ঢাকা ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নানা পরামর্শ ও প্রস্তাব

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:০৬:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদল। বিনিয়োগের সহায়ক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাব ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, সরকার এসব প্রস্তাব গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) নতুন ডিসপ্লে ও সেলস সেন্টার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এই শুল্ক শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং বিভিন্ন দেশের ওপর রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর সাধারণ শুল্কের বাইরে ১০ শতাংশ ট্যারিফ প্রয়োগ রয়েছে, যা সর্বনিম্ন হারের মধ্যে অন্যতম।

ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, যারা ইতিমধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছেন, তারা বাংলাদেশ ও ভারতের স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর করার ওপর জোর দিয়েছেন। স্থলবন্দর বন্ধ থাকায় কাঁচামালের খরচ বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এছাড়া অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের জন্য একটি টাস্কফোর্স এবং ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরির জন্য ট্রাস্ট গঠনের প্রস্তাব এফবিসিসিআইয়ের নেতৃবৃন্দের কাছে তারা রেখেছেন বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই আমদানির তুলনায় রপ্তানি কম। এটি অস্বাভাবিক নয় কারণ বিশ্বের অনেক দেশের ক্ষেত্রেই এমনটি ঘটে। তবে তিনি রপ্তানি ও আমদানি মিলিয়ে বাণিজ্যের পরিধি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ভিয়েতনামের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ভিয়েতনামের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার, সেখানে বাংলাদেশের প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার। অর্থনীতির আকারের সঙ্গে বাণিজ্যের সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন।

বিসিকের সেলস সেন্টার উদ্বোধনের সময় মন্ত্রী জানান, জাতীয় অর্থনীতিতে কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অবদান বর্তমানে ৩৪ শতাংশ, যা ৫০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধানে সৌরশক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে শিল্প খাতে লোডশেডিংয়ের সংকট অনেকাংশে কমে আসবে। এছাড়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্লটগুলোতে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে রাইস হাস্ক বা ধানের তুষ ও কয়লা ব্যবহারের রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।

এদিকে, সিলেটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সিলেটে কোনো মাদকের আনাগোনা, অনলাইন জুয়া বা কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা সরকার দেখতে চায় না। এসব বন্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ তিনি পুলিশ কমিশনারকে দিয়েছেন। বৈঠকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নানা পরামর্শ ও প্রস্তাব

আপডেট সময় : ০৭:০৬:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদল। বিনিয়োগের সহায়ক পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাব ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, সরকার এসব প্রস্তাব গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) নতুন ডিসপ্লে ও সেলস সেন্টার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এই শুল্ক শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং বিভিন্ন দেশের ওপর রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর সাধারণ শুল্কের বাইরে ১০ শতাংশ ট্যারিফ প্রয়োগ রয়েছে, যা সর্বনিম্ন হারের মধ্যে অন্যতম।

ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, যারা ইতিমধ্যে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছেন, তারা বাংলাদেশ ও ভারতের স্থলবন্দরগুলো পুরোপুরি কার্যকর করার ওপর জোর দিয়েছেন। স্থলবন্দর বন্ধ থাকায় কাঁচামালের খরচ বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এছাড়া অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের জন্য একটি টাস্কফোর্স এবং ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরির জন্য ট্রাস্ট গঠনের প্রস্তাব এফবিসিসিআইয়ের নেতৃবৃন্দের কাছে তারা রেখেছেন বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই আমদানির তুলনায় রপ্তানি কম। এটি অস্বাভাবিক নয় কারণ বিশ্বের অনেক দেশের ক্ষেত্রেই এমনটি ঘটে। তবে তিনি রপ্তানি ও আমদানি মিলিয়ে বাণিজ্যের পরিধি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ভিয়েতনামের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ভিয়েতনামের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার, সেখানে বাংলাদেশের প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার। অর্থনীতির আকারের সঙ্গে বাণিজ্যের সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন।

বিসিকের সেলস সেন্টার উদ্বোধনের সময় মন্ত্রী জানান, জাতীয় অর্থনীতিতে কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অবদান বর্তমানে ৩৪ শতাংশ, যা ৫০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধানে সৌরশক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে শিল্প খাতে লোডশেডিংয়ের সংকট অনেকাংশে কমে আসবে। এছাড়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্লটগুলোতে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে রাইস হাস্ক বা ধানের তুষ ও কয়লা ব্যবহারের রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।

এদিকে, সিলেটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সিলেটে কোনো মাদকের আনাগোনা, অনলাইন জুয়া বা কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা সরকার দেখতে চায় না। এসব বন্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ তিনি পুলিশ কমিশনারকে দিয়েছেন। বৈঠকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সংসদ সদস্য ইমরান আহমেদ চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin