ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকীতে ইউসিটিসি ড্রামা ক্লাবের ‘নিমফুল’ মঞ্চায়ন মেসি আমার আদর্শ, তাকে হারতে দেখাটা কষ্টের: কুবার্সি মোদির বাসভবনের সামনে রাহুল-প্রিয়াঙ্কার বিক্ষোভ, প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী নৌপ্রধানের সাক্ষাৎ, জানালেন কৃতজ্ঞতা কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারে ইরানের টানা চতুর্থ দিনের হামলা টানা চতুর্থবার ইউরোমানির সেরা ইএসজি ব্যাংক প্রাইম ব্যাংক মাগুরার শ্রীপুরে ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে প্রাইভেটকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ কমিশন বৃদ্ধির দাবিতে ৩০ জুলাই সিএনজি স্টেশন বন্ধের ডাক বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি, ভরিতে বাড়ল ১,৬৩৩ টাকা প্রবাসী কার্ডে বিমান টিকিট ও লাউঞ্জে বিশেষ সুবিধা পাবেন প্রবাসীরা

হবিগঞ্জে ‘বর্ষায় নজরুল’ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি কোনো সাংস্কৃতিক সংগঠন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৬:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত এবং বর্ষার সৌন্দর্যকে উপজীব্য করে হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘বর্ষায় নজরুল’ শিরোনামে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অনুপস্থিতি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনুষ্ঠান সূচিতে নাম থাকা কোনো সংগঠনই শেষ পর্যন্ত অংশগ্রহণ না করায় আয়োজকরা বাধ্য হয়ে শুধুমাত্র শিল্পকলা একাডেমির শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা দিয়েই অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করেন।

সোমবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আবুল হাসেম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্ত এবং সঞ্চালনায় ছিলেন আবৃত্তি প্রশিক্ষক ফরিদা আক্তার চৌধুরী কুমকুম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আবুল হাসেম নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলচর্চা ও দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তবে মিলনায়তনে দর্শক উপস্থিতি ছিল নগণ্য এবং অধিকাংশ আসনই ফাঁকা ছিল। উপস্থিত অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, সরকারি প্রচারণার অভাবে এবং দায়সারা আয়োজনের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা জাতীয় কবির অনুষ্ঠানের জন্য লজ্জাজনক।

অনুষ্ঠানে নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী দলীয় সংগীত ও নৃত্যে জেলা শিল্পকলা একাডেমির বিভিন্ন বিভাগের পাশাপাশি হবিগঞ্জ সুরবিতান ললিতকলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, জাসাস, হবিগঞ্জ সাংস্কৃতিক পরিষদ, হবিগঞ্জ বিহঙ্গ সংগীত নিকেতন, হবিগঞ্জ শিল্পী সংস্থা, সুরসায়র সংগীত বিদ্যায়তন, সারগাম সেমি-ক্লাসিক্যাল মিউজিক একাডেমি, তারুণ্য মিউজিক্যাল একাডেমি ও সুরধারা শিল্পী সংস্থাসহ নৃত্য নিকেতন, নৃত্যকুড়ি, নৃত্যভূমি ও সৃষ্টি সাংস্কৃতিক সংঘের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এছাড়া আবৃত্তিতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল হবিগঞ্জ শিল্পী সমাজ ও চারুকণ্ঠ শিল্পাঙ্গনের। কিন্তু কোনো সংগঠনের শিল্পীরাই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। এমনকি নির্ধারিত যন্ত্রশিল্পীরাও না আসায় অন্য যন্ত্রশিল্পীদের দিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে হয়েছে।

সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সূত্রে জানা গেছে, জেলা কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্তের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা এবং শিল্পীদের নামমাত্র সম্মানী প্রদানের কারণে সংগঠনগুলো সরকারি অনুষ্ঠানে অনাগ্রহী হয়ে উঠেছে। শিল্পী সমাজের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান চৌধুরী পাপলু জানান, মহড়া, যাতায়াত ও নাস্তার খরচ বাবদ যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়, সম্মানী হিসেবে তার চেয়ে অনেক কম অর্থ প্রদান করা হয়। এছাড়া সংগঠনের অভিভাবকদের কাছেও শিল্পীদের সম্মানী নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া জাসাসের এক শীর্ষ নেতা জানান, সংগঠনগুলোর সম্মিলিত সিদ্ধান্তের কারণেই তারা অনুষ্ঠানে যোগ দেয়নি। ফোক যুবরাজখ্যাত কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আশিক এই পরিস্থিতিকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, শিল্পীদের সমন্বয় করা কালচারাল অফিসারের দায়িত্ব, যার দায় তিনি এড়াতে পারেন না। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্তকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

