ঢাকা ০১:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় রাজধানীর বাজারে সবজির চড়া দাম তিন জোড়া কবুতরে শুরু, এখন সংসারের হাল ধরেছেন স্বপ্না রানী চট্টগ্রামের এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি রেলের টিকিট কালোবাজারি বন্ধে এক মাসের দায়িত্ব চাইলেন মাহবুব কবীর পিরোজপুরে ভেজাল শিশুখাদ্য তৈরির কারখানা সিলগালা, মালিকের কারাদণ্ড নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা: ছাত্রদল নেতার স্বীকারোক্তিতে কুষ্টিয়ায় তোলপাড় আইএমএফের সঙ্গে ৪৫০ কোটি ডলারের নতুন ঋণচুক্তি হতে পারে ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আর ফেরা হবে না, শঙ্কা তসলিমা নাসরিনের থাইরয়েড সচেতনতা ও আধুনিক চিকিৎসায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জীবননগর সীমান্তে ভারতে পালানোর সময় ২ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

দৌলতপুরে মাদ্রাসা শিক্ষককে ঘিরে পুলিশের ওপর হামলা, আহত ৬

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:২২:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা ও মব থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার খলিশাকুন্ডি এলাকার ‘মারকাজুল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ মাদ্রাসা’ প্রাঙ্গণে এই ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ ও ধস্তাধস্তিতে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদুর রহমান ও তিন পুলিশ সদস্যসহ মোট ছয়জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, গত বুধবার রাতে ওই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালান মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও মুহতামিম আশিকুল্লাহ (৪০)। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তার পরিবারকে জানালে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এর জেরে বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় লোকজন একত্রিত হয়ে মব সৃষ্টি করে অভিযুক্ত প্রিন্সিপালকে মাদ্রাসার একটি কক্ষে আটকে রাখেন।

ঘটনার খবর পেয়ে দৌলতপুর থানার ওসি খালিদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা বাধা দেয় এবং শিক্ষককে ছিনিয়ে নিয়ে মারধরের চেষ্টা করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের নিবৃত্ত করতে গেলে জনতার সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষ বাধে। এতে ওসিসহ পুলিশের তিনজন এবং স্থানীয় তিনজন আহত হন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা মিঠু অভিযোগ করে বলেন, “লোকমুখে জানতে পারি মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাঝেমধ্যেই আমার ছেলের সঙ্গে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করতেন। পরে ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলে সে সব খুলে বলে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।” স্থানীয়দের অনেকের অভিযোগ, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন অসদাচরণের নানা গুঞ্জন ও মৌখিক অভিযোগ ছিল।

অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আশিকুল্লাহ যশোরের বাঘারপাড়া থানার জামদিয়া এলাকার মৃত ক্বারী এনামুল্লার ছেলে। তবে ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মবের কবল থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়। পুলিশের ওপর হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

দৌলতপুরে মাদ্রাসা শিক্ষককে ঘিরে পুলিশের ওপর হামলা, আহত ৬

আপডেট সময় : ১২:২২:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এক মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা ও মব থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার খলিশাকুন্ডি এলাকার ‘মারকাজুল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ মাদ্রাসা’ প্রাঙ্গণে এই ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ ও ধস্তাধস্তিতে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদুর রহমান ও তিন পুলিশ সদস্যসহ মোট ছয়জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, গত বুধবার রাতে ওই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালান মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও মুহতামিম আশিকুল্লাহ (৪০)। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তার পরিবারকে জানালে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এর জেরে বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় লোকজন একত্রিত হয়ে মব সৃষ্টি করে অভিযুক্ত প্রিন্সিপালকে মাদ্রাসার একটি কক্ষে আটকে রাখেন।

ঘটনার খবর পেয়ে দৌলতপুর থানার ওসি খালিদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা বাধা দেয় এবং শিক্ষককে ছিনিয়ে নিয়ে মারধরের চেষ্টা করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের নিবৃত্ত করতে গেলে জনতার সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষ বাধে। এতে ওসিসহ পুলিশের তিনজন এবং স্থানীয় তিনজন আহত হন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা মিঠু অভিযোগ করে বলেন, “লোকমুখে জানতে পারি মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাঝেমধ্যেই আমার ছেলের সঙ্গে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করতেন। পরে ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলে সে সব খুলে বলে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।” স্থানীয়দের অনেকের অভিযোগ, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন অসদাচরণের নানা গুঞ্জন ও মৌখিক অভিযোগ ছিল।

অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আশিকুল্লাহ যশোরের বাঘারপাড়া থানার জামদিয়া এলাকার মৃত ক্বারী এনামুল্লার ছেলে। তবে ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মবের কবল থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেয়। পুলিশের ওপর হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin