দোকান উচ্ছেদ নিয়ে ২ গোষ্ঠীর রণক্ষেত্র, নারী সহ আহত ২০
- আপডেট সময় : ১২:৩১:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

মোঃ পলাশ সালমান,
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর উপজেলায় ১টি চায়ের দোকান উচ্ছেদ এবং গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২ গোষ্ঠীর মধ্যে ১ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে নারী সহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন, সংঘর্ষ চলাকালে নাটাই-অষ্টগ্রাম সড়কে দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৪ জনকে আটক করেছে।
৭ জুন রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির পুকুর পাড়ে জারু মিয়া নামে ১ ব্যক্তির একটি চায়ের দোকান রয়েছে।
ওই দোকানে নিয়মিত টেলিভিশন চলায় সারাদিনই সেখানে নানাবয়সী মানুষের জটলা লেগে থাকত।
অভিযোগ রয়েছে, এই দোকানটিতে আড্ডাবাজদের ভিড়ের কারণে রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী নারী ও স্কুল-কলেজ গামী মেয়েরা প্রায়ই অপ্রীতিকর মন্তব্যের শিকার হতেন।
বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি গ্রামের একটি সামাজিক সালিশ-বৈঠকে চায়ের দোকানটি উচ্ছেদ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে, গ্রামের ছোট গোষ্ঠীর মো. জোবায়েরের পক্ষের লোক জনের সঙ্গে একই গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির জয়নাল আবেদীনের পক্ষের লোকজনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল, পূর্বের সেই বিরোধের সঙ্গে এবার চায়ের দোকান উচ্ছেদের প্রসঙ্গটি নতুন করে যুক্ত হয়।
ছোট গোষ্ঠীর লোকজন সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চায়ের দোকানটি উচ্ছেদের পক্ষে অবস্থান নেয়, অন্যদিকে ভূঁইয়া বাড়ির লোকজন এর বিপক্ষে দাঁড়ায়।
এই বিরোধের জেরে রবিবার সকালে উভয় পক্ষের শত শত লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা, দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষে নারীসহ দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন।
সংঘর্ষের কারণে নাটাই-অষ্টগ্রাম সড়কে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে গুরুতর আহত ৩ জনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এছাড়া ১ জনের অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, পুলিশ লাঠিচার্জ ও অভিযান চালিয়ে দুপুর ১টার দিকে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সড়ক থেকে অবরোধ সরিয়ে দেয়।
সংঘর্ষের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করেছে।
নাটাই উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা ইয়াকুব আলী ভূইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রামে জারু মিয়ার চায়ের দোকান উচ্ছেদ করা নিয়ে দুই গোষ্ঠীর জেদাজেদির কারণেই এই অপ্রীতিকর সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ জনকে আটক করা হয়েছে, পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে পুলিশের অভিযান ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।






















