ঢাকা ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নাটোরের বনপাড়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৯, আহত অন্তত ২০ টাইগার শ্রফের ওপর হামলা: তারকাদের নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ যশোরে পূজা দেখে ফেরার পথে নসিমন চাপায় দুই শিশুর মৃত্যু সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, টিভিতে দেখে জানল পরিবার ডিগ্রিহীন ডা. নুরুল হককে আইসিএমএইচের শিশু বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা পাঠাতে মাউশির জরুরি নির্দেশনা শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা পাঠাতে জরুরি নির্দেশনা দিল মাউশি প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর উপলক্ষে সাঈদ আল নোমানের আনন্দ মিছিল গান গাওয়ায় মামলা ও বাবার সঙ্গে মারধরের অতীত স্মৃতি শোনালেন মনির খান ভূঞাপুরের অলোয়ায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে এমপি আবদুস সালাম পিন্টু

গান গাওয়ায় মামলা ও বাবার সঙ্গে মারধরের অতীত স্মৃতি শোনালেন মনির খান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এসএসসি পরীক্ষার পর বাড়িতে গান চর্চা শুরু করতেই জীবনের চরম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মনির খানকে। গান গাওয়ার ‘অপরাধে’ কেবল সামাজিক ও ধর্মীয় বাধাই নয়, গ্রামের মানুষের শারীরিক নির্যাতন ও একাধিক মামলার শিকার হতে হয়েছিল তাকে এবং তার বাবা মাহবুব আলী খানকে। সম্প্রতি মাছরাঙা টেলিভিশনকে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে শৈশব ও কৈশোরের সেই ভয়াল স্মৃতি প্রকাশ করেছেন এই কণ্ঠশিল্পী।

মনির খান জানান, এসএসসি পরীক্ষার পর ফল প্রকাশের জন্য তিন থেকে সাড়ে তিন মাসের মতো দীর্ঘ বিরতি থাকত। ওই সময়ে বয়স অল্প থাকায় মন-মানসিকতা নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন ছিল। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অজান্তেই প্রথম হয়ে যাওয়া মনির খানের সুরের প্রতি টান দেখে তার বাবা তাকে সংগীতাঙ্গনে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। ১৭ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে ছেলের জন্য একটি হারমোনিয়াম কিনে এনেছিলেন স্কুলশিক্ষক বাবা মাহবুব আলী খান। বাবার মূল চাওয়া ছিল, সামাজিক বাধা কিংবা সামাজিক সম্মানের হানি সত্ত্বেও ছেলের ভেতরে থাকা খো প্রদত্ত প্রতিভাকে বিকশিত করা। ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি প্রয়াত হন তার এই সুশৃঙ্খল ও হিসাব কষে পদক্ষেপ নেওয়া আদর্শবান বাবা।

পুরোনো গ্রামের বাড়ির অবস্থানটি মসজিদের পাশে হওয়ায় সেখানে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়। ওই এলাকার এক হুজুর প্রতিনিয়ত গান গাওয়ার বিষয়ে আপত্তি ও কমপ্লেইন করতেন। একপর্যায়ে হারমোনিয়াম ভাঙচুর করতে ও মনির খানকে পেটাতে তাদের বাড়িতে লোক আসে। হামলাকারীদের হাত থেকে হারমোনিয়াম বাঁচাতে মনির খান সেটিকে জড়িয়ে ধরে রাখেন। অন্যদিকে ছেলেকে ও হারমোনিয়ামটিকে রক্ষা করতে গিয়ে পিঠে মারাত্মক আঘাত পান তার বাবাও।

নিজ বাড়িতে গান গাওয়ার অপরাধেই মনির খানের নামে অন্তত সাত থেকে আটটি মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছিল। গ্রেপ্তারের ভয়ে সে সময় তাকে ফেরারী হয়ে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। পরবর্তীতে এই অবস্থা থেকে জামিন ও মুক্তি পান এক অভূতপূর্ব উপায়ে। মামলার শুনানির সময় আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারকের সামনে সরাসরি গান পরিবেশন করেছিলেন তিনি। তার কণ্ঠে গান শুনে জজ সাহেব সন্তুষ্ট হয়ে তাকে সমস্ত মামলা থেকে বেকসুর খালাস দেন।

