ঢাকা ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মহাসপ্তমীতে সারা দেশে শারদীয় দুর্গাপূজার উৎসবমুখর আনুষ্ঠানিকতা জ্বালানি ভর্তুকি ও সংস্কারের কঠিন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ, আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা জিম্বাবুয়ে ম্যাচের আগে অতীত ভুলে লিটনের বার্তা, আলিসের অভিষেকের ইঙ্গিত সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: কারণ জানতে চেয়ে সৌ‌দিকে চি‌ঠি সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক ব্যবসার বিরোধে সাহেব আলী হত্যা, শুটার রনি গ্রেপ্তার যুদ্ধবিরতির পর গাজায় ৩৪০ শিশুকে হত্যা করেছে ইসরাইল: ইউনিসেফ হরমুজ প্রণালিতে মাইনের সঙ্গে ধাক্কা, তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ দেশে প্রয়োজনীয় সব টিকা পাওয়া শিশুর হার কমেছে, প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত গলছে ডুমসডে গ্লেসিয়ার, বাড়ছে বন্যার ঝুঁকি গাজীপুরে আকিজ রিসোর্সের ইনোভারের ‘সাফল্যের যাত্রা’ বিজনেস মিটআপ

মিষ্টি ও শাড়ির মেলায় দর্শনার্থীদের নজর কাড়ল ‘ব্র্যান্ড টাঙ্গাইল’

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:০৮:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী পোড়াবাড়ির চমচম ও তাঁতের শাড়ির সমাহারে শহরজুড়ে বসেছিল উৎসবের আমেজ। শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসনের তিন দিনব্যাপী প্রথম ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল’-এ দর্শনার্থীদের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে ‘ব্র্যান্ড টাঙ্গাইল’ গড়ে তোলার নতুন উদ্যোগ। গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়ে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত চলা এই মেলায় মিষ্টি আর শাড়ির চিরচেনা রূপকে ছাড়িয়ে এক সুতোয় বাঁধার এই প্রয়াস প্রশংসা কুড়িয়েছে সবার। মেলা ঘিরে সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকলেও বিকেলের পর ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা মানুষের পাশাপাশি তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।

মেলায় টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলা থেকে আসা উদ্যোক্তা ও মিষ্টি কারিগররা অংশ নেন। মোট ২০টি স্টলে পোড়াবাড়ির বিখ্যাত চমচম, জামুর্কির ঐতিহ্যবাহী কালিদাস সন্দেশসহ নানা পদের মিষ্টি প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়। এছাড়া ৩টি স্টলে স্থান পায় টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতের শাড়ি। দর্শনার্থীরা মিষ্টির স্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি তাঁতিদের নিখুঁত বুননশৈলী ঘুরে দেখেন। এরই মধ্যে অনেকের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে ‘ব্র্যান্ড টাঙ্গাইল’।

মেলা ঘুরে দেখতে আসা দর্শনার্থীদের অনেকেই জানান, চমচম বা শাড়ি তাঁদের কাছে নতুন কিছু নয়। তবে জেলার সামগ্রিক ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে একটি সমন্বিত ব্র্যান্ড হিসেবে দেশ-বিদেশে তুলে ধরার এই পরিকল্পনা অত্যন্ত সময়োপযোগী। দর্শনার্থীদের মতে, এই উদ্যোগ কেবল স্থানীয় পণ্যের পরিচিতিই বাড়াবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে জেলার অর্থনীতিতে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। এই উদ্যোগের কথা শুনেই মেলায় আসার আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে জানান একাধিক দর্শনার্থী।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোনো অঞ্চলের ঐতিহ্য কেবল আবেগ বা স্মৃতিতে আটকে না রেখে তাকে অর্থনীতি ও বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এই ‘ব্র্যান্ড টাঙ্গাইল’ উদ্যোগ। মিষ্টি শিল্প, তাঁতশিল্প, স্থানীয় সংস্কৃতি ও পর্যটনকে একই ছাতার নিচে নিয়ে আসার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারেও নতুন পরিচিতি তৈরি করা সম্ভব। এতে যেমন পণ্যের বাজার প্রসারিত হবে, তেমনি স্থানীয় কারিগর ও উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, “টাঙ্গাইলের জিআই পণ্য শুধু টাঙ্গাইলের নয়, এগুলো বাংলাদেশের গর্ব”—এই বার্তাটি সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই এই উৎসবের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জেলার পর্যটন সম্ভাবনাকেও এগিয়ে নেওয়া হবে।

মেলায় অংশ নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইলের চমচম শুধু দেশের মানুষের কাছেই নয়, বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। শাড়ির মতো চমচমও জেলার অন্যতম ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি জানান, ঐতিহ্যবাহী এই চমচম বিদেশে রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং প্রান্তিক ও জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উৎসবে আসা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ‘ব্র্যান্ড টাঙ্গাইল’ যেন কেবল উৎসবের একটি স্লোগান হয়েই থমকে না যায়। এই উদ্যোগকে উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক প্যাকেজিং, বিপণন ও আন্তর্জাতিক বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত করার তাগিদ দেন তাঁরা। তাঁদের বিশ্বাস, টাঙ্গাইলের চমচমের মিষ্টি স্বাদ আর তাঁতের শাড়ির নান্দনিকতা একদিন বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

মিষ্টি ও শাড়ির মেলায় দর্শনার্থীদের নজর কাড়ল ‘ব্র্যান্ড টাঙ্গাইল’

আপডেট সময় : ০৮:০৮:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী পোড়াবাড়ির চমচম ও তাঁতের শাড়ির সমাহারে শহরজুড়ে বসেছিল উৎসবের আমেজ। শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসনের তিন দিনব্যাপী প্রথম ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল’-এ দর্শনার্থীদের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে ‘ব্র্যান্ড টাঙ্গাইল’ গড়ে তোলার নতুন উদ্যোগ। গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হয়ে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত চলা এই মেলায় মিষ্টি আর শাড়ির চিরচেনা রূপকে ছাড়িয়ে এক সুতোয় বাঁধার এই প্রয়াস প্রশংসা কুড়িয়েছে সবার। মেলা ঘিরে সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের আনাগোনা থাকলেও বিকেলের পর ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা মানুষের পাশাপাশি তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।

মেলায় টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলা থেকে আসা উদ্যোক্তা ও মিষ্টি কারিগররা অংশ নেন। মোট ২০টি স্টলে পোড়াবাড়ির বিখ্যাত চমচম, জামুর্কির ঐতিহ্যবাহী কালিদাস সন্দেশসহ নানা পদের মিষ্টি প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়। এছাড়া ৩টি স্টলে স্থান পায় টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতের শাড়ি। দর্শনার্থীরা মিষ্টির স্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি তাঁতিদের নিখুঁত বুননশৈলী ঘুরে দেখেন। এরই মধ্যে অনেকের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে ‘ব্র্যান্ড টাঙ্গাইল’।

মেলা ঘুরে দেখতে আসা দর্শনার্থীদের অনেকেই জানান, চমচম বা শাড়ি তাঁদের কাছে নতুন কিছু নয়। তবে জেলার সামগ্রিক ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে একটি সমন্বিত ব্র্যান্ড হিসেবে দেশ-বিদেশে তুলে ধরার এই পরিকল্পনা অত্যন্ত সময়োপযোগী। দর্শনার্থীদের মতে, এই উদ্যোগ কেবল স্থানীয় পণ্যের পরিচিতিই বাড়াবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে জেলার অর্থনীতিতে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। এই উদ্যোগের কথা শুনেই মেলায় আসার আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে জানান একাধিক দর্শনার্থী।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোনো অঞ্চলের ঐতিহ্য কেবল আবেগ বা স্মৃতিতে আটকে না রেখে তাকে অর্থনীতি ও বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এই ‘ব্র্যান্ড টাঙ্গাইল’ উদ্যোগ। মিষ্টি শিল্প, তাঁতশিল্প, স্থানীয় সংস্কৃতি ও পর্যটনকে একই ছাতার নিচে নিয়ে আসার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারেও নতুন পরিচিতি তৈরি করা সম্ভব। এতে যেমন পণ্যের বাজার প্রসারিত হবে, তেমনি স্থানীয় কারিগর ও উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, “টাঙ্গাইলের জিআই পণ্য শুধু টাঙ্গাইলের নয়, এগুলো বাংলাদেশের গর্ব”—এই বার্তাটি সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই এই উৎসবের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জেলার পর্যটন সম্ভাবনাকেও এগিয়ে নেওয়া হবে।

মেলায় অংশ নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইলের চমচম শুধু দেশের মানুষের কাছেই নয়, বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। শাড়ির মতো চমচমও জেলার অন্যতম ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি জানান, ঐতিহ্যবাহী এই চমচম বিদেশে রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং প্রান্তিক ও জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

উৎসবে আসা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ‘ব্র্যান্ড টাঙ্গাইল’ যেন কেবল উৎসবের একটি স্লোগান হয়েই থমকে না যায়। এই উদ্যোগকে উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক প্যাকেজিং, বিপণন ও আন্তর্জাতিক বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত করার তাগিদ দেন তাঁরা। তাঁদের বিশ্বাস, টাঙ্গাইলের চমচমের মিষ্টি স্বাদ আর তাঁতের শাড়ির নান্দনিকতা একদিন বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh