সচিবালয়ে নিরাপত্তা ও প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণে সরকারের ৯ সিদ্ধান্ত
- আপডেট সময় : ১০:৫৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ প্রশাসনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রবেশাধিকার সুনির্দিষ্ট করার লক্ষ্যে ৯টি নতুন নির্দেশনাবলী জারি করেছে সরকার। সচিবালয় প্রাঙ্গণে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, দর্শনার্থীদের পাসের সংখ্যা সীমিত করা এবং ভবনভিত্তিক ডিজিটাল নিরাপত্তা কাঠামো প্রবর্তনের মাধ্যমে এই নতুন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে।
সম্প্রতি সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন ও তা আরও জোরদার করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়সমূহের সচিব এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) উপস্থিত ছিলেন। সভার অনুমোদিত কার্যবিবরণী সূত্র থেকে এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নতুন এই নির্দেশনায় দর্শনার্থী প্রবেশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুপুর ১২টার আগে কোনো দর্শনার্থী সচিবালয় প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। পাশাপাশি বিভিন্ন পদের কর্মকর্তাদের জন্য দিনে দর্শনার্থী পাস ইস্যুর সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপ-মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীগণ দৈনিক সর্বোচ্চ ১০টি পাস দিতে পারবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব, সিনিয়র সচিব ও সচিবগণ দিতে পারবেন সর্বোচ্চ ৫টি পাস। এছাড়া অতিরিক্ত সচিবগণ ৩টি এবং যুগ্ম সচিবগণ সর্বোচ্চ ২টি করে দর্শনার্থী পাস ইস্যু করার সুযোগ পাবেন।
সংসদ সদস্যদের (এমপি) সচিবালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম স্পষ্ট করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের সদস্যগণ তাদের ব্যক্তিগত গাড়িতে সচিবালয়ে প্রবেশের সময় কেবল ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) এবং গাড়িচালককে সঙ্গে রাখতে পারবেন; অন-ডিউটি পুলিশ তাদের পরিচয় ও অনুমতিপত্র যাচাই করে প্রবেশের অনুমতি দেবে। অপরদিকে, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বদলির আদেশ কার্যকর হওয়ার ঠিক ৭ দিন পর তার নামে পূর্বে ইস্যু করা স্থায়ী পাসটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
ভবনভিত্তিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনসহ প্রতিটি ভবনে অনুমোদিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয় যাচাইয়ে পৃথক ডিজিটাল একসেস কন্ট্রোল সিস্টেম স্থাপন করা হবে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় দ্রুত এই ব্যবস্থা প্রবর্তনের কাজ পরিচালনা করবে। একই সঙ্গে রাতে সচিবালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে রাতে অবস্থান করতে হলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাছাড়া বিদেশি দর্শনার্থীদের পরিচয়, আগমনের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, সাক্ষাৎপ্রার্থী কর্মকর্তা বা দপ্তরের বিবরণ এবং প্রবেশ-প্রস্থানের সময় সংরক্ষণ করতে পৃথক নিবন্ধনের ব্যবস্থা থাকবে।
যানবাহন ব্যবস্থাপনায় সুশাসন আনতে 'বিশেষ পার্কিং স্টিকার' চালু করছে সরকার, যা ছাড়া কোনো গাড়ি সচিবালয়ে পার্কিং বা অবস্থান করতে পারবে না। অন-ডিউটি পুলিশ সদস্যরা অনবরত সচিবালয়ে গাড়ির প্রবেশ, পার্কিং ও অবস্থান তদারকি করবেন এবং কোনো ব্যত্যয় পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেবেন। এর পাশাপাশি ভেতরে আগত দর্শনার্থীদের গতিবিধিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত নজরদারিতে থাকবে।
৪. ডিজিটাল অ্যাকসেস কন্ট্রোল সিস্টেম: সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনসহ প্রতিটি ভবনে অনুমোদিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টদের প্রবেশাধিকার যাচাই করতে পৃথক ডিজিটাল অ্যাকসেস কন্ট্রোল সিস্টেম স্থাপন করা হবে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় দ্রুত এ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেবে।
৬. বিদেশি দর্শনার্থীদের পৃথক নিবন্ধন: আন্তর্জাতিক ও বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য পৃথক নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করা হবে। এতে তাঁদের নাম-পরিচয়, আগমনের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, সাক্ষাৎকারদাতা কর্মকর্তা বা দপ্তরের বিবরণ এবং প্রবেশ ও প্রস্থানকাল নিবন্ধিত ও সংরক্ষণ করা হবে।



