হবিগঞ্জে ‘বর্ষায় নজরুল’ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি কোনো সাংস্কৃতিক সংগঠন

আপডেট সময় : ১২:৪৬:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
print news

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত এবং বর্ষার সৌন্দর্যকে উপজীব্য করে হবিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘বর্ষায় নজরুল’ শিরোনামে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অনুপস্থিতি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনুষ্ঠান সূচিতে নাম থাকা কোনো সংগঠনই শেষ পর্যন্ত অংশগ্রহণ না করায় আয়োজকরা বাধ্য হয়ে শুধুমাত্র শিল্পকলা একাডেমির শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা দিয়েই অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করেন।

সোমবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আবুল হাসেম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্ত এবং সঞ্চালনায় ছিলেন আবৃত্তি প্রশিক্ষক ফরিদা আক্তার চৌধুরী কুমকুম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আবুল হাসেম নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলচর্চা ও দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তবে মিলনায়তনে দর্শক উপস্থিতি ছিল নগণ্য এবং অধিকাংশ আসনই ফাঁকা ছিল। উপস্থিত অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, সরকারি প্রচারণার অভাবে এবং দায়সারা আয়োজনের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা জাতীয় কবির অনুষ্ঠানের জন্য লজ্জাজনক।

অনুষ্ঠানে নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী দলীয় সংগীত ও নৃত্যে জেলা শিল্পকলা একাডেমির বিভিন্ন বিভাগের পাশাপাশি হবিগঞ্জ সুরবিতান ললিতকলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, জাসাস, হবিগঞ্জ সাংস্কৃতিক পরিষদ, হবিগঞ্জ বিহঙ্গ সংগীত নিকেতন, হবিগঞ্জ শিল্পী সংস্থা, সুরসায়র সংগীত বিদ্যায়তন, সারগাম সেমি-ক্লাসিক্যাল মিউজিক একাডেমি, তারুণ্য মিউজিক্যাল একাডেমি ও সুরধারা শিল্পী সংস্থাসহ নৃত্য নিকেতন, নৃত্যকুড়ি, নৃত্যভূমি ও সৃষ্টি সাংস্কৃতিক সংঘের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এছাড়া আবৃত্তিতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল হবিগঞ্জ শিল্পী সমাজ ও চারুকণ্ঠ শিল্পাঙ্গনের। কিন্তু কোনো সংগঠনের শিল্পীরাই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। এমনকি নির্ধারিত যন্ত্রশিল্পীরাও না আসায় অন্য যন্ত্রশিল্পীদের দিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে হয়েছে।

সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সূত্রে জানা গেছে, জেলা কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্তের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা এবং শিল্পীদের নামমাত্র সম্মানী প্রদানের কারণে সংগঠনগুলো সরকারি অনুষ্ঠানে অনাগ্রহী হয়ে উঠেছে। শিল্পী সমাজের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান চৌধুরী পাপলু জানান, মহড়া, যাতায়াত ও নাস্তার খরচ বাবদ যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়, সম্মানী হিসেবে তার চেয়ে অনেক কম অর্থ প্রদান করা হয়। এছাড়া সংগঠনের অভিভাবকদের কাছেও শিল্পীদের সম্মানী নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া জাসাসের এক শীর্ষ নেতা জানান, সংগঠনগুলোর সম্মিলিত সিদ্ধান্তের কারণেই তারা অনুষ্ঠানে যোগ দেয়নি। ফোক যুবরাজখ্যাত কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আশিক এই পরিস্থিতিকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, শিল্পীদের সমন্বয় করা কালচারাল অফিসারের দায়িত্ব, যার দায় তিনি এড়াতে পারেন না। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্তকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh