মাগুরায় বিদ্যুৎ বিলের জালিয়াতি: পল্লী বিদ্যুতের জিএম সাময়িক বরখাস্ত
- আপডেট সময় : ০৪:১৭:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসে অবিশ্বাস্য এক বিদ্যুৎ বিল ইস্যু করা হয়। মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিল দেখানো হয় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের জরুরি নির্দেশনায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ডেইলি বাংলাদেশে ‘মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিল ৫০৬ কোটি টাকা!’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি বিদ্যুৎমন্ত্রীর নজরে আসে। মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ভুক্তভোগী গ্রাহকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন এবং এই ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। বিলটি ইতিমধ্যে সংশোধন করে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন সমস্যা হলে সরাসরি কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন মন্ত্রী।
বিলটির বিবরণ অনুযায়ী, ৮ আগস্ট মিটারের রিডিং ছিল ১৬০ এবং ৮ সেপ্টেম্বর তা দাঁড়ায় ৩৯৫। অর্থাৎ এক মাসে ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট। অথচ স্বাভাবিক বিলের সঙ্গে ডিমান্ড চার্জ হিসেবে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা, ভ্যাট বাবদ ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করে এই বিশাল অংকের বিল তৈরি করা হয়। নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ এই বিল ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকায় পৌঁছাত। অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য প্রকৃত বিল হওয়ার কথা ছিল মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ এর পরিমাণ দাঁড়ানোর কথা ২ হাজার ৫৬ টাকা। গত ১০ সেপ্টেম্বর বিলটি ইস্যু করা হয় এবং পরিশোধের শেষ সময় ছিল ২৯ সেপ্টেম্বর।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, মিটার পরিবর্তনের সময় অসাবধানতাবশত মিটারের সিল নম্বরের অঙ্কগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে ভুলবশত পোস্টিং হয়ে গিয়েছিল। মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিমও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে একই ধরনের ত্রুটির কথা জানিয়েছিলেন। বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার জনবান্ধব প্রশাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর এবং বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দ্রুত সমাধান করা হবে।
যেভাবে ৫০৭ কোটি টাকার বিল মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা.
ক্যাপশন: মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৭ কোটি টাকার বিল দেওয়ার ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের জিএমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।




























