ঢাকা ০৮:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য পোর্টালে এআই এজেন্টের অননুমোদিত প্রবেশ, তীব্র উদ্বেগ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ নতুন রোগী এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর ক্রিকেটার রবিন দাসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ, আদালতে হাজিরা ৯ অক্টোবর বিকাশ, রবিসহ ৪ ডিজিটাল ব্যাংককে প্রাথমিক অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক শাহ আলীতে পলিথিন ব্যাগ থেকে নবজাতক উদ্ধার, ৯৯৯-এ ফোন সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় উচ্চ সতর্কতা রাজশাহীতে মাদকাসক্ত ছেলের হাসুয়ার কোপে মা নিহত, বাবা আহত সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত গোবিপ্রবির ৫ শিক্ষার্থী মক্কা-জেদ্দাসহ সৌদির বিভিন্ন এলাকায় সিভিল ডিফেন্সের সতর্কতা জারি

ঢাকাতে রাস্তার মোড়ে মোড়ে ভেজাল মাঠা

ফখরুল আলম সাজু ক্রাইম রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ১১:০১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২৬৭ বার পড়া হয়েছে

ঢাকাতে রাস্তার মোড়ে মোড়ে ভেজাল মাঠা

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি




ফখরুল আলম সাজু
ক্রাইম রিপোর্টার:

ঢাকা শহরের ও তার আশপাশে এবং ভেজাল ও অনুমোদহীন মাঠা প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। অথচ এসব মাঠার নেই বিএসটিআই অনুমোদন, নেই পণ্যের লেভেল। না বুঝে প্রখর তাপদাহে পান করছেন এসব নোংরা আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা ভেজাল মাঠা

প্রখর তাপদাহ ব্যক্তিদের ক্লান্তি আর চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবছর এসব ভেজাল মাঠা বাজারজাত করে প্রচুর পরিমাণে মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র।

তবে এ বছর প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় বুঝে না বুঝেই সস্তায় পাওয়া ভেজাল মাঠা পান করছে জন সাধারণ । যা খেয়ে ছোট ছোট বাচ্চা থেকে বড়রা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন বলে জানান চিকিৎসকরা। তাছাড়া অস্বাস্থ্যকর কারখানাগুলো বন্ধে প্রশাসনের এ বছর নেই তেমন কোনো নজরদারি। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে শহরের মধ্যেই অস্বাস্থ্যকর এবং দুর্গন্ধ যুক্ত নোংরা পরিবেশে বানানো হচ্ছে এসব মাঠা

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকার সবুজবাগ থানার অন্তর্ভুক্ত এলাকায় বাসাবো মায়াকানন কমিশনার গলি এলাকায় ভেজাল মাঠার উৎপাদন হচ্ছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় অর্ধ-শতাধিক বিএসটিআই এর অনুমোদন বিহীন বাসা-বাড়িতে কারখানা গড়ে তুলে ভেজাল মাঠা তৈরি করা  হচ্ছে।

ভেজাল মাঠা বিভিন্ন দোকান, পাড়া-মহল্লা ও রাস্তার মোড়ে বিক্রি করা হচ্ছে। মাঠার বোতলে নেই কোনো উৎপাদন ও মেয়াদোর্ত্তীণের তারিখ। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নষ্ট দুধ, চিনি, লবণসহ আরও নানা উপাদান মিশিয়ে বানানো হচ্ছে এ মাঠা

এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হাবিব ডেইরি মাঠা নামে অসাধু ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করে আসছে। এর আগেও অবৈধভাবে বিএসটিআইএর সিল ও অনুমোদন না থাকায় কয়েকটি কারখানাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করে।

এছাড়া বড় বড় মিষ্টির দোকানে মাঠার কারখানাগুলো থেকে অল্প দামে ক্রয় করে তাদের নিজস্ব দোকানের নামে স্টিকার লাগিয়ে  রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানা যায়।

শহরের বসাবো মায়াকানন এলাকায় মাঠা বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম ও এর পরিচালক হাবিব তিনি সিরাজগঞ্জ ব্যবসায়ী । আসে পাশে ক্রেতা ও  সাধারণ জনগণ সহ কয়েকজন জানান, ১ লিটার ৮০ টাকা, ৫০০ মিলি. ৪৫ টাকা ও ২৫০ মিলি. ৩০ টাকা দরে বিক্রয় করা হয়।

মাঠার মেয়াদের বিষয় জানতে চাইলে তারা জানায়,সিরাজগঞ্জ থেকে হাবিব নামে এক ব্যবসায়ী এই কাঁচামাল পাঠিয়ে থাকেন ঢাকায় তাদের কাছে এবং তারা বিগত প্রায় তিন বছর ধরে এই ব্যবসা করে থাকেন ।
তারা এই সম্পর্কে কিছুই বলতে পারেননি এবং অনুমোদন বিহীন ভাবে বিক্রি ও বাজারজাত করছেন ।

কনসালটেন্ট, বাংলাদেশ মাল্টিকেয়ার হাসপাতালের
নবজাতক ও শিশু বিশেষজ্ঞ, খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ডা: শামস উজ জামান রানা বলেন, নিম্নমানের মাঠা পান করলে বদহজম, পেট ফাপা, পেট ব্যথা, ডায়রিয়াসহ নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। তবে তাপদাহে পঁচা, বাসি খাবার না খাওয়াই ভাল।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জনাব বিকাশ চন্দ্র দাস বলেন, মেয়াদ ও লেভেল ছাড়া মাঠা বিক্রয়ের কোনো সুযোগ নেই। পুরানবাজারসহ কয়েকটি স্থানে বাড়িতে বাড়িতে মাঠা বিক্রয় হয়। বাড়িগুলো নির্দিষ্ট করে অভিযান পরিচালনা করা হবে সহসাই।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

ঢাকাতে রাস্তার মোড়ে মোড়ে ভেজাল মাঠা

আপডেট সময় : ১১:০১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ফখরুল আলম সাজু
ক্রাইম রিপোর্টার:

ঢাকা শহরের ও তার আশপাশে এবং ভেজাল ও অনুমোদহীন মাঠা প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। অথচ এসব মাঠার নেই বিএসটিআই অনুমোদন, নেই পণ্যের লেভেল। না বুঝে প্রখর তাপদাহে পান করছেন এসব নোংরা আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা ভেজাল মাঠা

প্রখর তাপদাহ ব্যক্তিদের ক্লান্তি আর চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবছর এসব ভেজাল মাঠা বাজারজাত করে প্রচুর পরিমাণে মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র।

তবে এ বছর প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় বুঝে না বুঝেই সস্তায় পাওয়া ভেজাল মাঠা পান করছে জন সাধারণ । যা খেয়ে ছোট ছোট বাচ্চা থেকে বড়রা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন বলে জানান চিকিৎসকরা। তাছাড়া অস্বাস্থ্যকর কারখানাগুলো বন্ধে প্রশাসনের এ বছর নেই তেমন কোনো নজরদারি। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে শহরের মধ্যেই অস্বাস্থ্যকর এবং দুর্গন্ধ যুক্ত নোংরা পরিবেশে বানানো হচ্ছে এসব মাঠা

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকার সবুজবাগ থানার অন্তর্ভুক্ত এলাকায় বাসাবো মায়াকানন কমিশনার গলি এলাকায় ভেজাল মাঠার উৎপাদন হচ্ছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় অর্ধ-শতাধিক বিএসটিআই এর অনুমোদন বিহীন বাসা-বাড়িতে কারখানা গড়ে তুলে ভেজাল মাঠা তৈরি করা  হচ্ছে।

ভেজাল মাঠা বিভিন্ন দোকান, পাড়া-মহল্লা ও রাস্তার মোড়ে বিক্রি করা হচ্ছে। মাঠার বোতলে নেই কোনো উৎপাদন ও মেয়াদোর্ত্তীণের তারিখ। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নষ্ট দুধ, চিনি, লবণসহ আরও নানা উপাদান মিশিয়ে বানানো হচ্ছে এ মাঠা

এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হাবিব ডেইরি মাঠা নামে অসাধু ব্যবসায়ীরা নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করে আসছে। এর আগেও অবৈধভাবে বিএসটিআইএর সিল ও অনুমোদন না থাকায় কয়েকটি কারখানাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করে।

এছাড়া বড় বড় মিষ্টির দোকানে মাঠার কারখানাগুলো থেকে অল্প দামে ক্রয় করে তাদের নিজস্ব দোকানের নামে স্টিকার লাগিয়ে  রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানা যায়।

শহরের বসাবো মায়াকানন এলাকায় মাঠা বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম ও এর পরিচালক হাবিব তিনি সিরাজগঞ্জ ব্যবসায়ী । আসে পাশে ক্রেতা ও  সাধারণ জনগণ সহ কয়েকজন জানান, ১ লিটার ৮০ টাকা, ৫০০ মিলি. ৪৫ টাকা ও ২৫০ মিলি. ৩০ টাকা দরে বিক্রয় করা হয়।

মাঠার মেয়াদের বিষয় জানতে চাইলে তারা জানায়,সিরাজগঞ্জ থেকে হাবিব নামে এক ব্যবসায়ী এই কাঁচামাল পাঠিয়ে থাকেন ঢাকায় তাদের কাছে এবং তারা বিগত প্রায় তিন বছর ধরে এই ব্যবসা করে থাকেন ।
তারা এই সম্পর্কে কিছুই বলতে পারেননি এবং অনুমোদন বিহীন ভাবে বিক্রি ও বাজারজাত করছেন ।

কনসালটেন্ট, বাংলাদেশ মাল্টিকেয়ার হাসপাতালের
নবজাতক ও শিশু বিশেষজ্ঞ, খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ডা: শামস উজ জামান রানা বলেন, নিম্নমানের মাঠা পান করলে বদহজম, পেট ফাপা, পেট ব্যথা, ডায়রিয়াসহ নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। তবে তাপদাহে পঁচা, বাসি খাবার না খাওয়াই ভাল।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জনাব বিকাশ চন্দ্র দাস বলেন, মেয়াদ ও লেভেল ছাড়া মাঠা বিক্রয়ের কোনো সুযোগ নেই। পুরানবাজারসহ কয়েকটি স্থানে বাড়িতে বাড়িতে মাঠা বিক্রয় হয়। বাড়িগুলো নির্দিষ্ট করে অভিযান পরিচালনা করা হবে সহসাই।