ঢাকা ০১:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নিউইয়র্কে মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে ব্যর্থতার সুযোগ নেই: রুহুল আমিন হাওলাদার রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর নাটোর সদর উপজেলায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মারা গেলেন মাদ্রাসা শিক্ষক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের মঞ্চে ট্রাম্পের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট ওমান উপকূলে মিসাইল হামলার কবলে বাংলাদেশি নাবিকদের জাহাজ ইবির সাদ্দাম হলের একই কক্ষের তিন বন্ধু হলেন সিভিল জজ যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান: পেজেশকিয়ান

তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ব্যাহত হচ্ছে আমন চাষ ও ব্যবসা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৃদু তাপপ্রবাহের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরম আকার ধারণ করায় আমন ধানের সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও চালকল মালিকেরা।

বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান চেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মোহম্মদ মুশার কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক আবেদনটি গ্রহণ করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর আশ্বাস দেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলাজুড়ে দিন-রাত মিলিয়ে দফায় দফায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের কৃষক মাসুদ রানা জানান, আমন মৌসুমে জমিতে নিয়মিত পানি দেওয়া প্রয়োজন হলেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে থাকায় সেচ পাম্প চালানো যাচ্ছে না। এতে ধানের ফলন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। একই দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন শিবগঞ্জ ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকরাও।

শহরাঞ্চলের পরিস্থিতিও বেশ নাজুক। পৌরসভার আরামবাগ এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বাবু জানান, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বারবার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ফ্রিজের খাবার নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে, ক্লাব সুপার মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল আজিম জানান, তীব্র গরমে দোকানে ক্রেতারা বেশিক্ষণ থাকছেন না, যার ফলে বিক্রি অনেক কমে গেছে।

লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় চাল উৎপাদন শিল্পেও। নবাব অটো রাইস মিল ও হক অটো রাইস মিলের মালিকেরা জানান, বিদ্যুতের এই চরম সংকটের কারণে চাল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একদিকে উৎপাদন কমে গেছে, অন্যদিকে বিকল্প উপায়ে কাজ চালাতে গিয়ে উৎপাদন খরচ ও দৈনিক ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। তারা দ্রুত লোডশেডিং কমানোর দাবি জানিয়েছেন।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদাই এই সংকটের মূল কারণ। নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)-এর চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোহামিনুর রহমান জানান, জেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ৪০ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ মেগাওয়াট। এই ১০ থেকে ১৫ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণেই মূলত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান জানান, গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও খারাপ। চাহিদার তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ কম পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে আমন চাষের কারণে গ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেড়েছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আমন মৌসুমে সেচ ব্যাহত হলে ধানের চারা শুকিয়ে যেতে পারে, যা সরাসরি খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই বহুমুখী সংকট দ্রুত সমাধান করা না গেলে জেলার অর্থনীতি ও কৃষিতে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে。

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)-এর চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোহামিনুর রহমান জানান, জেলায় চাহিদা ৪০/৪৫ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ মেগাওয়াট। ফলে ১০/১৫ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন। জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘‘বর্তমানে চাহিদার তুলনায় ৩০-৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ কম পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে আমন ধান চাষের জন্য গ্রামাঞ্চলে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লোডশেডিং বাড়ছে।’’

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ব্যাহত হচ্ছে আমন চাষ ও ব্যবসা

আপডেট সময় : ০৩:০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৃদু তাপপ্রবাহের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরম আকার ধারণ করায় আমন ধানের সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও চালকল মালিকেরা।

বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান চেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মোহম্মদ মুশার কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক আবেদনটি গ্রহণ করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর আশ্বাস দেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলাজুড়ে দিন-রাত মিলিয়ে দফায় দফায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের কৃষক মাসুদ রানা জানান, আমন মৌসুমে জমিতে নিয়মিত পানি দেওয়া প্রয়োজন হলেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে থাকায় সেচ পাম্প চালানো যাচ্ছে না। এতে ধানের ফলন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি। একই দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন শিবগঞ্জ ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকরাও।

শহরাঞ্চলের পরিস্থিতিও বেশ নাজুক। পৌরসভার আরামবাগ এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বাবু জানান, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বারবার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ফ্রিজের খাবার নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে, ক্লাব সুপার মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল আজিম জানান, তীব্র গরমে দোকানে ক্রেতারা বেশিক্ষণ থাকছেন না, যার ফলে বিক্রি অনেক কমে গেছে।

লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় চাল উৎপাদন শিল্পেও। নবাব অটো রাইস মিল ও হক অটো রাইস মিলের মালিকেরা জানান, বিদ্যুতের এই চরম সংকটের কারণে চাল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একদিকে উৎপাদন কমে গেছে, অন্যদিকে বিকল্প উপায়ে কাজ চালাতে গিয়ে উৎপাদন খরচ ও দৈনিক ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। তারা দ্রুত লোডশেডিং কমানোর দাবি জানিয়েছেন।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদাই এই সংকটের মূল কারণ। নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)-এর চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোহামিনুর রহমান জানান, জেলায় বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ৪০ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ মেগাওয়াট। এই ১০ থেকে ১৫ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণেই মূলত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান জানান, গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও খারাপ। চাহিদার তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ কম পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে আমন চাষের কারণে গ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেড়েছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আমন মৌসুমে সেচ ব্যাহত হলে ধানের চারা শুকিয়ে যেতে পারে, যা সরাসরি খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই বহুমুখী সংকট দ্রুত সমাধান করা না গেলে জেলার অর্থনীতি ও কৃষিতে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে。

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)-এর চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোহামিনুর রহমান জানান, জেলায় চাহিদা ৪০/৪৫ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ মেগাওয়াট। ফলে ১০/১৫ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন। জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান বলেন, ‘‘বর্তমানে চাহিদার তুলনায় ৩০-৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ কম পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে আমন ধান চাষের জন্য গ্রামাঞ্চলে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লোডশেডিং বাড়ছে।’’

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin