“বি কোম্পানি” নামে চাঁদাবাজি: চট্টগ্রাম থেকে খুলনার যুবক গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০৪:২৭:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে 'বি কোম্পানি' নাম ও ব্যানার ব্যবহার করে চাঁদা দাবি করার অভিযোগে হাসিবুর রহমান ফরাজী হাসিব খান (২৩) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম মহানগরীর মধ্যম হালিশহর থানাধীন নীলাচল আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় খুলনার গোয়েন্দা বিভাগের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন কেএমপি ডিবি ডিসি মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া। তিনি জানান, গ্রেপ্তার হাসিবুর রহমান খুলনার লবণচরা থানাধীন পানি উন্নয়ন বোর্ড সুইচগেট ৮ম গলির ইয়াছিন ফরাজীর ছেলে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের মধ্যম হালিশহর এলাকার নীলাচল আবাসিক এলাকার ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করছিলেন।
পুলিশ জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে খুলনা মহানগরীর চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের মোবাইল ফোনে 'বি কোম্পানি' নামের ব্যানারে হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি ও আদায়ের অভিযোগ আসছিল। এই ঘটনায় মহানগরীর বিভিন্ন থানায় একাধিক অভিযোগ ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। অভিযোগগুলোর সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে কেএমপি গোয়েন্দা বিভাগ। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকায় শনাক্ত করার পর সেখানে অভিযান চালিয়ে হাসিবকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশের একটি দল।
অভিযানকালে হাসিবের কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন এবং ছয়টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই মোবাইল ও সিম কার্ডগুলো ব্যবহার করেই খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন মানুষের কাছে চাঁদা দাবি করা হতো এবং চাঁদা দিতে রাজি না হলে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হতো। উদ্ধার করা ডিভাইস এবং সিম কার্ডের কললিস্ট ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
কেএমপি জানিয়েছে, শুধু একজনকে গ্রেপ্তার করাই পুলিশের মূল লক্ষ্য নয়। 'বি কোম্পানি'র নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে যারা চাঁদাবাজি করছে, তাদের প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। মহানগরবাসীকে আশ্বস্ত করে পুলিশ জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এভাবে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ ধরনের অপরাধ দমনে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি বা হুমকির শিকার হলে তা গোপন না রেখে দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।




























