শর্ত সাপেক্ষে এবার বিয়ানীবাজারে নৌকাবাইচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত
- আপডেট সময় : ০৬:১১:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সোনাই নদীতে নৌকাবাইচ আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে যে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল, তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে। লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন জানিয়েছেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আয়োজক কমিটি ও বিরোধিতাকারী পক্ষের মধ্যে বৈঠকের পর এই সমঝোতা অর্জিত হয়েছে।
সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, আগামী ২৮ আগস্ট সোনাই নদীর তৃগাংগারমুখ এলাকায় নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হবে। তবে এর বিনিময়ে আগামী বছর থেকে সোনাই নদীতে এই নৌকাবাইচ আর আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন জানান, নদীভাঙন এবং কৃষিজমির ক্ষতির আশঙ্কার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্থানীয়দের আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে জটিলতার নিরসন হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়েই নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’-এর ব্যানারে একটি পক্ষ নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানিয়েছিল। তাদের যুক্তি ছিল, নৌকাবাইচের ফলে নদীভাঙন, কৃষিজমির ক্ষতি, যানজট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। এছাড়া জুয়ার আসর বসারও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন কেউ কেউ। তবে স্থানীয় অন্য বাসিন্দাদের দাবি, বিরোধের পেছনে ধর্মীয় কোনো কারণ নেই, বরং আয়োজক কমিটিতে স্থান না পাওয়াকে কেন্দ্র করেই একটি পক্ষ এর বিরোধিতা করেছে।
শনিবার রাতে বারইগ্রাম বাজারে আয়োজিত বৈঠকে লাউতা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের যুবক, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। যদিও প্রতিবাদকারীদের মধ্যে মাওলানা নুরুর রহমান মাসুক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বিয়ানীবাজার উপজেলার সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হক কাসেমি এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হোসেন আহমদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না, তবে চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন জানান, তারা এই শান্তিপূর্ণ সমাধানে সম্মতি দিয়েছেন।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়েই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। তবে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল করিম জানিয়েছেন, আগামী বছর থেকে নৌকাবাইচ আয়োজন করা হবে না, এমন শর্তে এবার সমঝোতা হয়েছে বিষয়টি তার জানা নেই।
রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে দেলওয়ার হোসেন এদিনকে বলেন, ‘‘শনিবার রাতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিবদমান দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে আয়োজক কমিটি ২৮ আগস্ট নৌকাবাইচ আয়োজনের জন্য অনুমতি নিয়েছে।’’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লাউতা ও বাহাদুরপুর গ্রামের যুবকদের উদ্যোগে সোনাই নদীতে ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে নৌকাবাইচ হয়ে আসছে।


























