পাবনায় স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কের গর্ত ভরাট করলেন স্থানীয় তরুণরা
- আপডেট সময় : ০৪:০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

পাবনা শহরের প্রাণকেন্দ্র লতিফ টাওয়ার থেকে জেনারেল হাসপাতাল পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ পথচারী, রোগী ও তাদের স্বজনরা। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির বড় বড় খানাখন্দে জরুরি রোগী পরিবহন মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত স্থানীয় তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবীরা নিজ উদ্যোগে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার কাজে নেমেছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, লতিফ টাওয়ার থেকে জেনারেল হাসপাতালমুখী সড়কের বিভিন্ন স্থানের গভীর গর্তে ইট, খোয়া ও বালু ফেলে ভরাট করছেন একদল স্বেচ্ছাসেবী। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) পাবনা জেলা শাখার সদস্য সচিব ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমানের নেতৃত্বে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য, তরুণ ও রাজনৈতিক কর্মীরা এই কার্যক্রমে অংশ নেন।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটির দুই পাশে জেলার একমাত্র বক্ষব্যাধি হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন জেলা সদর ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে শত শত রোগী ও প্রসূতি এই পথ ব্যবহার করেন। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটিতে প্রতিনিয়ত যানবাহন বিকল হওয়া, দুর্ঘটনা ও ভোগান্তির ঘটনা ঘটছে। অ্যাম্বুলেন্সচালক আরমান বলেন, স্বাভাবিক সময়ে লতিফ টাওয়ার থেকে হাসপাতালে পৌঁছাতে তিন মিনিট লাগার কথা থাকলেও রাস্তার বর্তমান অবস্থার কারণে ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লেগে যাচ্ছে। রোগী নিয়ে দ্রুত চলার সুযোগ নেই, কারণ তীব্র ঝাঁকুনিতে শারীরিক অবস্থার অবনতির ভয় থাকে। অটোরিকশাচালক রফিকুল ইসলাম জানান, স্বেচ্ছাসেবীদের এই উদ্যোগে কিছুটা স্বস্তি মিললেও স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত পাকা রাস্তা নির্মাণ প্রয়োজন।
উদ্যোগের বিষয়ে ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমান বলেন, প্রতিদিন প্রসূতি ও গুরুতর রোগীদের এই পথে যাতায়াতের কষ্ট দেখাটা খুবই উদ্বেগজনক। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক মিনিট সময়ও রোগীর জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তার কারণে সেই সময় নষ্ট হওয়া খুবই উদ্বেগজনক। এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়, তবে মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা কমাতেই তারা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এই কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরও সড়কটির সংস্কার না হওয়ায় তারা কাজ করছেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত স্থায়ী সংস্কারকাজ শুরু করবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা স্বেচ্ছাসেবীদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে দ্রুত সড়কটির স্থায়ী সংস্কার ও আধুনিকায়নের দাবি জানিয়েছেন। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রসূতি ও জটিল রোগীদের জন্য প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাঙাচোরা সড়কের ঝাঁকুনিতে রোগীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির স্থায়ী সংস্কারের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।




























