কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক দেবাশীষ ও তার পরিবারের চার সদস্যের শেষকৃত্য সম্পন্ন
- আপডেট সময় : ০১:২৭:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ হারানো কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত এবং তার তিন বছর বয়সী ছেলে স্বর্ণশীষ দত্তকে পাশাপাশি শায়িত করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়ার মহাশ্মশানে তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। একই ঘটনায় নিহত দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমিন ও শ্বশুর মো. আকরাম আলীকে মুসলিম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী কুষ্টিয়া পৌর গোরস্তানে দাফন করা হয়েছে।
এর আগে রাত ১০টার দিকে দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে চারজনের মরদেহ কুষ্টিয়ার আড়ুয়াপাড়ার বাড়িতে পৌঁছালে এক শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যায় থেকেই সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা শেষবারের মতো দেবাশীষকে দেখতে তার বাড়ির সামনে ভিড় করেছিলেন। বাবা ও ছেলেকে পাশাপাশি সমাহিত করার দৃশ্য উপস্থিত স্বজনদের আবেগাপ্লুত করে তোলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দেবাশীষ দত্ত সনাতন ধর্মাবলম্বী ছিলেন এবং তার স্ত্রী আফসানা শারমিন ছিলেন মুসলিম পরিবারের সন্তান। বিয়ের পরও তারা নিজ নিজ ধর্ম পালন করতেন এবং মৃত্যুর পরও সেই অনুযায়ী তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। আফসানা শারমিনের মা জানান, তার মেয়ের ইচ্ছানুযায়ী মুসলিম ধর্মীয় রীতিতে দাফন করা হয়েছে। রাত আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়া মডেল মসজিদে জানাজা শেষে আফসানা ও তার বাবা আকরাম আলীকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়।
দীর্ঘদিন সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত দেবাশীষ দত্ত কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দৈনিক আজকের আলোর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং চ্যানেল নাইন ও দৈনিক আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি ছিলেন। তার মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মীদের মতে, দেবাশীষ ছিলেন একজন সাহসী ও নিবেদিতপ্রাণ সাংবাদিক, যার অকাল মৃত্যু সাংবাদিকতায় অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসার জন্য দেবাশীষ গত ৩ আগস্ট সপরিবারে ভারতের বেঙ্গালুরুর উদ্দেশে রওনা হন। এরপর আকরাম আলীও চিকিৎসার জন্য কলকাতা যান। বুধবার নিউমার্কেট এলাকা থেকে কেনাকাটা শেষে তাদের দেশে ফেরার প্রস্তুতি ছিল, কিন্তু তার আগেই হোটেলের সেই অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের সাথে তাদের চারজনের মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সাত বছর বয়সী মেয়ে মাহিমাকে দাদা-দাদির কাছে রেখে গত ৩ আগস্ট চিকিৎসার জন্য ভারতের বেঙ্গালুরুর উদ্দেশে রওনা হন দেবাশীষ। অন্যদিকে আরেক জামাতা ফিরোজের চিকিৎসার জন্য ৬ আগস্ট কলকাতা যান আকরাম আলী। ফিরোজ দেশে ফিরলেও আকরাম আলী কলকাতায় থেকে যান। পরে দেবাশীষ, তার স্ত্রী ও ছেলে সেখানে তার সঙ্গে যোগ দেন। বুধ


