আইনি ও সামাজিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে সংগীত শিক্ষা শুরুর কথা উল্লেখ করে মনির খান জানান, তার জীবনের প্রথম ওস্তাদ ছিলেন রেজা খসরু। পরবর্তীতে গ্রাম ছেড়ে সংগীতের মূল স্রোতে যুক্ত হতে ঢাকায় পা রাখার অনুভূতি তুলে ধরে এই শিল্পী বলেন, বিপুল মানুষের ভিড়ে বিশাল আকাশের নিচে নিজেকে নিঃসঙ্গ মনে হতো তার। ঢাকায় আসার পর বাবার উপস্থিতি ও দিকনির্দেশনার অভাব তিনি প্রবলভাবে অনুভব করেছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

গান গাওয়ায় মামলা ও বাবার সঙ্গে মারধরের অতীত স্মৃতি শোনালেন মনির খান

আপডেট সময় : ০৬:০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

এসএসসি পরীক্ষার পর বাড়িতে গান চর্চা শুরু করতেই জীবনের চরম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মনির খানকে। গান গাওয়ার ‘অপরাধে’ কেবল সামাজিক ও ধর্মীয় বাধাই নয়, গ্রামের মানুষের শারীরিক নির্যাতন ও একাধিক মামলার শিকার হতে হয়েছিল তাকে এবং তার বাবা মাহবুব আলী খানকে। সম্প্রতি মাছরাঙা টেলিভিশনকে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে শৈশব ও কৈশোরের সেই ভয়াল স্মৃতি প্রকাশ করেছেন এই কণ্ঠশিল্পী।

মনির খান জানান, এসএসসি পরীক্ষার পর ফল প্রকাশের জন্য তিন থেকে সাড়ে তিন মাসের মতো দীর্ঘ বিরতি থাকত। ওই সময়ে বয়স অল্প থাকায় মন-মানসিকতা নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন ছিল। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অজান্তেই প্রথম হয়ে যাওয়া মনির খানের সুরের প্রতি টান দেখে তার বাবা তাকে সংগীতাঙ্গনে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। ১৭ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে ছেলের জন্য একটি হারমোনিয়াম কিনে এনেছিলেন স্কুলশিক্ষক বাবা মাহবুব আলী খান। বাবার মূল চাওয়া ছিল, সামাজিক বাধা কিংবা সামাজিক সম্মানের হানি সত্ত্বেও ছেলের ভেতরে থাকা খো প্রদত্ত প্রতিভাকে বিকশিত করা। ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি প্রয়াত হন তার এই সুশৃঙ্খল ও হিসাব কষে পদক্ষেপ নেওয়া আদর্শবান বাবা।

পুরোনো গ্রামের বাড়ির অবস্থানটি মসজিদের পাশে হওয়ায় সেখানে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়। ওই এলাকার এক হুজুর প্রতিনিয়ত গান গাওয়ার বিষয়ে আপত্তি ও কমপ্লেইন করতেন। একপর্যায়ে হারমোনিয়াম ভাঙচুর করতে ও মনির খানকে পেটাতে তাদের বাড়িতে লোক আসে। হামলাকারীদের হাত থেকে হারমোনিয়াম বাঁচাতে মনির খান সেটিকে জড়িয়ে ধরে রাখেন। অন্যদিকে ছেলেকে ও হারমোনিয়ামটিকে রক্ষা করতে গিয়ে পিঠে মারাত্মক আঘাত পান তার বাবাও।

নিজ বাড়িতে গান গাওয়ার অপরাধেই মনির খানের নামে অন্তত সাত থেকে আটটি মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছিল। গ্রেপ্তারের ভয়ে সে সময় তাকে ফেরারী হয়ে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াতে হয়েছে। পরবর্তীতে এই অবস্থা থেকে জামিন ও মুক্তি পান এক অভূতপূর্ব উপায়ে। মামলার শুনানির সময় আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারকের সামনে সরাসরি গান পরিবেশন করেছিলেন তিনি। তার কণ্ঠে গান শুনে জজ সাহেব সন্তুষ্ট হয়ে তাকে সমস্ত মামলা থেকে বেকসুর খালাস দেন।

আইনি ও সামাজিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে সংগীত শিক্ষা শুরুর কথা উল্লেখ করে মনির খান জানান, তার জীবনের প্রথম ওস্তাদ ছিলেন রেজা খসরু। পরবর্তীতে গ্রাম ছেড়ে সংগীতের মূল স্রোতে যুক্ত হতে ঢাকায় পা রাখার অনুভূতি তুলে ধরে এই শিল্পী বলেন, বিপুল মানুষের ভিড়ে বিশাল আকাশের নিচে নিজেকে নিঃসঙ্গ মনে হতো তার। ঢাকায় আসার পর বাবার উপস্থিতি ও দিকনির্দেশনার অভাব তিনি প্রবলভাবে অনুভব করেছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh