শুরু করেন। পরিবারের দাবি, নির্যাতনের একপর্যায়ে মুক্তাকে হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

নির্মম সেই নির্যাতনের সময় মুক্তার দুই শিশুসন্তান সাফওয়ান (৫) ও তাসফিয়া (৪) পাশের ঘরে বসে মায়ের কান্না দেখে কাঁদছিল। নির্যাতনের সেই ভিডিওতে শোনা যায়, মুক্তা তার স্বামীর কাছে কাকুতি-মিনতি করে বলছিলেন, সন্তানদের ঘুম পাড়িয়ে আসার সুযোগ দিতে। কিন্তু সোহেল তাতে কান দেননি। ভিডিওতে মুক্তা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে স্বামীর প্রতি ভালোবাসার কথা জানালেও সোহেলের বেল্টের আঘাত ও গালিগালাজ থামেনি।

মুক্তার ভাই তানভীর রহমান জানান, কয়েক মাস আগে সোহেল তার কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। সেই টাকা দিতে দেরি হওয়ায় মুক্তাকে নিয়মিত মারধর করা হতো। বাবার মৃত্যুর পর মা অনেক কষ্টে চার ভাই-বোনকে বড় করেছেন। পরিবারের সম্মানের কথা চিন্তা করে মুক্তা এতদিন স্বামীর সব নির্যাতন সহ্য করে গোপন রেখেছিলেন। এখন মায়ের মৃত্যুর পর থেকে তাদের দুই শিশুসন্তান অনবরত কাঁদছে এবং বলছে যে তাদের বাবা তাদের মাকে মেরে ঝুলিয়ে রেখেছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৩০ আগস্ট মুক্তাকে বেল্ট দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। সেই নির্যাতনের ভিডিও সোহেল নিজে এক স্বজনের কাছে পাঠান। এর তিন দিন পর ৩ সেপ্টেম্বর স্বজনরা মুক্তার মরদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পান। তবে পুলিশ আসার আগেই মরদেহটি নামানো হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ সোহরাব আল হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার হওয়া নির্যাতনের ভিডিওটি মুক্তার মৃত্যুর তিন দিন আগের। প্রধান অভিযুক্ত সোহেল শিকদারকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মুক্তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং তদন্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

খিলক্ষেতে স্ত্রীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন, মরদেহ উদ্ধারের পর স্বামী গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ১১:১০:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর খিলক্ষেতে স্ত্রী মুক্তা ইসলামকে শিকল দিয়ে বেঁধে ও বেল্ট দিয়ে নির্মম নির্যাতনের পর তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বামী সোহেল শিকদারকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নির্যাতনের একটি ৩ মিনিটের ভিডিও মুক্তার ভাইয়ের মোবাইলে পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন সোহেল। এর কয়েক দিন পরই মুক্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় খিলক্ষেত থানায় মামলা দায়ের করেছেন নিহতের ভাই তানভীর রহমান।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবি এবং পরকীয়ার মিথ্যা সন্দেহে দীর্ঘদিন ধরে মুক্তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাচ্ছিলেন সোহেল। বরিশাল বাকেরগঞ্জের বাসিন্দা এই দম্পতি খিলক্ষেতে বসবাস করতেন। সেখানে মুদি ও এমব্রয়ডারি ব্যবসায় লোকসানের পর থেকেই সোহেল যৌতুকের জন্য চাপ দিতে শুরু করেন। পরিবারের দাবি, নির্যাতনের একপর্যায়ে মুক্তাকে হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

নির্মম সেই নির্যাতনের সময় মুক্তার দুই শিশুসন্তান সাফওয়ান (৫) ও তাসফিয়া (৪) পাশের ঘরে বসে মায়ের কান্না দেখে কাঁদছিল। নির্যাতনের সেই ভিডিওতে শোনা যায়, মুক্তা তার স্বামীর কাছে কাকুতি-মিনতি করে বলছিলেন, সন্তানদের ঘুম পাড়িয়ে আসার সুযোগ দিতে। কিন্তু সোহেল তাতে কান দেননি। ভিডিওতে মুক্তা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে স্বামীর প্রতি ভালোবাসার কথা জানালেও সোহেলের বেল্টের আঘাত ও গালিগালাজ থামেনি।

মুক্তার ভাই তানভীর রহমান জানান, কয়েক মাস আগে সোহেল তার কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। সেই টাকা দিতে দেরি হওয়ায় মুক্তাকে নিয়মিত মারধর করা হতো। বাবার মৃত্যুর পর মা অনেক কষ্টে চার ভাই-বোনকে বড় করেছেন। পরিবারের সম্মানের কথা চিন্তা করে মুক্তা এতদিন স্বামীর সব নির্যাতন সহ্য করে গোপন রেখেছিলেন। এখন মায়ের মৃত্যুর পর থেকে তাদের দুই শিশুসন্তান অনবরত কাঁদছে এবং বলছে যে তাদের বাবা তাদের মাকে মেরে ঝুলিয়ে রেখেছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৩০ আগস্ট মুক্তাকে বেল্ট দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। সেই নির্যাতনের ভিডিও সোহেল নিজে এক স্বজনের কাছে পাঠান। এর তিন দিন পর ৩ সেপ্টেম্বর স্বজনরা মুক্তার মরদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পান। তবে পুলিশ আসার আগেই মরদেহটি নামানো হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ সোহরাব আল হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার হওয়া নির্যাতনের ভিডিওটি মুক্তার মৃত্যুর তিন দিন আগের। প্রধান অভিযুক্ত সোহেল শিকদারকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মুক্তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং তদন্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh